টানা তৃতীয়বারের মতো ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন দেশটির মধ্যপন্থী নেতা মেটে ফ্রেডেরিকসেন। সোশ্যাল ডেমোক্র্যেটিক দলের এই নেতা সোমবার ঘোষণা করেছেন যে তিনি একটি মধ্য-বামপন্থী জোট সরকার গঠনের বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছেছেন। এর মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই তিনি টানা তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ক্ষমতায় থাকছেন। ছোট পরিসরে গঠিত এই মন্ত্রিসভার মাধ্যমে মার্চ মাসের নির্বাচনের পর সৃষ্ট কয়েক মাসের রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার অবসান ঘটল।
ওই নির্বাচনে ডেনিশ পার্লামেন্টে ১২টি দল আসন ভাগ করে নেয়। ফ্রেডেরিকসেন সাংবাদিকদের বলেন, দীর্ঘ আলোচনার পর আমি মহামান্য রাজার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছি। তাকে জানিয়েছি যে এখন সরকার গঠন সম্ভব হয়েছে। গত ২৪ মার্চ অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তার নেতৃত্বাধীন মধ্যপন্থী জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারায়। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে জনঅসন্তোষের কারণে ভোটাররা বিদ্রোহী মনোভাব দেখালেও তার সোশ্যাল ডেমোক্র্যেটিক দল ৩৮টি আসন নিয়ে সর্বোচ্চ আসন পায়। আগের নির্বাচনে পার্লামেন্টে তাদের আসন ছিল ৫০টি। দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে আলোচনা ও দরকষাকষি চলে। মধ্যপন্থী সোশ্যাল ডেমোক্র্যেট এবং ডানপন্থী লিবারেল দল উভয়ই সরকার গঠনের চেষ্টা চালায়। শেষ পর্যন্ত ৪৮ বছর বয়সী ফ্রেডেরিকসেনই পার্লামেন্টে প্রয়োজনীয় সমর্থন নিশ্চিত করতে সক্ষম হন।
তিনি বলেন, এই সরকার ডেনমার্কের মানুষের জন্য, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এবং প্রাণীদের জন্যও গঠিত হয়েছে। নির্বাচনী প্রচারণায় প্রাণী কল্যাণ ছিল অন্যতম আলোচিত বিষয়। ফ্রেডেরিকসেন জানান, নতুন সরকারের প্রধান অগ্রাধিকারসমূহ মঙ্গলবার প্রকাশ করা হবে এবং বুধবার মন্ত্রিসভার সদস্যদের নাম ঘোষণা করা হবে। নতুন সরকারের তাৎক্ষণিক করণীয়ের মধ্যে রয়েছে গ্রিনল্যান্ড নিয়ে কূটনৈতিক আলোচনা।
ডনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্ত করার হুমকি দিয়েছেন।এর তীব্র বিরোধিতা করেন মেটে ফ্রেডরিকসেন। পাশাপাশি ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধের কারণে ইউরোপের নিরাপত্তা পরিস্থিতি অবনতির প্রেক্ষাপটে ডেনমার্কের সামরিক সক্ষমতা দ্রুত বাড়ানোর উদ্যোগও তার সরকারের অগ্রাধিকারের তালিকায় রয়েছে। সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক দলের পাশাপাশি নতুন সরকারে থাকবে সোশ্যাল লিবারেল, লেফট গ্রিনস এবং মধ্যপন্থী মডারেটস দল। পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে তারা মূলত বামপন্থী রেড-গ্রিন অ্যালায়েন্সের সমর্থনের ওপর নির্ভর করবে।
যদিও বিভিন্ন বিল ও ভোটাভুটির ক্ষেত্রে অন্যান্য দলের সমর্থনও নেয়া হতে পারে। নতুন এই সরকার ফ্রেডেরিকসেনের রাজনৈতিক অবস্থানে বামমুখী পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। গত চার বছর তিনি সোশ্যাল ডেমোক্রেট, মডারেটস এবং লিবারেলদের নিয়ে গঠিত বাম-ডান বিভাজন অতিক্রম করা এক ব্যতিক্রমী জোট সরকারের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।