কলকাতায় আন্দোলনের অনুমতি না মেলায় বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী ও পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার অভিযোগ, পুলিশ ও কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোকে ব্যবহার করে বিজেপি পরিকল্পিতভাবে তৃণমূলকে ভাঙার চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, গ্রেপ্তারের ভয় দেখিয়ে তার আন্দোলন দমন করা যাবে না। সোমবার এসব কথা বলেছেন তিনি।
মমতা বলেছেন, ২ জুন রানি রাসমণি অ্যাভিনিউয়ে ধর্নার অনুমতি না মিললেও তৃণমূলের প্রতিবাদ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। মাইক বা মঞ্চ না থাকলেও দলের কর্মী-সমর্থকেরা আন্দোলনে অংশ নেবেন। কলকাতায় প্রতিবাদ করতে না দিলে দিল্লিতে গিয়ে আন্দোলন করা হবে বলেও জানান তিনি।
মমতার দাবি, তাকে যদি কোথাও আটকে দেওয়া হয়, সেখানেই বসে তিনি ধর্না শুরু করবেন। এমনকি প্রয়োজনে গ্রেপ্তারও হতে রাজি আছেন বলে জানান।
তার অভিযোগ, এরইমধ্যে তৃণমূলের প্রায় ১০ হাজার কর্মী-সমর্থককে বিভিন্ন অজুহাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গণতান্ত্রিকভাবে প্রতিবাদ করার অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। দেশের অন্য কোনো রাজ্যে এমন পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে না। পশ্চিমবঙ্গকেই বিশেষভাবে নিশানা করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
নির্বাচন নিয়েও একাধিক অভিযোগ তোলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার দাবি, বহু আসনে ভোটে অনিয়ম হয়েছে, ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ায় নানা অসঙ্গতি ছিল এবং ভোটযন্ত্রে কারচুপির ঘটনাও ঘটেছে। তিনি বলেছেন, অতীতেও তিনি এর শিকার হয়েছেন। গণনার সময় এগিয়ে থাকা সত্ত্বেও তাকে গণনাকেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তৃণমূলকে ভাঙতে অর্থের প্রলোভন এবং কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা ইডি ও সিবিআইয়ের ভয় দেখানো হচ্ছে বলেও দাবি করেন মমতা। এমনকি দলের নেতাদের পরিবারের সদস্যদেরও চাপের মুখে ফেলা হচ্ছে বলে অভিযোগ তার।
পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তৃণমূল নেত্রী। তার অভিযোগ, কিছু ক্ষেত্রে জনপ্রতিনিধিদের পদত্যাগ করতে চাপ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বিরোধী রাজনৈতিক নেতাদের নিরাপত্তাও প্রত্যাহার করা হয়েছে। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলার আগেই তার নিরাপত্তা কমিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি করেন মমতা।
তিনি জানান, কলকাতা হাইকোর্টে আইনি লড়াই চালিয়ে যাবে তৃণমূল। আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও অনেক ক্ষেত্রে তা কার্যকর করা হচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তবে দলের কিছু নেতা দল ছেড়ে যাওয়ায় তিনি উদ্বিগ্ন নন। বরং তার মতে, ব্যক্তিস্বার্থে দলত্যাগকারীরা চলে গেলে সংগঠনকে নতুনভাবে গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হবে। বর্তমান সংকট কাটিয়ে তৃণমূল আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে বলেও দাবি করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।