ইরানের বিরুদ্ধে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধে শামিল হয়েছিল সংযুক্ত আরব আমিরাতও। দেশটি ইরানে কয়েক ডজন বিমান হামলা চালিয়েছিল বলে শুক্রবার ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়েছে। বিষয়টির সঙ্গে অবগত ব্যক্তিদের বরাত দিয়ে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল বলেছে, যুদ্ধ শুরুর প্রথম দিনগুলো থেকেই আরব আমিরাত ইরানে হামলা চালায়।
এরপর গত ৮ এপ্রিল ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও তেহরানে হামলা চালিয়েছে আমিরাত। প্রতিবেদনটি ইঙ্গিত করছে যে, আবুধাবি শুধু নীরব সমর্থক ছিল না, বরং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের পাশাপাশি কার্যত সংঘাতের তৃতীয় সক্রিয় অংশগ্রহণকারী হিসেবে ভূমিকা পালন করেছে।
ইরানে আরব আমিরাতের হামলাগুলো যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে সমন্বয় করেই চালানো হয়েছিল। ওয়াশিংটন ও তেল আবিব এসব অভিযানে গোয়েন্দা তথ্য ও নজরদারি সহায়তা প্রদান করেছে। আমিরাত পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালির কয়েকটি কৌশলগত ও জ্বালানি-সম্পর্কিত স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। এসবের মধ্যে রয়েছে, কেশম দ্বীপ, আবু মুসা দ্বীপ, বন্দর আব্বাস, লাভান দ্বীপ তেল শোধনাগার, আসালুয়েহ পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্স। প্রতিবেদন অনুযায়ী, আমিরাতের কয়েকটি হামলা সরাসরি ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে হয়েছে।
এর মধ্যে আসালুয়েহ পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সে চালানো হামলা বিশেষভাবে আলোচিত হয়। খবরে বলা হয়েছে, ইসরাইলের সঙ্গে সমন্বয় করে চালানো ওই হামলার ফলে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক উদ্বেগ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। কারণ আসালুয়েহ অঞ্চল ইরানের গ্যাস ও পেট্রোকেমিক্যাল শিল্পের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গেও এর গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে।
সংঘাতের আগে উপসাগরীয় দেশগুলো প্রকাশ্যে জোর দিয়ে বলেছিল, তারা ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের জন্য তাদের ভূখণ্ড বা আকাশসীমা ব্যবহার করতে দেবে না। তবে, প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে যে, যুদ্ধের শুরুতেই আবুধাবি সেই অবস্থান থেকে সরে আসে।