Image description

গ্রীষ্মের দাবদাহে এক ফালি পাকা আমের জুড়ি মেলা ভার। ফলের রাজা আম ভারতীয় খাদ্যসংস্কৃতি ও গ্রীষ্মকালীন ঐতিহ্যের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন ট্রপিক্যাল অঞ্চলে আম চাষ হলেওভারতের উত্তর প্রদেশের লখনৌয়ের কাছে অবস্থিত একটি ছোট শহর আমের কিংবদন্তি বাগান আর শত বছরের ঐতিহ্যের কারণে আলাদাভাবে নজর কেড়েছে। দাফতরিক কোনও স্বীকৃতি না থাকলেওএই মালিয়াবাদ শহরটিকেই বিশ্বজুড়ে ‘আমের রাজধানী’ হিসেবে গণ্য করা হয়।

মালিয়াবাদের এই খ্যাতির পেছনে রয়েছে এর নবাবী আমল থেকে শুরু হওয়া আম চাষের ইতিহাস। এখানকার উর্বর মাটি ও অনুকূল আবহাওয়া উচ্চমানের আম উৎপাদনের জন্য একদম উপযুক্ত। এই অঞ্চলটি মূলত বিশ্বখ্যাত ‘দশহরি’ আমের জন্য বিখ্যাতযা এর তীব্র মিষ্টি স্বাদসুবাস এবং আঁশহীন মসৃণ শাঁসের জন্য পরিচিত। মজার বিষয় হলোএই দশহরি জাতের আসল ‘মাতৃগাছ’ বা আদি গাছটি এখনও এই অঞ্চলে টিকে রয়েছেযার বয়স প্রায় ২০০ বছরেরও বেশি!

শুধু দশহরি নয়মালিয়াবাদ আমপ্রেমীদের জন্য এক স্বর্গরাজ্য। এখানকার অন্যান্য বিখ্যাত জাতগুলোর মধ্যে রয়েছে-পাকার পরও সবুজ থাকা মিষ্টি ও টক-মিষ্টি স্বাদের ল্যাংড়াঅত্যন্ত রসাল ও নরম চোষাআকারে বড় ও কম মিষ্টির সফেদা এবং গাঢ় কমলা রঙের শাঁসযুক্ত হাইব্রিড জাত আম্রপালি। এখানকার উৎপাদিত আম ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে সরবরাহের পাশাপাশি বিশ্বের বহু দেশে রফতানি করা হয়।

মালিয়াবাদে আম কেবল একটি মৌসুমী ফল নয়এটি এই শহরের পরিচয় ও ঐতিহ্যের অংশ। এখানকার বহু কৃষক পরিবার প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে আম চাষের কৌশল টিকিয়ে রেখেছেন এবং স্থানীয় অর্থনীতিও এর ওপর বহুলাংশে নির্ভরশীল। গ্রীষ্মকালে পুরো শহরটি মেতে ওঠে আমের উৎসবে। এই সময়ে বাগান পরিদর্শনের সুযোগজমজমাট আমের বাজারআম পাড়ার ব্যস্ততা এবং দেশ-বিদেশ থেকে আসা ব্যবসায়ীদের আনাগোনায় মুখর হয়ে ওঠে চারপাশ। পাকা আমের সুবাসে ম ম করে পুরো শহরের বাতাস। পাকিস্তানথাইল্যান্ড বা মেক্সিকোর মতো দেশগুলো আম উৎপাদনের জন্য পরিচিত হলেওদীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ও বৈচিত্র্যের কারণে মালিয়াবাদের আমের গৌরব এখনও অনন্য ও অতুলনীয়।

সূত্রএনডিটিভি