সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখন ব্যাপক চর্চিত নাম ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। সোশ্যাল প্ল্যাটফর্ম অনুসারীর সংখ্যায় ভারতের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল ভারতীয় জনতা পার্টিকে (বিজেপি) পেছনে ফেলেছে। বিজেপির ইনস্টাগ্রাম ফলোয়ার ৮.৮ মিলিয়ন হলেও সিজেপির ফলোয়ার সংখ্যা ১৯ মিলিয়ন ছাড়িয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) আইনি দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ধনকুবের ইলন মাস্কের মালিকানাধীন এক্স তাদের প্ল্যাটফর্ম থেকে সিজেপির অ্যাকাউন্ট মুছে দিয়েছে। ওই অ্যাকাউন্টে তাদের ২ লাখের বেশি ফলোয়ার ছিল। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এক্সে নতুন করে একটি অ্যাকাউন্ট খুলে ফেলে সিজেপি।
ককরোচ জনতা পার্টি কী
সোশ্যাল অ্যাকাউন্টের অ্যাবাউট থেকে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন শহরে প্রতিষ্ঠা হওয়া ব্যঙ্গাত্মক ‘রাজনৈতিক দলটির’ প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি হলেও ভারতের একাধিক রাজ্যে এরই মধ্যে সিজেপির রাজ্য স্তরের শাখা ইউনিট গজিয়ে উঠেছে। তবে এর পুরোটাই সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মভিত্তিক।
সিজেপি তাদের ওয়েবসাইটে নিজেদের এমন একটি ‘রাজনৈতিক দল’ হিসেবে পরিচয় দেয়, যারা ‘ব্যবস্থার বাইরে পড়ে যাওয়া মানুষের প্রতিনিধিত্ব করে’। সংগঠনটি নিজেদের ‘অলস ও বেকার মানুষের কণ্ঠস্বর’ বলেও দাবি করে
দলটি মিম ব্যবহার করে তীক্ষ্ণ রাজনৈতিক ব্যঙ্গ ও মন্তব্যের মাধ্যমে অনলাইনে জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। তাদের বিষয়বস্তু বেকারত্ব, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং শিক্ষার মতো যুবকদের উদ্বেগের বিষয়গুলোকে কেন্দ্র করে তৈরি। তারা সেগুলো গ্রাফিক্স, অ্যানিমেশন, ইশতেহার ও সনদ-ধাঁচের দাবির মাধ্যমে উপস্থাপন করে।
নামকরণ যেভাবে
গত ১৬ মে বেকার তরুণদের ‘পরজীবী’ ও ‘তেলাপোকা’র সঙ্গে তুলনা করে বির্তকের মুখে পড়েন ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত। তার ওই মন্তব্যের প্রতিবাদস্বরূপ ব্যঙ্গাত্মক দল ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) প্রতিষ্ঠিত হয়। এর প্রতিষ্ঠাতা ৩০ বছর বয়সী অভিজিৎ দীপক পুনে থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, তিনি বর্তমানে বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ে জনসংযোগ বিষয়ে স্নাতকোত্তর করছেন। দীপক ২০২০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত আম আদমি পার্টির (এএপি) সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং দলটির সোশ্যাল মিডিয়া টিমে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করতেন।
জানা গেছে, সম্প্রতি একজন আইনজীবীর সিনিয়র অ্যাডভোকেট পদবি চেয়ে করা আবেদনের শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত কিছু বেকার তরুণ ও ব্যক্তিদের সম্পর্কে কড়া মন্তব্য করেন। ওই মন্তব্য পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ভাইরাল হয়। যদিও তার দাবি, বক্তব্যটি ‘খণ্ডিত ও বিকৃতভাবে উপস্থাপন’ করা হচ্ছে।
শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর যৌথ বেঞ্চ আবেদনকারীর বিরুদ্ধে সিনিয়র অ্যাডভোকেট পদবি নেওয়ার চেষ্টার সমালোচনা করে পর্যবেক্ষণ দেন যে, এ ধরনের স্বীকৃতি আদালত থেকে দেওয়া হয়। এটি এমন কিছু নয় যা ‘তাড়াহুড়া করে’ নিতে হবে।
আবেদনকারীর আচরণ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কার্যকলাপের উল্লেখ করে প্রধান বিচারপতি মন্তব্য করেন, ‘আমাদের সমাজে এমন কিছু পরজীবী আছে, যারা পুরো সিস্টেমটার ওপর আক্রমণ চালাচ্ছে। আর আপনি কি তাদের সঙ্গে হাত মেলাতে চান?’
তিনি আরও বলেন, ‘তেলাপোকার মতো কিছু যুবক আছে, যারা কোনো চাকরি পায় না বা পেশায় কোনো জায়গা পায় না। তাদের মধ্যে কেউ সাংবাদিক হয়, কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, আরটিআই কর্মী ও অন্যান্য কর্মী সেজে সিস্টেমসহ সবাইকে আক্রমণ করতে শুরু করে।’
দুই বিচারপতির যৌথ বেঞ্চটি কিছু ব্যক্তির আইন ডিগ্রির সত্যতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। আদালত পর্যবেক্ষণ করেছে যে, আইন পেশায় জাল যোগ্যতার বিষয়ে গুরুতর সন্দেহ রয়েছে। বেঞ্চটি আরও বলেছে, বার কাউন্সিল অব ইন্ডিয়ার পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনা কম, কারণ তাদের ‘ভোটের প্রয়োজন’।
আবেদনকারী পরে বেঞ্চের সামনে ক্ষমা চেয়ে আবেদনটি প্রত্যাহার করার অনুমতি চান। তার ওই আবেদন পরে মঞ্জুর করেন আদালত।
সূত্র: এনডিটিভি, টাইমস অব ইন্ডিয়া, গার্ডিয়ান