জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে ফিলিস্তিন মনোনয়ন প্রত্যাহার না করলে তাদের ভিসা বাতিলসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের দেখা মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের একটি অভ্যন্তরীণ কূটনৈতিক নথিতে এ তথ্য উঠে এসেছে।
নথিটিতে জেরুজালেমে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের কূটনীতিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তারা যেন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রদূত রিয়াদ মানসুরকে জানিয়ে দেন—জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে তার প্রার্থিতা ‘উত্তেজনা বাড়াচ্ছে’ এবং এটি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গাজা শান্তি পরিকল্পনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তাই এ পদক্ষেপ চালিয়ে গেলে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে পরিণতি আসতে পারে।
নথিতে আরও বলা হয়েছে, ‘স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিতে হবে—ফিলিস্তিনি প্রতিনিধি দল যদি ভাইস প্রেসিডেন্ট পদ থেকে প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করে, তবে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে এর জন্য দায়ী করা হবে।’
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে জাতিসংঘে ফিলিস্তিনি মিশনের সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তাদের ভিসা নিষেধাজ্ঞা কিছুটা শিথিল করেছিল—নথিতে সে বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বলা হয়েছে, পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে সেই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার বিষয়টি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
এ বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র বলেন, জাতিসংঘ সদর দপ্তর চুক্তির অধীনে যুক্তরাষ্ট্র তাদের দায়িত্ব গুরুত্ব সহকারে পালন করে। তবে নির্দিষ্ট কোনো কেস নিয়ে ভিসা সংক্রান্ত তথ্যের গোপনীয়তার কারণে মন্তব্য করা সম্ভব নয়।
ফিলিস্তিনি মিশন জাতিসংঘে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গাজায় চলমান সংঘাত ও যুদ্ধবিরতি ব্যর্থ হওয়ার পর ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনা কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে। হামাসের অস্ত্র সমর্পণে অনীহা এবং ইসরাইলি হামলা অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের প্রেসিডেন্ট পদে প্রার্থিতা থেকে আগেই সরে দাঁড়িয়েছিলেন রিয়াদ মানসুর। তবে ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচিত হলে তিনি সাধারণ পরিষদের অধিবেশন পরিচালনার সুযোগ পেতে পারেন—এ নিয়েই যুক্তরাষ্ট্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে।