Image description

পূর্ব-মধ্য আফ্রিকার দেশ রুয়ান্ডায় ১৯৯৪ সালের গণহত্যার অন্যতম অভিযুক্ত ফেলিসিয়েন কাবুগা কারাগারে মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯৩ বছর।

শনিবার জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বিষয়টি নিশ্চিত করে জানায়, কাবুগার মৃত্যুর পরিস্থিতি তদন্তে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিশ্বের সবচেয়ে বেশি খোঁজ করা পলাতকদের একজন ছিলেন কাবুগা। ১৯৯৪ সালের এপ্রিল থেকে জুনের মধ্যে সংঘটিত রুয়ান্ডার গণহত্যায় অর্থায়ন ও উসকানি দেওয়ার অভিযোগ ছিল তার বিরুদ্ধে। ওই হত্যাযজ্ঞে মাত্র ১০০ দিনে ৮ লাখের বেশি তুতসি ও মধ্যপন্থি হুতুকে হত্যা করা হয়।

রুয়ান্ডার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জুভেনাল হাবিয়ারিমানাকে বহনকারী বিমান রাজধানী কিগালির কাছে ভূপাতিত হওয়ার পর এই গণহত্যা শুরু হয়। হাবিয়ারিমানার ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন কাবুগা।

গণহত্যার পর দুই দশকের বেশি সময় আত্মগোপনে ছিলেন তিনি। একের পর এক ভুয়া পাসপোর্ট ব্যবহার করে বিভিন্ন দেশে পালিয়ে বেড়ান। ২০১৩ সালে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয় এবং মাথার দাম ঘোষণা করা হয় ৫০ লাখ ডলার।

অবশেষে ২০২০ সালে ফ্রান্সে গ্রেপ্তার হন কাবুগা। পরে তাকে হেগে পাঠানো হয়।

২০২২ সালে তার বিচার শুরু হয়। গণহত্যা, গণহত্যায় উসকানি, ষড়যন্ত্র, নিপীড়নসহ একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছিল তার বিরুদ্ধে।

অভিযোগ ছিল, রুয়ান্ডার অন্যতম ধনী ব্যক্তি কাবুগাই সেই বেতারমাধ্যম পরিচালনায় মূল ভূমিকা পালন করেছিলেন, যেখান থেকে তুতসিদের হত্যার আহ্বান জানানো হতো।

তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন তিনি। পরে স্মৃতিভ্রংশ জটিলতার কারণে তাকে বিচারের অযোগ্য ঘোষণা করা হয়। এতে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান গণহত্যা থেকে বেঁচে যাওয়া অনেক মানুষ।

শারীরিক অসুস্থতার কারণেও তাকে রুয়ান্ডায় ফেরত পাঠানো হয়নি। অন্য কোনো দেশ আশ্রয় দিতে রাজি না হওয়ায় হেগের জাতিসংঘ কেন্দ্রেই রাখা হয়েছিল কাবুগাকে।

সূত্র : ডয়চে ভেলে