Image description

ভারতের কটক থেকে ভুবনেশ্বরে উন্নত চিকিৎসার জন্য নেওয়া হচ্ছিলো ২৭ বছর বয়সী প্রকাশ কুমার তান্ডিকে। কিন্তু হাসপাতালের দুয়ারে পৌঁছানোর আগেই মাঝপথে ফুরিয়ে গেলো অ্যাম্বুলেন্সের জ্বালানি। মুমূর্ষু অবস্থায় প্রায় ৩০ মিনিট ঠায় দাঁড়িয়ে থাকতে হলো ব্রিজের ওপর। শেষ পর্যন্ত অন্য একটি অ্যাম্বুলেন্স আসার আগেই অক্সিজেনের অভাবে ধুঁকে ধুঁকে প্রাণ হারালেন ওই যুবক। ওড়িশার কটক-ভুবনেশ্বর সড়কে কাঠাজোড়ি নদীর ব্রিজের ওপর ঘটনাটি ঘটেছে।

মৃত প্রকাশ কুমার তান্ডির বাড়ি ওড়িশার কেন্দ্রপাড়া জেলায়। বিষপানের পর তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় কটকের এসসিবি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল থেকে ভুবনেশ্বরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হচ্ছিল। অক্সিজেন সাপোর্টে থাকা প্রকাশের অবস্থা ছিল অত্যন্ত সংকটাপন্ন।

পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, অ্যাম্বুলেন্সটি ব্রিজের ওপর ওঠার পর হঠাৎ জ্বালানি ফুরিয়ে থেমে যায়। সাহায্যের জন্য তারা আপ্রাণ চেষ্টা করলেও বিকল্প একটি অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছাতে প্রায় ৩০ মিনিট সময় লাগে। ততক্ষণে অ্যাম্বুলেন্সের অক্সিজেন সিলিন্ডারটিও খালি হয়ে যায় এবং প্রকাশ মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, চারদিকে চলমান যানবাহনের ভিড়ে ব্রিজের ওপর অ্যাম্বুলেন্সটি অসহায়ভাবে দাঁড়িয়ে আছে এবং স্বজনেরা সাহায্যের জন্য পথচারীদের কাছে আকুতি জানাচ্ছেন।  

ঘটনাটি রাজনৈতিক অঙ্গনেও উত্তাপ ছড়িয়েছে। ওড়িশা প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির নেতা ভক্ত চরণ দাস বিজেপি নেতৃত্বাধীন ওড়িশা সরকারের কড়া সমালোচনা করে বলেন, ‘মাঝপথে অ্যাম্বুলেন্সের জ্বালানি ফুরিয়ে যাওয়া এবং রোগীর মৃত্যু প্রশাসনিক ব্যর্থতার এক ভয়াবহ প্রতিফলন।’ তিনি প্রশ্ন তোলেন, সবকিছু নিয়ন্ত্রণে থাকার দাবির কী হলো? বিরোধী দল বিজু জনতা দলও (বিজেডি) এই ঘটনায় সরকারের অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করেছে।

উল্লেখ্য, গত কয়েকদিন ধরে ভুবনেশ্বর ও কটকের পেট্রোল পাম্পগুলোতে জ্বালানি সংকটের গুজবে দীর্ঘ সারি এবং আতঙ্কিত হয়ে তেল কেনার খবর পাওয়া যাচ্ছিলো। যদিও ওড়িশার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী কৃষ্ণচন্দ্র পাত্র দাবি করেছিলেন যে, রাজ্যে অন্তত ১৩ দিনের জ্বালানি মজুদ আছে এবং আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।

 

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে