সংযুক্ত আরব আমিরাত বা ইউএই ঘোষণা দিয়েছে, হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে নতুন একটি তেল পাইপলাইন আগামী বছরের মধ্যে সম্পন্ন করা হবে। ভবিষ্যতে তেল রপ্তানি ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি মোকাবিলা করার জন্য এ প্রকল্প নেয়া হয়েছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন দ্য গার্ডিয়ান।
ইরান যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল ও সমুদ্রপথে পরিবাহিত গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যেত। গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে চলমান অবরোধ এখন প্রায় ১১ সপ্তাহে গড়িয়েছে। এতে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম বেড়েছে এবং উপসাগরীয় অর্থনীতিগুলো চাপে পড়েছে। আবুধাবির যুবরাজ শেখ খালেদ বিন মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান আমিরাতের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানিকে এই প্রকল্প দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের মধ্যে আমিরাত থেকে ফুজাইরাহ বন্দরে তেল পরিবহন শুরু করবে নতুন পাইপলাইনটি।
নতুন পাইপলাইনটি বর্তমানে চালু থাকা হাবশান-ফুজাইরাহ পাইপলাইনের রপ্তানি সক্ষমতা দ্বিগুণ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমানে ওই পাইপলাইন দিয়ে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ১৮ লাখ ব্যারেল তেল ওমান উপসাগরের ফুজাইরাহ বন্দরে নেয়া যায়।
২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের ওপর হামলা চালানোর পরপরই তেহরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে ট্যাংকার চলাচল বন্ধ করে দেয়। এরপর থেকে তেল রপ্তানি চালিয়ে যেতে আমিরাতের জন্য এই পাইপলাইন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। আরব আমিরাত ও সৌদি আরবই উপসাগরীয় অঞ্চলের একমাত্র তেল উৎপাদক দেশ, যাদের এমন পাইপলাইন রয়েছে যা ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী সংকীর্ণ জলপথের বাইরে দিয়ে অপরিশোধিত তেল রপ্তানি করতে পারে।
দ্বিতীয় পাইপলাইন দ্রুত নির্মাণের সিদ্ধান্ত এসেছে আমিরাতের ওপেক ছাড়ার কয়েক সপ্তাহ পর। ৬০ বছরের সদস্যপদ শেষে জোট ত্যাগের এই সিদ্ধান্তকে সৌদি আরবের সঙ্গে মতবিরোধের স্পষ্ট ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। সৌদি আরবকে ওপেকের প্রকৃত নেতৃত্বদানকারী দেশ ধরা হয়। তেল জোট ছাড়ার ফলে আমিরাত ভবিষ্যতে সংঘাত শেষ হলে এবং হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক বাণিজ্য ফিরলে উৎপাদন কোটা ছাড়িয়ে আরও বেশি তেল উত্তোলনের সুযোগ পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে নতুন পাইপলাইন তৈরি হলে, সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলেও কিংবা ভবিষ্যৎ শান্তি পরিকল্পনায় হরমুজ প্রণালিতে আগের মতো অবাধ ট্যাংকার চলাচল নিশ্চিত না হলেও, আরব আমিরাত তাদের তেল রপ্তানি বাড়ানোর পরিকল্পনা এগিয়ে নিতে পারবে। আমিরাতের ওপেক ত্যাগ আবুধাবি ও রিয়াদের দীর্ঘদিনের টানাপড়েনও স্পষ্ট করেছে। সাধারণত সৌদি আরব উচ্চ তেলের দাম ধরে রাখতে কঠোর উৎপাদন কোটা সমর্থন করে, যাতে তাদের অর্থনৈতিক পরিকল্পনা টিকিয়ে রাখা যায়।
নতুন পাইপলাইনের সুনির্দিষ্ট সক্ষমতা এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তবে বর্তমান সক্ষমতা দ্বিগুণ হয়ে দৈনিক ৩৬ লাখ ব্যারেলে পৌঁছালে আমিরাতের পাইপলাইনভিত্তিক রপ্তানি সৌদি আরবের কাছাকাছি চলে আসবে। সৌদি আরব তাদের পূর্বাঞ্চলের তেলক্ষেত্র থেকে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরে প্রতিদিন প্রায় ৭০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন করতে পারে, যার মধ্যে প্রায় ৫০ লাখ ব্যারেল রপ্তানি করা হয়।