Image description

ফিলিপাইনের সিনেট ভবনে বুধবার (১৩ মে) সন্ধ্যায় এক উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) পরোয়ানাভুক্ত সিনেটর রোনাল্ড দেলা রোসাকে গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালালে এই উত্তেজনার সূত্রপাত হয়। এ সময় ভবনের ভেতরে একের পর এক গুলির শব্দ শোনা যায়।

আল-জাজিরার স্থানীয় প্রতিবেদক জামেলা আলিনদোগান জানিয়েছেন, সশস্ত্র পুলিশ ও মেরিন সদস্যরা সুরক্ষা সরঞ্জাম পরে সিনেট ভবনের সিঁড়ি বেয়ে ওপরে ওঠার কিছুক্ষণ পরই অন্তত ডজনখানেক গুলির শব্দ শোনা যায়। সাংবাদিকেরা এ সময় আতঙ্কে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। তবে গুলি কে ছুড়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ফিলিপাইনের সাবেক প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতের্তের ‘মাদকবিরোধী যুদ্ধ’-এর সময় জাতীয় পুলিশের প্রধান ছিলেন রোনাল্ড দেলা রোসা। তাঁর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ এনেছে আইসিসি। সোমবার প্রকাশিত এক গ্রেপ্তারি পরোয়ানায় বলা হয়—গত নভেম্বরে তাঁর বিরুদ্ধে এই অভিযোগে পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল।

এদিকে বুধবার ফেসবুকে পোস্ট করা এক ভিডিও বার্তায় দেলা রোসা জনগণকে সিনেট ভবনে জড়ো হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘আমি আপনাদের কাছে আবেদন করছি, আমাকে সাহায্য করুন। আরেকজন ফিলিপিনোকে যেন হেগে পাঠানো না হয়।’

আইসিসির হাতে তুলে না দিতে বর্তমান প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়রের প্রতিও আহ্বান জানান দেলা রোসা। তিনি বলেন, ‘আমি দেশের জন্য সবকিছু করেছি। নিজের জন্য সম্পদ গড়িনি। সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছি।’ কথা বলতে গিয়ে তাঁর চোখে জলও দেখা যায়।

দেলা রোসা ফিলিপাইনে ‘বাতো’ বা ‘পাথর’ নামেও পরিচিত। গত সোমবার থেকে তিনি সিনেটের নিরাপত্তা হেফাজতে রয়েছেন। নভেম্বরের পর এই প্রথম তিনি প্রকাশ্যে আসেন। তিনি সব সময়ই বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।

দুতের্তের নেতৃত্বাধীন ‘মাদকবিরোধী যুদ্ধ’ ছিল ২০১৬ সালের নির্বাচনে তাঁর প্রধান রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি। সরকারি হিসাবে, ওই অভিযানে ছয় হাজারের বেশি সন্দেহভাজন মাদক ব্যবসায়ী নিহত হন। তবে মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি, নিহতের প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি এবং বহু হত্যাকাণ্ড ছিল বিচারবহির্ভূত।

বর্তমানে ৮১ বছর বয়সী রদ্রিগো দুতের্তে একই অপরাধের অভিযোগে হেগে বিচারের অপেক্ষায় রয়েছেন। তবে দুতের্তের আইনজীবীরা তাঁকে নির্দোষ দাবি করেছেন। তাঁদের মতে, মাদকবিরোধী অভিযানের সময় দুতের্তের কঠোর বক্তব্য ছিল কেবল অপরাধীদের মধ্যে ভয় সৃষ্টির জন্য।