‘পঞ্চম শ্রেণির পাঠ্যবই, একটির দামই ১০৩৫! স্তম্ভিত অভিভাবক বললেন, কিছু বললেই শুনতে হবে হিন্দু খতরে মে’—এটি ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এবিপি আনন্দে প্রকাশিত এক খবরের শিরোনাম। ঘটনাটা বিজেপি-শাসিত কট্টর হিন্দুত্ববাদী মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের উত্তর প্রদেশের রাজধানী লখনউ শহরের।
গত ১ এপ্রিল সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছিল, লখনউ-য় পঞ্চম শ্রেণির সন্তানের পাঠ্যবই কিনতে গিয়ে স্তম্ভিত হয়ে যান এক বাবা। সেখানকার সিটি মন্টেসরি স্কুলে বার্লিংটন সিরিজের ইংরেজি পাঠ্যবই কিনতে বলা হয় সবাইকে।
দোকানে গিয়ে ওই অভিভাবক জানতে পারেন, ওই বইয়ের দামই ১০৩৫ রুপি। পাশে আরও কয়েকজন অভিভাবক দাঁড়িয়েছিলেন। তাদের কাছে দাম জিজ্ঞাস করলেও একই জবাব আসে।
প্রতিবেদনটিতে বলা হয়—‘পঞ্চম শ্রেণির একটি বইয়ের দাম ১০০০ রুপির বেশি হয় কী করে, বুঝতে পারছিলেন না ওই ব্যক্তি। তাকে বলতে শোনা যায়, ‘মূল্যবৃদ্ধি এই জায়গায় এসে পৌঁছেছে! কী বলবেন!’
গত ২৬ মার্চ সমাজমাধ্যম এক্স-এ প্রকাশিত এক ভিডিওতে অন্য এক অভিভাবকও তার অসহায়ত্বের কথা জানান।
ভিডিওটির বরাত দিয়ে সংবাদ প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়—সেই অভিভাবক বলছেন, ‘আর জিজ্ঞেস করবেন না। হিন্দু খতরে মে। কিছু বলতে গেলেই বলবে হিন্দু খতরে মে হ্যায়। আর কোনো কথা নেই।’
‘হিন্দু খতরে মে হ্যায়’—বলতে কী বোঝায়
গতকাল ১০ মে এ নিয়ে অনলাইনে খোঁজ নেওয়ার পর গুগল ওভারভিউ থেকে জানা গেল—‘হিন্দু খতরে মে হ্যায়’ একটি হিন্দি বাক্য। এর অর্থ: হিন্দুরা বিপদে আছে।
আরও জানা যায়, এটি মূলত ভারতে প্রচলিত একটি রাজনৈতিক ও সামাজিক স্লোগান বা বয়ান। এ দিয়ে বোঝানো হয় যে হিন্দু ধর্ম, সংস্কৃতি বা জনসংখ্যা কোনো বিশেষ পরিস্থিতি বা গোষ্ঠী দ্বারা হুমকির মুখে আছে।
ভারতে ক্ষমতাসীন বিজেপিসহ অন্যান্য উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠন প্রায়শই এই স্লোগান ব্যবহার করে থাকে।

অনেকে মনে করেন, এটি একটি রাজনৈতিক চাল বা ভোটারদের মেরুকরণের কৌশল।
‘হিন্দু খতরে মে হ্যায়’ স্লোগানটির মাধ্যমে হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে ভয়ের পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করা হয়।
তাদেরকে বোঝানো হয়, সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়েও তাদের অস্তিত্ব হুমকির মুখে আছে।
আরও জানা যায়—হিন্দু সংস্কৃতি, ঐতিহ্য বা রামনবমীর মতো ধর্মীয় উৎসব উদযাপন নিয়ে বিভিন্ন সময় প্রশ্ন তোলা হলে, এই স্লোগানের মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানানো হয়।
কিছু কিছু ক্ষেত্রে, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে উত্তেজনা বা দাঙ্গা পরিস্থিতিতে এমন স্লোগান দিয়ে হিন্দুদের সংহতি বা আত্মরক্ষার আহ্বান জানানো হয়।
অপর এক এআই ওভারভিউয়ে বলা হয়—অনেক সমাজবিজ্ঞানী, সাংবাদিক ও বিরোধী রাজনৈতিক নেতারা মনে করেন বিজেপিসহ কট্টরপন্থিদের ‘হিন্দু খতরে মে হ্যায়’ দাবি ‘অতিরঞ্জিত’ বা ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’।
তাদের মতে, এটি ধর্মীয় বিভাজনের রাজনীতি ও সমাজে মেরুকরণের কৌশল।
এক কথায় ‘হিন্দু খতরে মে হ্যায়’ হলো ভারতের সংখ্যাগুরু হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অস্তিত্বের ওপর কথিত হুমকির বিপরীতে একটি রাজনৈতিক স্লোগান।
এর মাধ্যমে সাধারণত বোঝানো হয় যে, ভারতে হিন্দুদের সংখ্যা ক্রমশ কমতে থাকা; তাদের সংস্কৃতি, নিরাপত্তা বা ধর্মীয় স্বাধীনতা অন্য কোনো সম্প্রদায়, বিশেষ করে মুসলিমদের কারণে হুমকির মুখে পড়া।
অসাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক দলগুলো ভোটব্যাংক হিসেবে সংখ্যালঘু মুসলিমদের অতিরিক্ত সুবিধা দিচ্ছে এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দুদের উপেক্ষা করছে—এমন অভিযোগও এই স্লোগানের মাধ্যমে আনা হয়।
অনেকেই মনে করেন—এই স্লোগানটি মূলত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বা ভোটের রাজনীতিতে ব্যবহার করা হয়। এর কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই।
সহজ কথায়, এই স্লোগানের মাধ্যমে হিন্দু সম্প্রদায়ের একটি অংশের মধ্যে এই বিশ্বাস তৈরি করার চেষ্টা করা যে, তাদের ধর্ম, সংস্কৃতি ও নিরাপত্তা বিপন্ন এবং এর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ বা ঐক্যবদ্ধ হওয়া প্রয়োজন।
ভারতে মুসলমানের সংখ্যা কত?
১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ উপনিবেশ থেকে স্বাধীনতার ঠিক আগ মুহূর্তে ভারতের মোট জনসংখ্যার ২৪ দশমিক ৩ শতাংশ ছিল মুসলমান। অবিভক্ত ভারতে মুসলমানের সংখ্যা ছিল ৯ কোটি ৪৫ লাখ। হিসাবটি ধরা হয় ১৯৪১ সালের পরিসংখ্যান অনুসারে।
দেশভাগ তথা পাকিস্তান সৃষ্টির পর প্রায় দেড় কোটি মানুষ বাড়িঘর হারান। ১৯৫১ সালের পরিসংখ্যান অনুসারে স্বাধীন ভারতে মুসলমানের সংখ্যা ছিল ৩ কোটি ৫৪ লাখ। অর্থাৎ, মোট জনসংখ্যার ৯ দশমিক ৮ শতাংশ।
ভারতে সর্বশেষ সরকারিভাবে জনগণনা হয় ২০১১ সালে। সেই পরিসংখ্যান অনুসারে, ভারতে মুসলিম জনসংখ্যা ছিল ১৭ কোটি ২২ লাখ।
২০১১ সালের পর কোনো জনগণনা না হওয়ায় বেসরকারি হিসাবে বর্তমানে তথা ২০২৬ সালে ভারতের মুসলমানের সংখ্যা ২০ কোটি ৯৭ লাখ। এটি মোট জনসংখ্যার প্রায় ১৫ শতাংশ।
ওয়াশিংটন ডিসি-ভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান পিউ রিসার্চ সেন্টারের হিসাবে ২০৫০ সালের মধ্যে ভারতের মুসলমানের সংখ্যা হবে ৩১ কোটি ১০ লাখ। দেশটির মোট জনসংখ্যার ১৮ দশমিক ৪ শতাংশ।
প্রতিষ্ঠানটির হিসাবে, ২০১০ সালে ভারতের মুসলিম জনসংখ্যা ১৪ দশমিক ৪ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০৫০ সালে ১৮ দশমিক ৪ শতাংশ হবে। অর্থাৎ, ৪০ বছরে ভারতের মুসলিম জনসংখ্যা বাড়বে ৪ শতাংশ।
তবে সেই প্রবৃদ্ধি নির্ভর করবে নানান ‘যদি’, ‘কিন্তু’ ইত্যাদির ওপর।
ভারতে হিন্দুর সংখ্যা
গবেষণা প্রতিষ্ঠান পিউ-এর হিসাবে ২০৫০ সালে ভারতে হিন্দুর সংখ্যা হবে মোট জনগোষ্ঠীর ৭৬ দশমিক ৭ শতাংশ। প্রতিষ্ঠানটির এক প্রতিবেদনে বলা হয়—২০৫০ সালে ভারতে প্রতি ৪ জনের ৩ জনই হবেন হিন্দু।
২০৫০ সালে ভারতের মোট জনসংখ্যার ৭৬ দশমিক ৭ শতাংশ হিন্দু থাকবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হচ্ছে।
সেই বছর জনসংখ্যার দিক থেকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ৫ মুসলিম দেশের—ভারত, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া নাইজেরিয়া ও বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার তুলনায় ভারতের হিন্দু ধর্মাবলম্বীর সংখ্যা বেশি থাকবে।
তবুও সেই দেশে উগ্র হিন্দুত্ববাদী বিজেপির রাজনীতিক নেতাদের অনেকে প্রতিনিয়ত বলে আসছেন, ‘হিন্দু খতরে মে হ্যায়’ বা ‘হিন্দুরা বিপন্ন’।
অতি সম্প্রতি, ভারতের পশ্চিমবঙ্গে সদ্য সমাপ্ত বিধানসভার আগে নির্বাচনী প্রচারণায় বিজেপি প্রার্থীদের অনেককে বলতে শোনা গিয়েছিল, ‘পশ্চিমবঙ্গে হিন্দুরা ক্রমশ সংখ্যালঘু হয়ে পড়ছে। এমন পরিস্থিতি থেকে রাজ্যকে রক্ষার জন্য বিজেপির পদ্ম প্রতীকে ভোট দিন।’
সমালোচকদের ভাষ্য: ‘বিলুপ্ত’ হয়ে যাওয়ার ভয় দেখিয়ে হিন্দুদের ভোট পাওয়ার চেষ্টা করে উগ্র সাম্প্রদায়িক দল বিজেপি ক্রমশ সফল হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গেও হিন্দুদের ভোট একত্রিত করে প্রথমবারের মতো বিজেপি ক্ষমতায় এসেছে। স্বাধীন ভারতের ৭৯ বছরের ইতিহাসে ধর্মনিরপেক্ষ রাজ্য হিসেবে সুপরিচিত পশ্চিমবঙ্গে এবার ধর্মপন্থি দলের শাসন দেখছে বিশ্ববাসী।
তারা আরও মনে করেন—ভারতে মূলত রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে ‘হিন্দু খতরে মে হ্যায়’ বা ‘হিন্দু ধর্ম ও সংস্কৃতি হুমকির মুখে’ স্লোগানটি ব্যবহার করা হয়। এটি সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক কৌশল। হিন্দু ভোটারদের ঐক্যবদ্ধ করতে ও কোনো নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠী বিশেষ করে মুসলমানদের বিরুদ্ধে ভয় জাগাতে ব্যবহার করা হয়।
বাস্তবতা ও মোদি সরকারের বয়ান
গত ৭ মে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল—ভারতের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে হিন্দু ও মুসলিমদের মধ্যে গভীর বিভাজন তুলে ধরেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনটিতে বলা হয়—নির্বাচনে জনরায় দেখে মনে হচ্ছে, আনুষ্ঠানিকভাবে ভারত ধর্মনিরপেক্ষ দেশ হলেও সেখানে ধর্মীয় বিভাজন বিরাজ করছে। সম্প্রতি ৪ রাজ্যে বিধানসভা ভোটের ফলাফল দেখে এমন ধারণা তৈরি হচ্ছে।
২০১৪ সালে ভারতে ক্ষমতায় বসার পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি চরম হিন্দুত্ববাদী-নীতি গ্রহণ করেন। এমন সুস্পষ্ট বিভাজন-নীতির কারণে প্রায় ৮০ শতাংশ হিন্দুর দেশে বিজেপি রাজনৈতিক সাফল্য পেয়ে যাচ্ছে।
কেননা, ১৪২ কোটি মানুষের দেশটিতে মুসলমানের সংখ্যা ১৪ শতাংশ।
দিল্লিভিত্তিক অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের ভিজিটিং ফেলো ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক রশিদ কিদবাই বার্তা সংস্থাটিকে বলেন, ‘বিজেপির উত্থান মুসলিমদের অসাম্প্রদায়িক দল বিশেষ করে জাতীয় কংগ্রেসকে ভোট দিতে উৎসাহ দিচ্ছে। ফলে ধর্মীয় মেরুকরণ তৈরি হচ্ছে।’
রাজনৈতিক বিশ্লেষক রাধিকা রামাসেশন বলেন, ‘স্থানীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে যে ভবিষ্যতে সংখ্যালঘু মুসলিমরা যদি সবাই মিলে কংগ্রেসকে ভোট দেয়, তাহলে সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দুরা সবাই মিলে আরও বেশি করে বিজেপিকে ভোট দেওয়া শুরু করবে।’
এমন বাস্তবতায় বিজেপি প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী কংগ্রেসকে ‘নতুন মুসলিম লিগ’ আখ্যা দিতে শুরু করেছে।
কংগ্রেসের মুখপাত্র পবন খের রয়টার্সকে বলেন, ‘একুশ শতকে এসে এমন বিষয় নিয়ে কথা বলা বিরক্তিকর।’
তার বক্তব্য—কংগ্রেস দুর্বল ও নির্যাতিত মানুষদের পাশে দাঁড়ায়। ভবিষ্যতেও তারা দল-মত-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার পাশে থাকবে।
২০২১ সালের ২১ সেপ্টেম্বর বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল: গত ৭০ বছরে ভারতের ধর্মীয় জনবিন্যাসে তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি।
এতে আরও বলা হয়, ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ উপনিবেশ থেকে ভারত স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৫১ সালে প্রথম জনশুমারি হয়। এরপর দেশটিতে সর্বশেষ জনশুমারি হয় ২০১১ সালে।
এই সময়ের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার দেশটিতে হিন্দুর সংখ্যা ৩০ কোটি থেকে হয়েছে ৯৬ কোটি। মুসলমানের সংখ্যা সাড়ে ৩ কোটি থেকে হয়েছে ১৭ কোটি। খ্রিষ্টানদের সংখ্যা ৮০ লাখ থেকে হয়েছে ২ কোটি ৮০ লাখ।
২০২৪ সালের ১৮ মে আল জাজিরার এক প্রতিবেদনের শিরোনামে প্রশ্ন রাখা হয়েছিল—সত্যিই কি ভারতে মুসলিম জনসংখ্যার বিস্ফোরণ ঘটছে?
এতে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অর্থনৈতিক উপদেষ্টা কাউন্সিল (ইএসি) মনে করছে যে ১৯৫০ সালের মধ্যে ভারতের মোট জনসংখ্যার ৪৩ শতাংশ হবে মুসলমান।
২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের প্রচারণায় বিজেপির প্রধানমুখ মোদি এই বিষয়টিই সামনে এনেছিলেন।
বিজেপির অন্যান্য নেতারা এই বয়ানকে আরও জোরের সঙ্গে প্রচার করে বলেছে যে ভারতে সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দুদের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়েছে।
সংবাদ প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়—ইএসি এমন পরিসংখ্যানে অ্যাসোসিয়েশন অব রিলিজিয়াস ডেটা আর্কাইভের (এআরডিএ) বৈশ্বিক ধর্ম সংক্রান্ত ফ্রি অনলাইন তথ্য ব্যবহার করেছে।
যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব বাথের ভিজিটিং অধ্যাপক ও অর্থনীতিবিদ সন্তোষ মেহরোত্রা মনে করেন, ‘এ ধরনের তথ্য শাসকদের উদ্দেশ্য পূরণে সরবরাহ করা হয়। এটি কোনো গবেষণার অংশ নয়।’
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের জনতত্ত্ববিদ আশিস গুপ্ত সংবাদমাধ্যমটিকে বলেন, ‘এটি রাজনীতি ও মিথ্যা প্রচারণা। এখানে বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ দেখা যায়নি।’
ভারতীয় বিশ্লেষকদের অনেকের বক্তব্য: নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে বিজেপি হিন্দুত্বের ‘তাস’ খেলছে।
বিজেপি নেতারা ভোটে জেতার জন্য ‘হিন্দু খতরে মে হ্যায়’ বলে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করছেন। প্রায় ৮০ শতাংশ হিন্দুর দেশে তিনি এমন বয়ানের সুফলও পাচ্ছেন। কিন্তু, বৈজ্ঞানিক ও বাস্তবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে এর কোনো ভিত্তি পাওয়া যায় না, বলেও মনে করছেন তারা।