Image description

আল-জাজিরার বিশ্লেষণ

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে শুরু হওয়া সামরিক উত্তেজনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল প্রত্যাশিত সাফল্য অর্জন করতে পারেনি বলে বিশ্লেষণ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে এর বড় অর্থনৈতিক ও কৌশলগত মূল্য দিতে হতে পারে ওয়াশিংটনকে।

বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ধারণা করেছিল দ্রুত তেহরানের ক্ষমতার ভারসাম্যে পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে। তবে বাস্তবে ইরানের রাজনৈতিক ও সামরিক কাঠামো আরও ঐক্যবদ্ধ হয়ে উঠেছে। দেশটির বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এবং ধর্মীয় নেতৃত্ব হামলার পর আরও শক্ত অবস্থান নেয়। পাশাপাশি সাধারণ জনগণের একাংশও বিদেশি হামলার বিরুদ্ধে সরকারের পাশে দাঁড়ায়।

আল-জাজিরার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বড় ভুল ছিল ইরানের দীর্ঘ ইতিহাস, জাতীয়তাবাদী মনোভাব এবং সাংস্কৃতিক শক্তিকে যথাযথভাবে মূল্যায়ন না করা। কয়েক দশকের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ইরান যে নিজস্ব প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা গড়ে তুলেছে, সেটিও ওয়াশিংটনের হিসাবের বাইরে ছিল।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, যুদ্ধের প্রযুক্তিগত ব্যয়ের দিক থেকেও যুক্তরাষ্ট্র চাপে রয়েছে। ইরানের তুলনামূলক কম খরচের ড্রোন ধ্বংস করতে যুক্তরাষ্ট্রকে ব্যয়বহুল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করতে হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে সামরিক বাজেটের ওপর বড় চাপ তৈরি করছে।

বিশ্লেষণে মার্কিন নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়ার সমালোচনাও করা হয়েছে। এতে দাবি করা হয়, যুদ্ধ সংক্রান্ত কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত সীমিত পরিসরে নেয়া হয়েছে এবং জাতীয় নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট অনেক বিশেষজ্ঞের মতামত যথাযথভাবে বিবেচনায় নেয়া হয়নি।

আল-জাজিরা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছে, এই সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে মধ্যপ্রাচ্যের তেল, গ্যাস ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো হুমকির মুখে পড়তে পারে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা বাড়লে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহেও অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।

প্রতিবেদনের শেষদিকে কূটনৈতিক সমাধানের ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলা হয়েছে, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে আন্তর্জাতিক আইন ও আলোচনার পথেই ফিরে যাওয়া উচিত।

শীর্ষনিউজ