Image description

ভারতে ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা ও উগ্র হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীর দৌরাত্ম্য চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। বর্তমানে দেশটির বিভিন্ন প্রান্তে উগ্রবাদী গোষ্ঠী এবং কোথাও কোথাও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে মুসলিমদের ওপর অমানবিক আচরণ ও নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে গরু জবাইয়ের সন্দেহ কিংবা ধর্মীয় স্থাপনার নিকটবর্তী স্থানে ব্যবসা করার অজুহাতে সাধারণ মুসলিমদের ওপর হামলার ঘটনা বেড়েই চলেছে। গত কয়েক দিনে গুজরাট এবং দিল্লিতে ঘটে যাওয়া দুটি পৃথক ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।

গুজরাটের আহমেদাবাদের ভেজালপুর এলাকায় গরু জবাইয়ের অভিযোগে তিন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে স্থানীয় পুলিশ। তবে এই গ্রেপ্তার প্রক্রিয়া নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে পুলিশের অপেশাদার এবং বর্বর ও পাশবিক আচরণের চিত্র ফুটে উঠেছে। ভিডিওতে দেখা যায়, রাস্তার মধ্যে আটক এক মুসলিম ব্যক্তি অত্যন্ত ভীত সন্ত্রস্ত অবস্থায় "ও আল্লাহ, আমাকে বাঁচাও!" বলে চিৎকার করছেন, আর পুলিশ সদস্যরা কোনো কর্ণপাত না করে তার ওপর নির্দয়ভাবে বলপ্রয়োগ করছেন। এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কোনো বিচারিক প্রক্রিয়া ছাড়াই পুলিশ প্রশাসনের এমন মারমুখী আচরণ একতরফা ও মানবাধিকারের লঙ্ঘন।

অন্যদিকে, রাজধানী দিল্লির ঝারোদা এলাকায় উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠন 'জয় গৌ মাতা সেবা ট্রাস্ট'-এর সদস্যরা সরাসরি এক মুসলিম ব্যবসায়ীর ওপর চড়াও হয়েছে। সংগঠনের নেতা দীপক সিং এবং বিকাশ শর্মার নেতৃত্বে একদল লোক ওই এলাকায় একটি মুসলিম মালিকানাধীন মাংসের দোকান বন্ধ করতে বাধ্য করে। তাদের দাবি, কাছেই মন্দির থাকায় সেখানে মাংসের দোকান রাখা যাবে না। ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, কোনো আইনি পরোয়ানা ছাড়াই তারা দলবল নিয়ে এসে দোকানদারকে হুমকি দিচ্ছে এবং ব্যবসা গুটিয়ে নিতে বাধ্য করছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ভারতে বর্তমানে ধর্মীয় বিদ্বেষকে পুঁজি করে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। একদিকে উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলো প্রকাশ্য দিবালোকে মুসলিমদের ব্যবসায়িক ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করছে, অন্যদিকে পুলিশের একটি অংশের বিরুদ্ধে পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগ উঠছে। বিচারহীনতার এই সংস্কৃতি ভারতকে ক্রমশ একটি অস্থির সাম্প্রদায়িক সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে মনে করছেন মানবাধিকার কর্মীরা।

বর্তমানে উল্লিখিত এলাকাগুলোতে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে তীব্র সমালোচনা চলছে।

শীর্ষনিউজ