Image description

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান যুদ্ধের জেরে এবার ইউরোপজুড়ে জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে আগামী শীতে গ্যাস ও বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ বজায় রাখা যাবে কিনা, তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছে ইউরোপের বিভিন্ন জ্বালানি সংস্থা ও বিশ্লেষকরা। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে এর সরাসরি প্রভাব ইউরোপের জ্বালানি বাজারে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। খবর বিবিসির

 

বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে সুইস ফেডেরাল ইলেকট্রিসিটি কমিশন জানায়, ইরানকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে গেলে ইউরোপজুড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে। এর প্রভাব থেকে সুইজারল্যান্ডও বাইরে থাকবে না বলেও সতর্ক করেছে সংস্থাটি।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান সংঘাতের কারণে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। বিশ্বে জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই রুট দিয়ে বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস সরবরাহ হয়ে থাকে।

ফলে সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়ে উঠেছে।

 

বিশ্লেষকদের মতে, ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর এবারই তেলের দাম সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা আগেই সতর্ক করেছিলেন, ইরান যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে ইউরোপ, যা এখনও আমদানি নির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থার ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল, তারা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

 

এদিকে ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি (আইইএ) জানিয়েছে, বিকল্প উৎস থেকে দ্রুত জ্বালানি আমদানি বাড়ানো না গেলে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ইউরোপজুড়ে জ্বালানি সংকট আরও তীব্র আকার নিতে পারে। সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে শিল্প উৎপাদন, বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং দৈনন্দিন জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হতে পারে।