Image description

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির সঙ্গে সম্প্রতি সাক্ষাৎ করার দাবি করেছেন প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তার ভাষ্যমতে, আয়াতুল্লাহর সঙ্গে তার অনুষ্ঠিত হওয়া বৈঠকটি ‘বিনীয় ও অত্যন্ত আন্তরিক’ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে তাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে।

 

বৃহস্পতিবার (৭ মে) এই তথ্য জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা মিজান ও তাসনিম। তবে বৈঠকে কোন কোন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বা আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য জানা যায়নি।

 

প্রেসিডেন্টের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈঠকে অন্য যে কোনো বিষয়ের চেয়ে যা আমাকে বেশি আকৃষ্ট করেছে, তা হলো তার দৃষ্টিভঙ্গির প্রকৃতি এবং তার বিনয়ী ও আন্তরিক আচরণ। এই মনোভাব আলোচনার পরিবেশকে আস্থা, স্থিরতা, সহানুভূতি এবং সরাসরি সংলাপের ওপর ভিত্তি করে একটি আবহে পরিণত করেছিল।

 

পেজেশকিয়ান বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও ইরানি কর্তৃপক্ষ আলোচনার ফলাফল বিস্তারিতভাবে জানিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি জারি করেনি। প্রেসিডেন্ট এই আলাপচারিতাকে শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিনিময় হিসেবে বর্ণনা করে বলেছেন যে, এটি রাষ্ট্রীয় বিষয়ে চলমান সমন্বয়ের প্রতিফলন।

 

 

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত হন তার ছেলে মোজতবা খামেনি। তবে ‘আয়াতুল্লাহ’ নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে তাকে জনসমুক্ষে দেখা যায়নি।

 

পশ্চিমা গণমাধ্যমগুলো খবর ছড়িয়েছিল যে, বাবার সঙ্গে সঙ্গে গুরুতর আহত হয়েছেন মোজতবা খামেনি। অনেক খবরে বলা হয়, তিনি হয়তো গুরুতর আহত হওয়ার পর নিহত হয়েছেন। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এমন দাবি করেছিলেন। সূত্রের বরাতে এসব খবর প্রকাশ করা হয়েছিল।

 

যদিও ইরানের তরফ থেকে এতদিন সর্বোচ্চ নেতার শারীরিক অবস্থা কিংবা ‘নিহতের’ গুঞ্জনের বিষয়ে কোনো বার্তা দেওয়া হয়নি। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধকালীন সময়ে একাধিকবার লিখিত বার্তা দিতে দেখা গেছে মোজতবা খামেনিকে। কিন্তু কোনোবারেই তাকে প্রকাশ্যে আসতে দেখা যায়নি। যার কারণে গুঞ্জন আরও জোরালো রূপ নিতে থাকে।

 

তবে সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করার খবরের ফলে এতদিনের পশ্চিমা গুঞ্জনের অবসান ঘটল। স্পষ্ট হলো যে, মোজতাব খামেনি জীবিত রয়েছে।