পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ পর্ব শেষ হতেই এখন সবার নজর ‘স্ট্রং রুমের’ দিকে। উত্তর কলকাতার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ডিসিআরসি কেন্দ্র তথা স্ট্রং রুম হলো ‘নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়াম’। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার শেষ ধাপ অর্থাৎ ভোট গণনার শেষ দিন পর্যন্ত ব্যালট বক্স ও ইভিএম মেশিনগুলো সুরক্ষিত রাখা হয় এখানেই। স্ট্রং রুমের সুরক্ষায় নেওয়া হয়েছে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
তবে এই স্ট্রং রুমকে কেন্দ্র করে গত কয়েক দিন একটি খবর সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘুরে বেড়াচ্ছিল। দাবি করা হয়েছিল, বৃষ্টির জেরে নাকি জলমগ্ন হয়ে পড়েছে নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়াম। প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে পরিষ্কার জানিয়ে দেওয়া হয়, এই খবরটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। স্ট্রং রুমের ভেতর পানি ঢোকার কোনো ঘটনাই ঘটেনি। সাধারণ মানুষকে এই ধরনের বিভ্রান্তিকর খবরে কান না দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। এ ছাড়া বুধবার ভোট শেষ হওয়ার পর থেকেই নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামে নিরাপত্তার বহর বাড়ানো হয়েছে কয়েকগুণ।
কেন্দ্রীয় বাহিনীর পাহারা : স্ট্রং রুমের একেবারে প্রথম স্তরে মোতায়েন করা হয়েছে সশস্ত্র কেন্দ্রীয় বাহিনী। ২৪ ঘণ্টা শিফটিং ডিউটিতে নজরদারি চালাচ্ছেন জওয়ানরা।
সিসিটিভি নজরদারি : গোটা স্টেডিয়াম চত্বর এবং স্ট্রং রুমের প্রতিটি কোণ এখন কয়েকশো সিসিটিভি ক্যামেরার নজরদারিতে। একটি সূক্ষ্ম নড়াচড়াও এড়াবে না কর্মকর্তাদের চোখ।
ত্রিস্তরীয় বলয় : রাজ্য পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর সমন্বয়ে একটি ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। অনুমতি ছাড়া কাউকেই মূল কেন্দ্রের আশপাশে দেওয়া হচ্ছে না ঘেঁষতে।
ডিজিটাল মনিটরিং : স্ট্রং রুমের বাইরের সিসিটিভি ফুটেজ দেখার জন্য বসানো হয়েছে বড় মনিটর, যেখানে রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরাও পারছেন নজর রাখতে।
নির্বাচন কমিশন স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, নিরাপত্তা নিয়ে কোনো আপস করা হবে না। ভুয়া খবর ছড়িয়ে অশান্তি বা বিভ্রান্তি সৃষ্টি করলে নেওয়া হতে পারে কড়া আইনি ব্যবস্থা। আপাতত নিশ্ছিদ্র পাহারায় বন্দি রয়েছে ব্যালট বক্স ও ইভিএম।
মুখ্য নির্বাচনী কর্মকর্তা মনোজ কুমার আগারওয়াল এক সংবাদ সম্মেলনে বললেন, ‘কয়েকটি জায়গায় ভোট-পরবর্তী সহিংসতা হয়েছে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে দুজনকে। আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পুনঃভোটের বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তদন্ত চলছে। প্রতিবেদন দিল্লিতে গেলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ভোট গণনা কেন্দ্রের নিরাপত্তা নিয়ে অভিযোগ এসেছে। আমি সেখানে যাব নিজে খতিয়ে দেখতে। আমাদের প্রতিনিধিরা খোঁজ নিচ্ছেন। প্রয়োজনে নিরাপত্তা আরও বাড়ানো হবে। এত ভোট পড়েছে— তাতে আমরা সফল কি না, তা বলবেন আপনারা। ৭৭টি অভিযোগের পর আর কোনো নতুন অভিযোগ আসেনি।’