গাজা উপত্যকার নতুন একটি মানচিত্র প্রকাশ করেছে ইসরায়েল। দেশটির সামরিক বাহিনী প্রকাশিত এ মানচিত্রে উপত্যকার আরও বিস্তীর্ণ এলাকা দখলে নেওয়া হয়েছে। প্রায় এক মাস আগে গোপনে এই মানচিত্র প্রকাশ করা হয়েছে।
বুধবার (৩০ এপ্রিল) বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন এই মানচিত্রে হাজার হাজার বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনির অবস্থান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এসব অঞ্চলকে ‘নিষিদ্ধ এলাকা’ ঘোষণা করে কমলা রেখা দিয়ে চিহ্নিত করা হয়েছে। ফলে এই সীমারেখা ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী যেকোনো সময় পরিবর্তন করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
নতুন করে দখল করা এই অঞ্চল গাজার মোট ভূখণ্ডের প্রায় ১১ শতাংশ জুড়ে বিস্তৃত। এটি অক্টোবরের যুদ্ধবিরতির পর ইসরায়েলি সেনারা যে অংশ দখলে রেখেছে, সেই ‘হলুদ রেখা’র বাইরের এলাকায় অবস্থিত। এর ফলে সব মিলিয়ে এই সীমারেখাগুলো গাজার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ এলাকা ঘিরে ফেলেছে।
ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কমলা ও হলুদ রেখার মধ্যবর্তী অঞ্চলকে ‘নিয়ন্ত্রিত এলাকা’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এসব এলাকায় ত্রাণ কার্যক্রম চালাতে হলে সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তাদের দাবি, এই ব্যবস্থা মানবিক সহায়তা কার্যক্রম সহজ করতে নেওয়া হয়েছে এবং সাধারণ নাগরিকদের ওপর এর কোনো প্রভাব নেই।
স্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের মধ্যে এ নিয়ে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, তারা এই অঞ্চলে অবস্থান করায় যেকোনো সময় হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারেন। একই সঙ্গে ইসরায়েল এই এলাকাগুলো দীর্ঘমেয়াদে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইছে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, যুদ্ধবিরতির পর থেকে হলুদ রেখার আশপাশে ইসরায়েলি হামলায় ৮০০-র বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ত্রাণ সংস্থার সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন কর্মীও রয়েছেন। ইসরায়েলি বাহিনী এসব ঘটনায় সম্ভাব্য নিরাপত্তা হুমকির কথা উল্লেখ করে গুলি চালানোর কথা স্বীকার করেছে।
এদিকে গাজার বিভিন্ন এলাকায় অবস্থানরত বাস্তুচ্যুত মানুষেরা অভিযোগ করেছেন, সীমারেখা নিয়ে চরম বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। প্রতিনিয়ত সীমার অবস্থান পরিবর্তন হওয়ায় তারা বুঝতে পারছেন না, কোন এলাকা নিরাপদ আর কোনটি ঝুঁকিপূর্ণ।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন এই মানচিত্র ইঙ্গিত দিচ্ছে যে গাজার অন্তত ৬৪ শতাংশ এলাকা এখন ইসরায়েলের কার্যকর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ফলে প্রায় ২০ লাখ মানুষ খুব সীমিত একটি এলাকায় আটকে পড়েছেন, যেখানে বসবাস ও মানবিক পরিস্থিতি ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।