Image description

শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকে নতুন অস্ত্র ব্যবহারের হুমকি দিয়েছে ইরান। তারা বলেছে, এ অস্ত্রটি শত্রুপক্ষ ভীষণভাবে ভয় পায়। এমনকি সেটি তাদের ‘হার্ট অ্যাটাক’ও ঘটাতে পারে। তবে সেটা কি অস্ত্র সে সম্পর্কে বিস্তারিত বলেনি ইরান।

 

ইরান সম্প্রতি যুদ্ধ বন্ধে একটি প্রস্তাব দেয় ট্রাম্পকে। সেই প্রস্তাবে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের বিরুদ্ধে দেয়া অবরোধ তুলে নেয়, তবে তারা হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেবে। এরপরে তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার কথা বলা হয়। কিন্তু ট্রাম্প তা নাকচ করে দিয়ে হরমুজ প্রণালির কাছে মার্কিন নৌ অবরোধ চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এর জবাবে ইরান ওই হুমকি দিয়েছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন এনডিটিভি।

এতে বলা হয় ইরানের নৌবাহিনীর কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল শাহরাম রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন প্রেস টিভিকে বলেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্র খুব শিগগিরই এমন একটি অস্ত্র দিয়ে শত্রুদের মুখোমুখি করবে, ‘যেটিকে তারা ভীষণভাবে ভয় পায়।’ তিনি আরও বলেন, আর সেটি তাদের একেবারে পাশেই রয়েছে। আশা করি এতে তাদের হার্ট অ্যাটাক হবে না।

অর্থনৈতিক চাপ দিয়ে তেহরানকে আলোচনার টেবিলে বসানোর ট্রাম্পের কৌশল নিয়েও তিনি উপহাস করেন। হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে ইরানের তেল বাণিজ্য বন্ধ করে দিয়ে দ্রুত ফল পাওয়া যাবে- শত্রুরা এমনটা ভেবেছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি। বলেন, এখন সেই ধারণা সামরিক একাডেমিগুলোতে হাস্যরসের বিষয় হয়ে গেছে। তিনি আরও দাবি করেন, ইরানি বাহিনী মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনের বিরুদ্ধে কমপক্ষে সাতটি ক্ষেপণাস্ত্র অভিযান চালিয়েছে। ফলে কিছু সময়ের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ওই রণতরী থেকে বিমান উড্ডয়ন বা আকাশ অভিযান চালাতে পারেনি।

যুদ্ধে এ পর্যন্ত ইরানের ব্যবহৃত অস্ত্র

ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলি বাহিনী যুদ্ধ শুরু করার পর থেকে তারা মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সংবেদনশীল মার্কিন ও ইসরাইলি লক্ষ্যবস্তুতে কমপক্ষে ১০০ দফা সফল প্রতিশোধমূলক হামলা চালিয়েছে। প্রতিশোধের অংশ হিসেবে ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। পরে ইরান আরও বিধিনিষেধ আরোপ করে। ফলে শত্রু ও তাদের মিত্র দেশের জাহাজগুলোকে চলাচলের আগে ইরানি কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে বাধ্য করা হয়। কমান্ডার শাহরামের ভাষায়, আমরা আরব সাগরের দিক থেকে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছি। তারা যদি আর একটু এগিয়ে আসে, আমরা কোনো বিলম্ব ছাড়াই সামরিক পদক্ষেপ নেব। অবরোধের মধ্যেও কিছু জাহাজ ইরানের বন্দর ছেড়ে গন্তব্যে পৌঁছেছে বলে তিনি জানান।

মার্কিন বাহিনীর বিরুদ্ধে ‘অবৈধভাবে ইরানি জাহাজ জব্দ করার’ অভিযোগও তোলেন ইরানি। তিনি এটিকে শুধু ‘দস্যুতা’ নয়, ‘জিম্মি করা’ বলেও অভিহিত করেন। বলেন, তারা নাবিকদের এবং তাদের পরিবারকে জাহাজে জিম্মি করে রেখেছে। মার্কিনরা সোমালি দস্যুদের থেকেও খারাপ। কারণ সোমালিরা দারিদ্র্যের কারণে এমন কাজ করে। আর এরা তার সঙ্গে জিম্মি করাও যোগ করেছে। তিনি আরও বলেন, যুদ্ধে নিহতদের রক্তের শেষ ফোঁটা পর্যন্ত প্রতিশোধ নেয়া হবে। আমরা তাদের এমন আঘাত করব, যাতে তারা অনুতপ্ত হয়।

ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেন ট্রাম্প

অ্যাক্সিওসকে ট্রাম্প বলেন, তিনি ইরানের সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন যেখানে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র অবরোধ তুলে নিলে হরমুজ প্রণালি খুলে দেয়া হবে। আর পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হবে পরে। ট্রাম্প বলেন, অবরোধ বোমাবর্ষণের চেয়েও বেশি কার্যকর। এটি তাদের জন্য আরও খারাপ হবে। তারা পারমাণবিক অস্ত্র রাখতে পারবে না।

আঞ্চলিক দু’জন কর্মকর্তা জানান, ইরানের প্রস্তাবে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা পরে করার কথা বলা হয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল কেন ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধে জড়িয়েছিল- সেই মূল বিরোধগুলো এতে অমীমাংসিতই থেকে যেত। এই প্রস্তাবটি ইরান ও পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের মধ্যে গোপন আলোচনার মাধ্যমে মার্কিন নেতৃত্বের কাছে পৌঁছানো হয় বলে জানা গেছে। আলোচনার সংবেদনশীলতার কারণে তারা নাম প্রকাশ করতে চাননি। ট্রাম্প আগে থেকেই বলে আসছেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখাই এই যুদ্ধে যাওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ।