Image description

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার শান্তি আলোচনা স্থবির হয়ে পড়ায় আজ সোমবার (২৭ এপ্রিল) জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। তবে শেয়ার বাজার স্থিতিশীল ছিল। কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত এবং বিভিন্ন কোম্পানির আয়ের হিসাব প্রকাশের এক ব্যস্ত সপ্তাহ শুরুর ঠিক আগেই এই পরিস্থিতি তৈরি হলো। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।

সপ্তাহান্তে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির ইসলামাবাদ সফর ওয়াশিংটনের সঙ্গে নতুন করে আলোচনার আশা জাগিয়েছিল। কিন্তু শনিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর প্রতিনিধিদের পরিকল্পিত সফর বাতিল করলে সেই আশা ম্লান হয়ে যায়। প্রতিনিধিদের সফর বাতিলের পর ফক্স নিউজকে ট্রাম্প বলেন, ইরান যদি আলোচনা চায় তবে ‘তারা আমাদের কাছে আসতে পারে অথবা আমাদের কল করতে পারে।’

গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি মূলত বন্ধ থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মানদণ্ড হিসেবে পরিচিত ব্রেন্ট ক্রুডের দাম সোমবার প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলারের ওপরে অবস্থান করছে। তেলের প্রধান প্রধান চুক্তিগুলোর মূল্যই প্রায় এক শতাংশ বেড়েছে; যদিও শেষ পর্যন্ত কোনো সমঝোতা হতে পারে—এমন ক্ষীণ আশা তেলের এই মূল্যবৃদ্ধিকে কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রেখেছে।

তেলের উচ্চমূল্য এবং আলোচনায় কোনো অগ্রগতি না থাকা সত্ত্বেও লন্ডন, প্যারিস এবং ফ্রাঙ্কফুর্টের শেয়ার বাজারগুলো চাঙ্গা ছিল। হারগ্রিভস ল্যান্সডাউন-এর ইকুইটি রিসার্চ প্রধান ডেরেন নাথান এ প্রসঙ্গে বলেন, “হয়তো কূটনৈতিক সাফল্যের আশা শুরু থেকেই খুব ক্ষীণ ছিল। বাজার এখন আয়ের হিসাব এবং অর্থনৈতিক ঘটনাবলীতে ঠাসা এক ব্যস্ত সপ্তাহ শুরুর আগে মূলত ‘অপেক্ষা করো এবং দেখো’ অবস্থায় রয়েছে।”

জ্বালানির দাম বেশি থাকায় ধারণা করা হচ্ছে, আগামী বুধবার মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার অপরিবর্তিত রাখবে। পরবর্তীতে ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং ব্যাংক অব ইংল্যান্ড থেকেও একই ধরনের সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

সোমবার এশিয়ার শেয়ার বাজারে মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে। টোকিও এবং সিউলে প্রযুক্তি খাতের শেয়ারের দাম বাড়লেও হংকংয়ের বাজার কিছুটা নিম্নমুখী ছিল। বিনিয়োগকারীরা এ সপ্তাহে মার্কিন প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যালফাবেট, মেটা, মাইক্রোসফট, আমাজন এবং অ্যাপলের আয়ের হিসাবের দিকেও নজর রাখছেন।

অ্যাজে বেল-এর ইনভেস্টমেন্ট ডিরেক্টর রাস মোল্ড বলেন, ‘গত কয়েক সপ্তাহের করপোরেট খবরে বিনিয়োগকারীরা উৎসাহিত হয়েছেন, যার ফলে শেয়ারের দাম বেড়েছে।’ তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে তেলের উচ্চমূল্য মূল্যস্ফীতির জন্য সমস্যা তৈরি করবে, যা শেষ পর্যন্ত অর্থনীতির গতি কমিয়ে দিতে পারে।

এদিকে, তেহরানের শীর্ষ কূটনীতিক আব্বাস আরাঘচি চলতি মাসে পাকিস্তানে আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার জন্য ওয়াশিংটনকে দায়ী করেছেন। এই আলোচনা ছিল যুদ্ধ অবসানে কোনো চুক্তিতে পৌঁছানোর প্রথম এবং একমাত্র আলোচনা। আরাঘচি যুক্তরাষ্ট্রের ‘অতিরিক্ত দাবি’-কে দায়ী করে বলেন, ‘হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ যাতায়াত একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক বিষয়।’

মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস একজন মার্কিন কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে জানে এরকম আরও দুটি সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ইরান যুদ্ধ শেষ করার লক্ষ্যে একটি নতুন প্রস্তাব পাঠিয়েছে। এই প্রস্তাবের মূল লক্ষ্য হলো হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং সেখানে মার্কিন নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়া। এই প্রস্তাবে পরমাণু বিষয়ক আলোচনা পরবর্তী কোনো সময়ের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে।

শীর্ষনিউজ