১৯৮৩ সালে হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ সরকারের সময় শেখ হাসিনাকে একবার গ্রেপ্তার করা হয়। সে সময় তার সঙ্গে আরও গ্রেপ্তার হন মতিয়া চৌধুরী ও সাহারা খাতুন। গ্রেপ্তারের পর তাদের হেয়ার রোডের একটি বাসায় রাখা হয়। ওই বাসার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল তৎকালীন সেনা কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আব্দুল্লাহিল আমান আযমীর ওপর।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ গুমের মামলার জেরায় তিনি এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, আটক থাকা অবস্থায় তাদের দেখভালের দায়িত্ব ছিল তার ওপর। পরে এ বক্তব্য ট্রাইব্যুনালের নথিতে রেকর্ড করা হয়।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এ জেরা করেন আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু। প্যানেলের অপর সদস্য বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ।
জেরায় আযমীর উদ্দেশে দুলু প্রশ্ন করেন, শেখ হাসিনার সঙ্গে আপনার কখনো দেখা হয়েছিল কি না।
জবাবে আযমী বলেন, ১৯৮৩ সালে শেখ হাসিনার সঙ্গে আমার কয়েকবার দেখা হয়েছিল। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সামরিক শাসনামলে হেয়ার রোডের একটি বাড়িতে আমি আমার কোম্পানিসহ থাকতাম। তখন ওই বাড়িতে শেখ হাসিনা, মতিয়া চৌধুরী ও সাহারা খাতুনকে বন্দি করে কয়েকদিন আমার অধীনে রাখা হয়েছিল।
মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মোট আসামি ১৩ জন। এর মধ্যে গ্রেপ্তার রয়েছেন তিনজন। তাদের আজ সকালে ঢাকার সেনানিবাসের সাব-জেল থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
গ্রেপ্তার আসামিরা হলেন- ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভির মাজাহার সিদ্দিকী। তাদের হয়ে আইনি লড়াই করছেন দুলু।
ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে রয়েছেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম, শাইখ মাহদী, মঈনুল করিমসহ অন্যরা।
শীর্ষনিউজ