যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার (ইউএসএফ) নিখোঁজ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টিও মারা গেছেন। শনিবার (২৫ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টের মাধ্যমে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত। তিনি ফেসবুকে লেখেন, 'আমার বোন আর আমাদের সঙ্গে নেই, ইন্না লিল্লাহি ও ইন্না ইলাহি রাজিউন।'
এর আগে গত শুক্রবার তল্লাশি চালিয়ে ২৭ বছর বয়সী বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে হিলসবরো কাউন্টি শেরিফ অফিস। জামিলের রুমমেট হিশাম আবুঘারবিয়াকে আটকের পর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফ্লোরিডার একটি ব্রিজ এলাকা থেকে প্রথমে জামিলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরবর্তী ধাপে বৃষ্টির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়। এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ হেফাজতে থাকা ২৬ বছর বয়সী হিশাম ইউএসএফ-এর সাবেক শিক্ষার্থী ছিলেন।
নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি নোবিপ্রবির অ্যাপ্লাইড কেমিস্ট্রি অ্যান্ড কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং (এসিসিই) বিভাগের ১৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন এবং উচ্চশিক্ষার জন্য ইউএসএফ-এ পিএইচডি করছিলেন। নিহত লিমন ও বৃষ্টি দুইজনই গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন।
এই ট্র্যাজেডি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক জীবনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। জুনিয়র শিক্ষার্থী এলি পাওয়েল তার মানসিক অবস্থা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, 'আমি ফাইনাল পরীক্ষার জন্য পড়ার চেষ্টা করছি, কিন্তু এই খবরটি আমাকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে দিয়েছে। পড়ার টেবিলে মন বসানোই কঠিন হয়ে পড়েছে।'
স্নাতক শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী লুয়ানা কোটশো তার নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, 'আমি এই বিশ্ববিদ্যালয়কে অনেক ভালোবাসি এবং নিজেকে এখানে খুব নিরাপদ মনে করতাম। গ্র্যাজুয়েশনের ঠিক আগে এমন কিছু ঘটবে, তা ভাবিনি।'
লিমন ক্যাম্পাসের উত্তরের 'অ্যাভালন হাইটস' অ্যাপার্টমেন্টে থাকতেন। তার প্রতিবেশী মেগান ম্যাকডোনাল্ড এই অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে বলেন, 'প্রথমে মনে হয়েছিল তারা হয়তো কোথাও চলে গেছেন, কিন্তু পরে যখন ঘটনার গুরুত্ব বুঝলাম, তখন ভাষা হারিয়ে ফেললাম। এটা একজনের মূল্যবান জীবন ছিল।'