Image description

ইরানের পতাকাবাহী ‘তুসকা’ নামের একটি কার্গো জাহাজ জব্দের ঘটনার জেরে যুক্তরাষ্ট্রের একটি যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে তেহরান।

সোমবার (২০ এপ্রিল) দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) ঘনিষ্ঠ আধাসরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে রুশ বার্তা সংস্থা তাস।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর খতম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স-এর এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী চীন থেকে ওমান উপসাগরের দিকে যাওয়া একটি ইরানি জাহাজ আটক করে। তার দাবি, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে মার্কিন বাহিনী জাহাজটিতে গুলি চালায় এবং এর নেভিগেশন ব্যবস্থা অচল করে দেয়।

অন্যদিকে, ওমান উপসাগরে ‘তুসকা’ কার্গো জাহাজে হামলা ও সেটি জব্দ করার কথা নিশ্চিত করেছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় মানববিহীন আকাশযান (ড্রোন) ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের একটি যুদ্ধজাহাজে হামলা চালানো হয়েছে।

খতম আল-আনবিয়া হেডকোয়ার্টার্স-এর মুখপাত্র বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ‘দস্যুতামূলক’ নীতির জবাব দিতে ইরান তাদের প্রতিক্রিয়া অব্যাহত রাখবে।

এই ঘটনার পেছনে সাম্প্রতিক উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির প্রভাব রয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। পারমাণবিক কর্মসূচি ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন নিয়ে বিরোধের জেরে ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালায়। এতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ কয়েকজন শীর্ষ নেতা নিহত হন বলে দাবি করা হয়।

এর প্রতিবাদে ইরান মার্কিন ও ইসরায়েলি বিভিন্ন ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালায়। টানা ৩৯ দিনের সংঘাতের পর পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ৭ এপ্রিল দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেওয়া হয়, যা ৮ এপ্রিল থেকে কার্যকর হয়।

পরে ১১ এপ্রিল পাকিস্তানের ইসলামাবাদে উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনা অনুষ্ঠিত হলেও দীর্ঘমেয়াদি কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো যায়নি। মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পক্ষে ছিলেন পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ।

ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া হামলায় এখন পর্যন্ত দুই হাজারের বেশি মানুষ নিহত এবং ২৬ হাজারের বেশি আহত হয়েছেন।