Image description

জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, ২০২৫ সালে বঙ্গোপসাগর ও আন্দামান সাগরে ডুবে প্রায় ৯০০ রোহিঙ্গা শরণার্থী প্রাণ হারিয়েছে, যা এক বছরের মধ্যে রোহিঙ্গাদের সমুদ্রে ডুবে মৃত্যুর রেকর্ড।

শুক্রবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সংস্থাটির মুখপাত্র বাবর বালুচ। তিনি জানান, গত বছর অন্তত ছয় হাজার ৫০০ রোহিঙ্গা শরণার্থী সমুদ্র পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। এতে প্রতি সাতজনের একজন নিখোঁজ হয়েছেন বা মারা গেছেন।

বাবর বালুচ বলেন, ‘গত এক দশকে কমপক্ষে পাঁচ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থীর সাগরে ডুবে মৃত্যু হয়েছে। এর মাধ্যমে পুরো বঙ্গোপসাগর ও আন্দামান সাগর অঞ্চলটি হাজার হাজার বেপরোয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীর জন্য অচিহ্নিত কবরস্থানে পরিণত হয়েছে।’

২০১৭ সালে মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলীয় রাখাইন প্রদেশে স্থানীয় রোহিঙ্গা বাসিন্দাদের লক্ষ্য করে জাতিগত নিধন অভিযান ও গণহত্যা শুরু হয়। এ পরিস্থিতি থেকে বাঁচতে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেন ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী।

কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরে বিপুলসংখ্যক মানুষের অবস্থান এবং সাম্প্রতিক সময়ে মানবিক সহায়তার পরিমাণ কমে যাওয়ায় রোহিঙ্গা আশ্রয়প্রার্থীদের অবস্থা গুরুতর হয়ে পড়েছে। এছাড়া যথাযথ শিক্ষা ও কাজের অভাবও তাদের ভাগ্যের সন্ধানে বিপজ্জনক পথে সমুদ্র পাড়ি দিতে উদ্বুদ্ধ করছে।

বাবর বালুচ জানান, চলতি বছরের ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত দুই হাজার আটশর বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী মিয়ানমারের রাখাইন ও বাংলাদেশের কক্সবাজার ছেড়ে মালয়েশিয়া বা ইন্দোনেশিয়া যাওয়ার আশায় সাগর পাড়ি দিয়েছে।

তবে পরিস্থিতি শান্ত ও স্বাভাবিক হলে বেশিরভাগ শরণার্থীই মিয়ানমারে তাদের নিজস্ব বাসস্থানে ফিরতে ইচ্ছুক বলে জানান বালুচ। তিনি বলেন, মিয়ানমারে চলমান সংঘাতের অবসান, রোহিঙ্গাদের লক্ষ্য করে গণহত্যা বন্ধ ও তাদের যথাযথ নাগরিকত্ব দেওয়া হলে তারা নিজ দেশে ফিরবেন।

কক্সবাজার ও নোয়াখালীর ভাসানচরে শরণার্থী শিবিরে রোহিঙ্গাদের জন্য ইউএনএইচসিআর চলতি বছর ২০ কোটি ডলার সহায়তার আহ্বান জানিয়েছিল। কিন্তু এর মাত্র ৩২ শতাংশ সংগ্রহ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।