Image description

গাজা যুদ্ধবিরতির পর প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্র ও হামাস সরাসরি বৈঠক করেছে বলে সংগঠনটির দুটি সূত্র জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া ভঙ্গুর চুক্তিকে এগিয়ে নিতে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এ খবর দিয়েছে অনলাইন সিএনএন। সূত্রগুলোর মতে, মঙ্গলবার রাতে কায়রোতে যুক্তরাষ্ট্রের সিনিয়র উপদেষ্টা আরিয়ে লাইটস্টোনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল হামাসের প্রধান আলোচক খলিল আল-হাইয়ার সঙ্গে বৈঠক করেন। কর্মকর্তারা জানান, লাইটস্টোনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন নিকোলাই ম্লাদেনভ। তিনি যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত বোর্ড অব পিসের গাজা বিষয়ক উচ্চ প্রতিনিধি। সিএনএন এ বিষয়ে মন্তব্য চাইলে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র বলেন, চলমান আলোচনার বিষয়ে আমরা মন্তব্য করি না।

 

সূত্রগুলো জানায়, আল-হাইয়া বৈঠকে জোর দিয়ে বলেন, চুক্তির প্রথম ধাপের শর্তগুলো হলো হামলা বন্ধ করা এবং মানবিক সহায়তা প্রবেশের সুযোগ বাড়ানো। এসব শর্ত ইসরাইল পুরোপুরি বাস্তবায়ন না করলে পরবর্তী ধাপে যাওয়া সম্ভব নয়। গত অক্টোবরে হওয়া এই যুদ্ধবিরতি দুই বছরের গাজা যুদ্ধের অবসান ঘটালেও, ভবিষ্যতে গাজার শাসনব্যবস্থা বা নিরাপত্তায় হামাসের ভূমিকা কী হবে, এ গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলোর সমাধান দিতে পারেনি। গাজার যে অংশ ইসরাইল দখল করেনি সেখানে হামাস আবার নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে, আর ইসরাইলি বাহিনীও এলাকাটিতে নিয়মিত হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।

এই বৈঠকের কয়েক দিন আগে লাইটস্টোন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে দেখা করেন। ওই বৈঠকে যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপের শর্ত বাস্তবায়নে ইসরাইলের প্রতিশ্রুতি নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়। একটি সূত্র জানায়, হামাস নিরস্ত্রীকরণে রাজি হলে ইসরাইল শর্তগুলো বাস্তবায়নে সম্মত হয়েছে। হামাস, বোর্ড অব পিসের প্রতিনিধিরা এবং আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারীদের মধ্যে চলমান আলোচনায় যুদ্ধবিরতির পরবর্তী ধাপ নিয়ে সমঝোতার চেষ্টা চলছে। এতে হামাসের নিরস্ত্রীকরণ, গাজায় আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েন এবং ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের বিষয় অন্তর্ভুক্ত।
তবে একাধিক সূত্র জানিয়েছে, এসব আলোচনা বারবার থমকে যাচ্ছে। কারণ ইসরাইল প্রথম ধাপের প্রতিশ্রুতি পূরণের আগেই হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের শর্ত মানতে বলছে। হামাস এবং গাজায় কাজ করা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা অভিযোগ করেছে, ইসরাইল চুক্তি মানছে না- যদিও ইসরাইল এসব অভিযোগ অস্বীকার করে এবং পাল্টা হামাসকেই দোষারোপ করছে।

ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে গাজায় ইসরাইলি হামলায় ৭৬৫ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। হামাসের এক জ্যেষ্ঠ সূত্র জানান, প্রস্তাবটি অসম। এতে পুরো প্রক্রিয়াকে শুধু একটি বিষয়, নিরস্ত্রীকরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ করা হয়েছে, অন্য গুরুত্বপূর্ণ শর্তগুলোকে পিছিয়ে দেয়া হয়েছে। সূত্রটি আরও বলেন, এই প্রস্তাবে অগ্রাধিকারের বড় ধরনের অসামঞ্জস্য রয়েছে। ইসরাইলের নিরাপত্তাকে আগে রাখা হয়েছে, আর ফিলিস্তিনিদের মানবিক, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অধিকারগুলো পরে ঠেলে দেয়া হয়েছে। একই সূত্রের দাবি, ম্লাদেনভ আলোচনায় ইসরাইলের দাবিগুলো তুলে ধরছেন এবং হামাস নিরস্ত্রীকরণে রাজি না হলে যুদ্ধ আবার শুরু হতে পারে- এমন সতর্কবার্তাও দিচ্ছেন। এমনকি তিনি পরোক্ষ হুমকিও দিয়েছেন- প্রস্তাব মেনে নাও, না হলে যুদ্ধের মুখোমুখি হও।