Image description

ইরানের বিভিন্ন অঞ্চলে স্কুল ও শিশুদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল। এসব হামলায় এপ্রিল পর্যন্ত ২২১ শিশু নিহত হয়েছে। এছাড়া ৯৪২টি স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

 

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ও আনাদোলু এজেন্সির বরাতে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

 

২০২৬ সালের এপ্রিল মাস পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় নিহত শিশুর সংখ্যা ২২১ জনে দাঁড়িয়েছে। ইরানের জরুরি সেবা সংস্থার প্রধান জাফর মিয়াদফারের তথ্য মতে, হামলায় আহত শিশুর সংখ্যা দুই হাজার জনের বেশি।

 

এছাড়া গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানজুড়ে চলমান মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৯৪২টি স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে এই বিষয়টি নিশ্চিত করেন ইরান সরকারের মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানি।

 

 

আনাদোলু এজেন্সি জানিয়েছে, ইরানের ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো পুনর্নির্মাণ করতে দুই থেকে তিন মাস সময় লাগবে। হামলার ভয়াবহতা তুলে ধরে মোহাজেরানি জানান, এই সামরিক অভিযানে কেবল স্কুল নয়, বরং বিপুল সংখ্যক বেসামরিক স্থাপনাও ধ্বংস হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে এক লাখ ২৫ হাজার ৬৪০টি বেসামরিক স্থাপনা। এসব স্থাপনার মধ্যে রয়েছে এক লাখ ঘরবাড়ি, ২০ হাজার ৫০০ দোকান এবং ৩৩৯টি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র।

 

ইরান সরকার জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত এসব বেসামরিক স্থাপনা পুনর্নির্মাণে তিন থেকে ২৪ মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। যেসব নাগরিকের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তারা পুনরায় তা নির্মাণের জন্য বিশেষ ‘গৃহঋণ’ সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন।

 

উল্লেখ্য, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানে চালানো মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলায় এ পর্যন্ত তিন হাজারেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। এর জবাবে ইরানও ইসরায়েল, ইরাক, জর্ডান এবং মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে এমন উপসাগরীয় দেশগুলোতে পাল্টা হামলা চালায়। চলতি সপ্তাহের শুরুতে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার আগে পরিস্থিতি চরম উত্তপ্ত ছিল।