Image description

শয়তানের শক্তির বিরুদ্ধে ৪০ দিনের যুদ্ধে ইরানের বিজয় খামেনি চিন্তাধারার ফল বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রেজা আরিফ। বুধবার (৮ এপ্রিল) জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক বিবৃতিতে ইরানের কৌশলগত বিজয়ের জন্য দেশবাসীকে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি এ কথা বলেন। খবর প্রেস টিভির।

ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেন, সত্যের পক্ষের স্থায়ী নিরাপত্তার স্থপতি ও মহান নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শাহাদাতের ৪০ দিন পার হয়েছে। এই অপূরণীয় ক্ষতির মাধ্যমে শাসনের নতুন এক ধারণা সামনে এসেছে, যেখানে নেতার শাহাদাত কৌশলগত পরিকল্পনাকে ভেঙে দেয়নি; বরং দেশের স্থিতিশীলতা ও কাঠামোগত ঐক্য আরো শক্তিশালী করেছে।

রেজা আরিফ জোর দিয়ে বলেন, আজ যে অটল স্থিতিশীল ও বিজয়ী অবস্থা দেখা যাচ্ছে, তা খামেনির চিন্তাধারা প্রতিষ্ঠার ফল, যেখানে ক্ষমতার ভিত্তি কোনো ব্যক্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে জাতির ইচ্ছা ও ঐশ্বরিক কাঠামোর মধ্যে নিহিত।

 

আসন্ন শান্তি আলোচনা প্রসঙ্গে আরিফ বলেন, পাকিস্তান সরকার ও প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফের সম্মানজনক অবস্থানের প্রশংসা করে আমি ঘোষণা করছি যে, যুদ্ধক্ষেত্রের সাফল্যকে কূটনৈতিক পর্যায়ে সুসংহত করার লক্ষ্যে আমরা পূর্ণ কর্তৃত্ব নিয়ে ইসলামাবাদ আলোচনায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করব এবং অবশ্যই যুক্তরাষ্ট্রের প্রতারণামূলক আচরণ সম্পর্কে সতর্ক থাকব।

 

এ সময় তিনি সতর্কতা অবলম্বন এবং সকল প্রতিরক্ষা বাহিনীকে বন্দুকের ট্রিগারে হাত রেখে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেন।

 
 

তিনি আরও বলেন, ইসলামি বিপ্লবের নেতার নির্দেশনায় ইরান আজ আগের চেয়েও বেশি শক্তিশালী এবং এক নতুন বিশ্বব্যবস্থার ঊষালগ্নে মহান বিজয় অর্জনের জন্য প্রস্তুত।

বিবৃতির শেষে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের একটি ক্ষেপণাস্ত্র তেহরানের কেন্দ্রস্থলে আলি খামেনির কার্যালয়ে আঘাত হানে। রোজা অবস্থায় কোরআন তিলাওয়াত করার সময় তিনি নিহত হন। সেদিনই শুরু হয় রমজান যুদ্ধ। টানা ৪০ দিন পর বুধবার এই যুদ্ধের অবসান ঘটে। ইরানের প্রস্তাবিত ১০ দফা প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্র মেনে নেয়। এই ঐতিহাসিক বিজয়-এর দিনটি মিলে যায় ইসলামি বিপ্লবের নেতার শাহাদাতের ৪০তম দিনে।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে অবৈধ ও অযৌক্তিক হামলা শুরু করে। ওই হামলায় ইসলামি বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কমান্ডার নিহত হন। এর জবাবে ইরান অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালায়।

এরপর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, হরমুজ প্রণালি ফের খুলে দেওয়ার শর্তে তিনি ইরানের ওপর বোমা হামলা ও আক্রমণ দুই সপ্তাহের জন্য স্থগিত রাখতে রাজি হয়েছেন। নিজের ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে তিনি একে দ্বিপক্ষীয় যুদ্ধবিরতি হিসেবে বর্ণনা করেন।

ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ৪০ দিনের যুদ্ধে নিজেদের ঐতিহাসিক ও চূড়ান্ত বিজয় ঘোষণা করে। তারা জানায়, ওয়াশিংটন ইরানের প্রস্তাব মেনে নিতে বাধ্য হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি, সব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং অঞ্চল থেকে মার্কিন যুদ্ধবাহিনী প্রত্যাহার।