Image description

ইরানে সামরিক অভিযান চালাতে গিয়ে বিধ্বস্ত হওয়া একটি মার্কিন যুদ্ধবিমানের পাইলটকে নাটকীয় উদ্ধার অভিযানে ফিরিয়ে এনেছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে এই অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে।

দুর্গম এলাকায় লুকিয়ে ছিলেন পাইলট

ইসফাহান প্রদেশের দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলে ভূপাতিত হওয়া এফ-১৫ই যুদ্ধবিমানের পাইলট প্রাণে বেঁচে যান। পরে তিনি নিজের অবস্থান গোপন রেখে পাহাড়ে আশ্রয় নেন। একটি বার্তার মাধ্যমে গোয়েন্দাদের কাছে তিনি জীবিত থাকার সংকেত দিলে তাকে উদ্ধারের অভিযান শুরু হয়।

মরুভূমিতে অস্থায়ী এয়ারফিল্ড

পাইলটকে উদ্ধারের জন্য ইরানের মরুভূমিতে অস্থায়ী এয়ারফিল্ড তৈরি করে মার্কিন বাহিনী। তবে অবতরণের পর অন্তত দুটি বিমান অকেজো হয়ে পড়ে—সম্ভবত বালিতে আটকে যাওয়া বা প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে।

ইরানি সেনার চাপ, শেষ মুহূর্তে উদ্ধার

অভিযানের সময় অস্থায়ী ঘাঁটির অবস্থান টের পেয়ে ইরানি সেনারা এগিয়ে আসছিল। এ অবস্থায় অতিরিক্ত যুদ্ধবিমান ডেকে দ্রুত পাইলটকে সরিয়ে নেওয়া হয়। ইরান ছাড়ার আগে কিছু বিমান ধ্বংস করেও যেতে হয় বলে জানা গেছে।

১১টি বিমান ধ্বংসের দাবি

গোয়েন্দা ও সামরিক বিশ্লেষকদের তথ্য অনুযায়ী, পুরো অভিযানে মোট ১১টি বিমান হারিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এর মধ্যে ১০টি যুক্তরাষ্ট্রের এবং একটি ইসরায়েলের বলে দাবি করা হয়েছে। ধ্বংস হওয়া বিমানের মধ্যে উচ্চমূল্যের বিশেষ অভিযানে ব্যবহৃত এমসি-১৩০জে কমান্ডো-২ বিমানও রয়েছে, যার মূল্য প্রায় ১০ কোটি ডলার।

বহুমাত্রিক উদ্ধার অভিযান

এই উদ্ধার অভিযানে অংশ নেয় বিভিন্ন ধরনের সামরিক যান ও প্রযুক্তি, যার মধ্যে ছিল—

এইচসি-১৩০জে কমব্যাট কিং-২
এইচএইচ-৬০ডব্লিউ রেসকিউ হেলিকপ্টার
ইউএইচ-৬০ ব্ল্যাক হক
এ-১০ অ্যাটাক জেট
এমকিউ-৯ ড্রোন

ইসরায়েলের সহায়তা

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী Benjamin Netanyahu জানিয়েছেন, এই উদ্ধার অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা করেছে ইসরায়েল।

উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা

এই ঘটনার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে ইরানের আকাশে এত বড় পরিসরের সামরিক অভিযান অঞ্চলটির নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে নতুন করে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।

শীর্ষনিউজ