Image description

লিবিয়া উপকূলে শনিবার একটি জরাজীর্ণ কাঠের নৌকা ডুবে অন্তত ৭০ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী নিখোঁজ হয়েছেন। ৩২ জনকে জীবিত এবং দুজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃতদের মধ্যে পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও মিশরের নাগরিক রয়েছেন। ইতালীয় কোস্টগার্ডের প্রাথমিক তথ্যে এ খবর জানা গেছে।

 

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা আইওএম এবং ইউএনএইচসিআরের প্রতিনিধি রোববার জানিয়েছেন, নৌকায় ১০০–১২০ জন আরোহী ছিলেন। নৌকাটি লিবিয়ার তাজৌরা বন্দর থেকে শুক্রবার গভীর রাতে রওনা দিয়েছিল।

 

জীবিতরা জানিয়েছেন, সমুদ্রের আবহাওয়া অত্যন্ত বৈরী ছিল। কয়েক ফুট উঁচু ঢেউয়ের আঘাতে নৌকায় পানি ঢুকে পড়ে এবং লিবিয়ার জলসীমার মধ্যে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নৌকাটি উল্টে যায়।

 

সি-ওয়াচ জানিয়েছে, তাদের পর্যবেক্ষণকারী বিমান উল্টানো নৌকার ওপর অন্তত ১৫ জনকে আটকে থাকতে দেখেছে। ভিডিওতে দেখা গেছে, মানুষগুলো সাহায্যের আশায় হাত বাড়াচ্ছিল, আশপাশে ভাসছিল মৃতদেহ।

 

রবার্তো ডি’অ্যারিগো জানিয়েছেন, লিবিয়ার তদারকিতে একটি ইতালীয় মালবাহী জাহাজ ও একটি লাইবেরীয় বাণিজ্যিক জাহাজ উদ্ধারকাজ শুরু করে। জীবিতদের ল্যাম্পেদুসায় আনা হয়েছে, যা দীর্ঘকাল ধরে ইউরোপে উত্তর আফ্রিকা থেকে আসা অভিবাসনপ্রত্যাশীদের প্রধান প্রবেশদ্বার।

 

ফিলিপ্পো উঙ্গারো এই যাত্রাকে ‘আত্মঘাতী’ আখ্যা দিয়ে বলেন, ‘অভিবাসনপ্রত্যাশীরা এমন জরাজীর্ণ নৌকায় ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার ঝুঁকি নিয়েছে।’

 

আইওএমের ‘মিসিং মাইগ্রেন্টস প্রজেক্ট’-এর তথ্যমতে, ২০১৪ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ৩৩,৪৫০-এরও বেশি মানুষ ভূমধ্যসাগরে প্রাণ হারিয়েছেন।

 

ঘটনার পর মানবাধিকার ও উদ্ধার সংস্থা মেডিটেরানিয়া সেভিং হিউম্যানস ইউরোপীয় দেশগুলোর নীতিকে কঠোর সমালোচনা করেছে। তারা বলেছে, ‘এই নৌকাডুবি দুর্ঘটনা নয়, বরং ইউরোপীয় নীতির ফল।’

 

উল্লেখ্য, চলতি বছরই কেন্দ্রীয় ভূমধ্যসাগরে অন্তত ৭২৫ জন নিখোঁজ হয়েছেন। গত সপ্তাহেও ল্যাম্পেদুসা থেকে ৮০ নটিক্যাল মাইল দূরে একটি ডিঙি নৌকা থেকে ১৯টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল, যার মধ্যে অন্তত ১০ জন ছিলেন সুনামগঞ্জ জেলার নাগরিক।

তথ্যসূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস