Image description

৪৮ ঘণ্টার মধ্যে চুক্তিতে রাজি না হলে ইরান ‘সম্পূর্ণ উড়িয়ে দেওয়ার’ হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। 

স্থানীয় সময় রোববার (৫ এপ্রিল) মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ হুমকি দেন।

ট্রাম্পকে এবিসি নিউজের জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক প্রতিবেদক র‍্যাচেল স্কট প্রশ্ন করেন, চুক্তি করার জন্য ইরানকে দুই থেকে তিন সপ্তাহের যে সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে, তা কি এখনো বজায় আছে? এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প ওই হুমকি দেন।

ট্রাম্প বলেন, ‘এটি কয়েক সপ্তাহ নয়, কয়েক দিন হওয়া উচিত। ইরান তছনছ হয়ে গেছে, একেবারে তছনছ। প্রতিদিন তা আরও খারাপের দিকে যাবে।’

ট্রাম্প বলেন, ‘প্রতিদিন তাদের (ইরানের) আরও বেশি সেতু নির্মাণ করতে হবে, আরও বিদ্যুৎকেন্দ্র বানাতে হবে এবং সবকিছু নতুন নতুন তৈরি করতে হবে। এর আগে কোনো দেশ এভাবে মার খায়নি।’

ইরানের বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু করা এবং এর পরিণাম নিয়ে বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এমন এক পরিস্থিতিতে ট্রাম্প এ হুমকি দেন।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের আগ্রাসন শুরুর কয়েক দিন পর ইরান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করে। তারা জানায়, হামলাকারীদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো জাহাজ এই জলপথ ব্যবহার করতে পারবে না।

হরমুজ প্রণালি দিয়ে সরবরাহ প্রায় বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে প্রতি ব্যারেল জ্বালানি তেলের দাম এরই মধ্যে ১১০ ছাড়িয়ে গেছে। এটা বিশ্বের অন্যান্য দেশের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের ওপরেও চাপ তৈরি করেছে।

হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে গত কয়েক সপ্তাহে ইরানকে বেশ কয়েকবার আলটিমেটাম বা সময় বেঁধে দিয়েছেন ট্রাম্প। অন্যথায় তিনি দেশটির বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলার হুমকি দিয়েছেন।

রোববার এবিসি নিউজকে সাক্ষাৎকার দেওয়ার আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে ইরানের প্রতি সুনির্দিষ্ট এক নতুন সময়সীমা বেঁধে দেন। পোস্টে তিনি লেখেন ‘মঙ্গলবার, পূর্ব উপকূলীয় সময় রাত ৮টা!’ (তেহরানের সময় বুধবার মধ্যরাত)।

একই দিন এর আগে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে ট্রাম্প বলেন, আমার দেওয়া আলটিমেটামের মধ্যে ইরান ‘কিছু না করলে’ তাদের কোনো বিদ্যুৎকেন্দ্র বা সেতু অক্ষত থাকবে না।

ট্রাম্পের এ আলটিমেটাম নিয়ে রাশিয়া ও চীনসহ বিশ্বের অনেক দেশ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

সূত্র: এবিসি নিউজ ও আলজাজিরা