দেশজুড়ে হামের প্রকোপ ক্রমেই বাড়ছে। প্রতিদিনই হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর খবর আসছে, যাদের অধিকাংশই শিশু। ময়মনসিংহ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, টাঙ্গাইল ও কুষ্টিয়ায় গতকাল হামের উপসর্গে আরও চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জে শুক্রবার সকালে একজন শিশুর মৃত্যু ঘটে। একই সময়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১২ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে দেশে হামের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে জরুরি টিকাদান কর্মসূচি শুরু করতে যাচ্ছে সরকার। রবিবার (৪ এপ্রিল) এই কর্মসূচি শুরু হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
সম্প্রতি সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী বলেন, হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় দেশব্যাপী এই জরুরি টিকাদান কর্মসূচি চালু করা হচ্ছে। কর্মসূচি বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের সব ধরনের ছুটি বৃহস্পতিবার থেকে বাতিল করা হয়েছে এবং তারা স্থানীয় কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে দায়িত্ব পালন করবেন।
তিনি আরও জানান, ইতোমধ্যে ২ কোটি ১৯ লাখ ডোজ হামের টিকা সংগ্রহ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ও শুক্রবারের মধ্যে সিরিঞ্জ সংগ্রহ সম্পন্ন করে বেশি আক্রান্ত উপজেলাসহ দেশের সব উপজেলায় টিকা পাঠানো হবে। আগামী দুই দিনের মধ্যে গ্রামাঞ্চলেও টিকা ও সিরিঞ্জ পৌঁছে দেওয়া হবে।
টিকার সরবরাহ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ইউনিসেফের সহায়তায় আগে আনা টিকা দিয়েই এই জরুরি কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে। পাশাপাশি ৬০৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন টিকা কেনার প্রক্রিয়া চলছে। নতুন টিকা হাতে এলে জুন-জুলাই মাসে আবারও বিশেষ কর্মসূচি নেওয়া হবে। সে সময় ৬ মাস থেকে ১০ বছর বয়সী সব শিশুকে টিকা দেওয়া হবে। আগে টিকা নেওয়া শিশুরাও এ কর্মসূচির আওতায় থাকবে।
সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী আরও বলেন, হামের সঙ্গে নিউমোনিয়া যুক্ত হলে মৃত্যুঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। এতে ফুসফুসে শ্লেষ্মা জমে অক্সিজেন সরবরাহ কমে যায়, যা শিশুদের জন্য মারাত্মক হতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের পাশাপাশি আইসিডিডিআর,বি যৌথভাবে কাজ করছে। প্রতিষ্ঠানটি শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসায় ‘বাবল সিপ্যাপ’ প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রস্তাব দিয়েছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ৬ মাস থেকে ৩ বছর বয়সী শিশুরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। হাসপাতালে ভর্তি হামের রোগীদের প্রায় ৩০ শতাংশই নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত। দ্রুত টিকাদান কার্যক্রম শুরু করা গেলে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্টরা।