আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বিষয়ক সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল সতর্ক করে বলেছে, উত্তর আমেরিকার তিনটি দেশে এবার হতে যাওয়া বিশ্বকাপ ‘দমনপীড়নের মঞ্চ’ হয়ে উঠতে পারে। তারা সোমবার ‘হিউম্যানিটি মাস্ট উইন’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সেখানে ফিফা এবং আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোকে সমর্থক, খেলোয়াড় এবং অন্যান্য জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জরুরি পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
ফিফা প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এমন একটি টুর্নামেন্ট আয়োজনের, যেখানে সবাই ‘নিরাপদ, অন্তর্ভুক্ত এবং নিজেদের অধিকার প্রয়োগে স্বাধীন’ অনুভব করবে। তবে অ্যামনেস্টি বলেছে, এই প্রতিশ্রুতি তিনটি আয়োজক দেশের বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে ‘তীব্র বৈপরীত্যপূর্ণ’। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে। সেখানে মোট ১০৪টি ম্যাচের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ আয়োজন করা হচ্ছে। অ্যামনেস্টি যুক্তরাষ্ট্রকে ডনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে একটি ‘মানবাধিকার সংকট’-এর মুখে থাকা দেশ হিসেবে বর্ণনা করেছে। সেখানে ব্যাপক বহিষ্কার, ইচ্ছামতো গ্রেপ্তার এবং ‘আধাসামরিক ধাঁচের’ ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস) অভিযানের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। গত মাসে আইস-এর ভারপ্রাপ্ত পরিচালক বলেন, বিশ্বকাপের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হবে এই সংস্থাটি।
এরই মধ্যে জানুয়ারিতে মিনিয়াপোলিসে আইস এজেন্টদের হাতে দুই মার্কিন নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনায় ব্যাপক ক্ষোভ দেখা দেয়। অ্যামনেস্টি বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের কোনো আয়োজক শহরের পরিকল্পনায়ই উল্লেখ নেই- কীভাবে সমর্থক বা স্থানীয় জনগণকে আইস অভিযানের হাত থেকে সুরক্ষা দেয়া হবে। আইভরিকোস্ট, হাইতি, ইরান ও সেনেগাল- এই চার দেশের সমর্থকরা যুক্তরাষ্ট্রের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়ছেন। এছাড়া বৃটেন এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশের এলজিবিটিকিউ সমর্থক গোষ্ঠীগুলো জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রে ম্যাচ দেখতে যাবে না। বিশেষ করে ট্রান্সজেন্ডার সমর্থকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কারণে।
প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, এই বিশ্বকাপ ফিফা একসময় যাকে ‘মাঝারি ঝুঁকির’ টুর্নামেন্ট হিসেবে বিবেচনা করেছিল, তা থেকে এখন অনেক দূরে সরে গেছে। টুর্নামেন্টের প্রাথমিক প্রতিশ্রুতি ও বর্তমান বাস্তবতার মধ্যে যে ব্যবধান তৈরি হয়েছে, তা কমাতে জরুরি পদক্ষেপ প্রয়োজন। ফিফা এ মাসে জানিয়েছে, ৪৮টি দলের এই টুর্নামেন্ট, যা ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপ হতে যাচ্ছে, তা নির্ধারিত সময়েই হবে এবং সব দল এতে অংশ নেবে। যদিও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
গত ডিসেম্বরে ডনাল্ড ট্রাম্পকে নতুন প্রবর্তিত শান্তি পুরস্কার দেয়ার সিদ্ধান্তের কারণে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়া বৈশ্বিক ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা এই টুর্নামেন্ট থেকে প্রায় ১১ বিলিয়ন ডলার আয় করার প্রত্যাশা করছে। অ্যামনেস্টির অর্থনৈতিক ও সামাজিক ন্যায়বিচার বিভাগের প্রধান স্টিভ ককবার্ন বলেন, ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ থেকে ফিফা যখন রেকর্ড আয় করছে, তখন সমর্থক, স্থানীয় জনগণ, খেলোয়াড়, সাংবাদিক ও শ্রমিকদের তার মূল্য দিতে বাধ্য করা যাবে না। ফুটবল আসলে এই মানুষদেরই- সরকার, স্পনসর বা ফিফার নয়। তাদের অধিকারই টুর্নামেন্টের কেন্দ্রে থাকতে হবে।