মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের পাশে দাঁড়িয়ে যুদ্ধে যোগ দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন উগান্ডার সেনাপ্রধান মুহুজি কাইনেরুগাবা।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ইসরায়েলের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়লে উগান্ডা সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারে।
তিনি লিখেছেন, আমরা চাই মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ এখনই শেষ হোক। বিশ্ব এ সংঘাতে ক্লান্ত।
বিশ্লেষকদের মতে, কাইনেরুগাবার এমন মন্তব্য উগান্ডার পররাষ্ট্রনীতিতে ইসরায়েলমুখী পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করছে।
উগান্ডা ও ইসরায়েলের সম্পর্ক অতীতে টানাপোড়েনপূর্ণ ছিল। বিশেষ করে ইদি আমিনের শাসনামলে ১৯৭৬ সালে ফিলিস্তিনি জঙ্গিদের আশ্রয় দেওয়ার ঘটনায় দুই দেশের সম্পর্ক অবনতি ঘটে।
বর্তমানে দুই দেশের রাজধানীতে কোনো আবাসিক রাষ্ট্রদূত নেই। যদিও উগান্ডা কায়রোয় অ-আবাসিক প্রতিনিধি নিয়োগ দিয়েছে। রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে উগান্ডার দীর্ঘদিনের সম্পর্কও ইসরায়েলের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করেছে।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে ইওয়েরি মুসেভেনি সরকারের পক্ষ থেকে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
এরই ধারাবাহিকতায় গত মাসে কাইনেরুগাবা ঘোষণা দেন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বড় ভাই ইওনাতান নেতানিয়াহুর একটি ভাস্কর্য এনটেব্বে বিমানবন্দরে স্থাপন করা হবে। ১৯৭৬ সালের ৪ জুলাই এনটেব্বে অভিযানে অংশ নেওয়া কমান্ডোদের নেতৃত্ব দিতে গিয়ে নিহত হন ইওনাতান নেতানিয়াহু। ওই অভিযানে বিমানবন্দরে জিম্মি থাকা ১০২ জনকে উদ্ধার করা হয়।
কাইনেরুগাবা বলেন, ইসরায়েলের সঙ্গে আমাদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আরও জোরদার করতে এনটেব্বে বিমানবন্দরে ঠিক যেখানে তিনি নিহত হন, সেখানেই ‘ইওনি’ নেতানিয়াহুর ভাস্কর্য উন্মোচন করা হবে।
সূত্র: দ্য জুইশ ক্রনিকল