Image description

লেবাননভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ইসরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে স্মরণকালের অন্যতম বড় ও নজিরবিহীন হামলার দাবি করেছে। সোমবার (২৩ মার্চ) ভোরে গোষ্ঠীটির নিজস্ব টেলিগ্রাম চ্যানেলে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়, গত রবিবার তারা ইসরায়েলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে মোট ৬৩টি সামরিক অভিযান সম্পন্ন করেছে। তবে সপ্তাহের ব্যবধানে সোমবার সকাল থেকে নতুন কোনো বড় হামলার ঘোষণা দেয়নি গোষ্ঠীটি।

বিবৃতি অনুযায়ী, হিজবুল্লাহর এই নজিরবিহীন হামলায় ড্রোন, রকেট এবং কামানের গোলা ব্যবহার করা হয়েছে। ইসরায়েলের অভ্যন্তরে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা এবং দক্ষিণ লেবাননে অবস্থানরত ইসরায়েলি পদাতিক সেনাদের লক্ষ্য করে এই আক্রমণ চালানো হয়। হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে এই হামলাকে তাদের প্রতিরোধের একটি শক্তিশালী পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

অন্যদিকে, হিজবুল্লাহর ক্রমাগত রকেট হামলা ও হুমকির পাল্টা জবাবে দক্ষিণ লেবাননে স্থল অভিযান শুরু করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। গত ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলের ধারাবাহিক এই সামরিক অভিযানে লেবাননে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ২৯ জনে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া ভয়াবহ এই হামলায় এখন পর্যন্ত আহত হয়েছেন অন্তত ২ হাজার ৭৮৬ জন। সংঘাতের তীব্রতা বৃদ্ধির ফলে পাল্টে যাচ্ছে সীমান্তের যুদ্ধচিত্র।

যুদ্ধের ভয়াবহতায় লেবাননের মানবিক পরিস্থিতি চরম সংকটের মুখে পড়েছে। সংঘাতের কারণে ইতোমধ্যেই ১০ লাখেরও বেশি মানুষ নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। আশ্রয়হীন এই বিপুল সংখ্যক মানুষ বর্তমানে খোলা আকাশের নিচে বা অস্থায়ী শিবিরে অত্যন্ত মানবেতর জীবনযাপন করছেন। প্রয়োজনীয় খাবার ও চিকিৎসার অভাবে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।

বিশ্লেষকদের মতে, দুই পক্ষের এই পাল্টাপাল্টি হামলা ও বিপুল প্রাণহানি পুরো মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে এক চরম অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে। আলজাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক মহল এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত বন্ধের আহ্বান জানালেও মাঠপর্যায়ে উত্তেজনা কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।

সূত্র: আল-জাজিরা