যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেছেন, পৃথিবীতে এই মুহূর্তে যে কাজটি কেউই করতে চাইবে না তা হলো ইরানের সেনাবাহিনীর শীর্ষ পদে থাকা। তার মতে, এগুলো এখন ‘অস্থায়ী চাকরি’।
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) পেন্টাগনে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ এবং সমসাময়িক বিষয় তুলে ধরেছেন হেগসেথ। এ সময় তার সঙ্গে ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন। সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে এ খবর জানা গেছে।
ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং একমুখী ড্রোনহামলা সংঘাত শুরুর পর থেকে ৯০ শতাংশ কমে গেছে বলে দবি করেছেন হেগসেথ। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র অন্তত ১২০টি ইরানি নৌযান ক্ষতিগ্রস্ত বা ডুবিয়ে দিয়েছে, যার ফলে তাদের পৃষ্ঠ-নৌবহর আর কোনো কার্যকর শক্তি নয় এবং তাদের সাবমেরিনগুলো শেষ হয়ে গেছে।
হেগসেথ আরও বলেন, পারমাণবিক আকাঙ্ক্ষা ছাড়তে অস্বীকার করা এই শাসনব্যবস্থা (ইরান) শুধু আঞ্চলিক সমস্যা নয়, যুক্তরাষ্ট্রের জন্য, স্বাধীনতার জন্য এবং সভ্যতার জন্যও সরাসরি হুমকি।
তিনি বলেন, বিশ্ব, মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপের আমাদের অকৃতজ্ঞ মিত্ররা, এমনকি আমাদের নিজস্ব গণমাধ্যমের কিছু অংশেরও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে একটি মাত্র কথা বলা উচিত—‘ধন্যবাদ’।
গাজায় হামাসের সঙ্গে ইরানি শাসন ব্যবস্থার তুলনা করতে গিয়ে হেগসেথ বলেন, ইরান টানেল, রকেট, ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোনে বিপুল অর্থ ঢেলেছে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র তাদেরকে খুঁজে বের করছে পদ্ধতিগতভাবে, নির্মমভাবে এবং প্রবল শক্তি দিয়ে। যেমনটি বিশ্বের অন্য কোনো সামরিক বাহিনী করতে পারে না।
তিনি আরও বলেন, এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ভেতরে সাত হাজারেরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে, এবং বৃহস্পতিবারও গতকালের মতোই সর্ববৃহৎ আঘাত হানার প্রস্তুতি রয়েছে।
পেন্টাগনে ব্রিফিং শেষ করার আগে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে ওয়াশিংটন পোস্টের একটি প্রতিবেদন নিয়ে প্রশ্ন করা হয়, যেখানে বলা হয়েছে পেন্টাগন ইরান যুদ্ধের জন্য অতিরিক্ত অর্থের আবেদন করেছে।
হেগসেথ বলেন, প্রতিবেদনে উল্লেখিত অর্থের পরিমাণ ২০০ বিলিয়ন ডলার (১৫০ বিলিয়ন পাউন্ড)—অবশ্যই তা পরিবর্তিত হতে পারে।
তিনি বলেন, খারাপ লোকদের হত্যা করতে অর্থ লাগে। ভবিষ্যতে যা যা প্রয়োজন হতে পারে, তার জন্য যথাযথ অর্থায়ন নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।