ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল হামলা চালানোর কয়েক দিনের মধ্যেই একটি ‘অন্যরকম’ ঘোষণা দেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। গত ২ মার্চ তিনি হঠাৎ করেই ফ্রান্সের পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার শক্তিশালী করার বার্তা দেন। পাশাপাশি এ বিষয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) আরও কয়েকটি দেশের সঙ্গে আলোচনার কথা জানান। এই নীতিকে ‘ফরওয়ার্ড ডিটারেন্স’ হিসেবে আখ্যা দেন তিনি।
এই বক্তব্যের মাধ্যমে দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্ব পরিস্থিতিতে শক্তি প্রদর্শনের ইঙ্গিত দেন ম্যাক্রোঁ। বর্তমানে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার রয়েছে ফ্রান্সের।
ম্যাক্রোঁ বলেন, ‘আমি চাই ইউরোপীয়রা নিজেদের ভাগ্যের নিয়ন্ত্রণ আবার নিজেদের হাতে নিক।’ এই ঘোষণা ইউরোপের কৌশলগত ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন প্রশ্ন উত্থাপন করেছে।
অনেকে এটিকে ইউরোপীয় নিরাপত্তার জন্য একটি যুগান্তকারী মুহূর্ত হিসেবে বর্ণনা করছেন তবে ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষক গ্রেগয়ের রুসের মতে, এই বক্তব্য মূলত ফ্রান্সের দীর্ঘদিনের পারমাণবিক নীতিরই শক্তিশালী প্রতিফলন।
রুস বলেন, ‘ষাটের দশকে ফ্রান্স পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের পর থেকেই জরুরি স্বার্থের কথা বলে এসেছে। আর এই জরুরি স্বার্থ তাদের জাতীয় সীমানার বাইরেও বিস্তৃত। ফরাসিরা কখনোই পারমাণবিক প্রতিরোধকে কেবল জাতীয় পরিসরে সীমাবদ্ধভাবে ভাবেনি, সবসময়ই এর একটি শক্তিশালী ইউরোপীয় মাত্রা ছিল।’
তিনি যোগ করেন, ‘ম্যাক্রোঁ স্পষ্ট করেছেন যে ফ্রান্সের জন্য এই স্বার্থের পরিধি অনেকের ধারণার চেয়ে অনেক বড়। একই সঙ্গে এই পরিধি নিয়ে কিছুটা অস্পষ্টতা বজায় রাখাও গুরুত্বপূর্ণ।’
অস্পষ্টতা বজায় রাখার অংশ হিসেবে ফ্রান্স তাদের পারমাণবিক ওয়ারহেডের সংখ্যা প্রকাশ করা বন্ধ করবে। বর্তমানে দেশটির প্রায় ২৯০টি ওয়ারহেড রয়েছে।
নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে পরমাণু শক্তিধর প্রতিবেশী যুক্তরাজ্যের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার পরিকল্পনা করছে ফ্রান্স। এছাড়া জার্মানি, পোল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস, বেলজিয়াম, গ্রিস, সুইডেন ও ডেনমার্কের সঙ্গেও সহযোগিতা জোরদার করবে তারা।
ট্রাম্পের শাসনামলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইউরোপের দূরত্ব বাড়ছে। শুরুতে ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখলচেষ্টার মুখে রুখে দাঁড়ানো এবং চলমান ইরান যুদ্ধ থেকে নিজেদের দূরে রাখার মাধ্যমে ইউরোপ সেটা প্রমাণ করেছে। আর ঠিক এমন সময়ই পরমাণু অস্ত্রভাণ্ডার সম্প্রসারণের ঘোষণা দিলেন ম্যাক্রোঁ।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, ‘আমরা এখন ভিন্ন এক কৌশলগত বাস্তবতায় অবস্থান করছি। আগামী অর্ধশতাব্দী হবে পারমাণবিক অস্ত্রের যুগ।’
সূত্র: আল জাজিরা