Sabina Ahmed (সাবিনা আহমেদ)
১) যুদ্ধটি শুরু করেছে আমেরিকা-ইসরায়েল যৌথভাবে। লক্ষ্য ছিল ডিক্যাপিটেশন, অর্থাৎ ইরানের লিডারশিপ ধ্বংস এবং রেজিম চেঞ্জ। সেই লক্ষ্যে আয়াতুল্লাহ খামেনিকে হত্যা করা হয়েছে, কিন্তু ইরান তারপরও অতি দ্রুত ,রিটালিয়েশন বা প্রত্যুত্তর শুরু করেছে। এটি আমেরিকাকে অবাক করেছে, কারণ তারা আশা করছিল যুদ্ধ দ্রুত শেষ হবে। কিন্তু ইরানের প্রতিরোধের কারণে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হচ্ছে এবং আমেরিকার জন্য ব্যয়বহুল হয়ে উঠছে। ইরানের অন্যতম লক্ষ্য যুদ্ধকে এমন ব্যয়বহুল বানানো যাতে আমেরিকা সহজে আর ইরানে আক্রমণ না করে।
২) রিটালিয়েশনের প্রাথমিক পর্যায়ে ইরান দৈনিক শতাধিক মিসাইল ছুড়েছে, কিন্তু প্রথম সপ্তাহের পর এই সংখ্যা কমে এসেছে। আমেরিকা বলছে তারা ইরানের লঞ্চ রেট ৯০% কমিয়ে দিয়েছে, যা হয়তো অংশত সঠিক কিন্তু এটা পুরো আর্সেনাল ধ্বংসের দাবি নয়। ইরান সম্ভবত ইচ্ছাকৃতভাবে প্রথমে বেশি মিসাইল ছুড়ে ইসরায়েল এবং GCC দেশগুলোর ইন্টারসেপ্টর খরচ করে ফেলতে চেয়েছে, যাতে পরবর্তী মিসাইলগুলো কম বাধায় লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারে। এখন আমরা দেখছি ইসরায়েল এবং GCC-এর ইন্টারসেপ্টর সিস্টেম বেশ চাপে রয়েছে। আর ইরান এখন তার আর্সেনালের আধুনিক মিসাইলগুলো ব্যবহার করছে।
৩) রিটালিয়েশনের সাথে সাথে আমেরিকা এবং ইসরায়েল শুরু করেছে তাদের ডিগ্রেডেশন অপারেশন, যাতে তারা ইরানের মিসাইল এবং লঞ্চার ধ্বংস করে ইরানের সক্ষমতা কমাচ্ছে। ইরানের প্রায় প্রতিটি প্রভিন্সে মাটির নিচে মিসাইল সিটি রয়েছে। এসব সিটিতে মাটির কত নিচে ডিপো আছে তা বলা মুশকিল, এবং তাদের আর্সেনালে কত মিসাইল আছে তাও অজানা। তাই ৯০% মিসাইল রেইট কমলেও তার মানে এই নয় যে ইরানের ৯০% মিসাইল ধ্বংস হয়ে গেছে।
৪) যেহেতু গল্ফ দেশগুলো ইরানের রিট্যালিয়েশনের ভয়ে তাদের মাটি থেকে আমেরিকার যুদ্ধবিমান উড়তে দিচ্ছে না, তাই বেশিরভাগ উড়ছে আমেরিকার এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার, ইসরায়েল বা ইউরোপিয়ান ভূমি থেকে। তার মানে এসব যুদ্ধবিমানকে আকাশে উড়ন্ত অবস্থায় খরচ কমানোর জন্য এবং ব্যাক-টু-ব্যাক ইরানে বোমা ফেলার জন্য রিফুয়েলিং করতে হয়, বিশেষ করে ইরাকের আকাশে। ইরাকের শিয়া মিলিশিয়ারা এমন কয়েকটা অত্যন্ত ব্যয়বহুল রিফুয়েলিং বিমানকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। সৌদি আরবে প্রিন্স সুলতান বেসের রিফুয়েলিং প্লেনগুলোকে আক্রমণ করে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ইরানের ড্রোন। এতে আমেরিকার যুদ্ধবিমানের অপারেশন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যদিও ইরানের আকাশে শত্রুপক্ষের যুদ্ধবিমান বিনা বাধায় অপারেশন চালাতে সক্ষম হচ্ছে।
৫) আমেরিকা/ইসরায়েল এই পর্যন্ত প্রায় ৬,০০০ ইরানি টার্গেট হিট করেছে, যদিও এর বেশিরভাগ সেন্ট্রাল এবং ওয়েস্টার্ন ইরানে। ইরানের পূর্ব প্রভিন্সগুলো এখনও আক্রমণের আওতার বাইরে। তার জন্য আমেরিকাকে পাকিস্তান, আফগানিস্তান, আজারবাইজান বা আর্মেনিয়া থেকে উড়ে আসতে হবে, অথবা দূরপাল্লার মিসাইল দিয়ে হিট করতে হবে পারস্য বা ভারত মহাসাগর থেকে। পাকিস্তান-আফগানিস্তান-ভারত তাদের আকাশসীমা বা বেস ব্যবহার করতে দেবে না। ভারতের তেল দরকার, তাই তারাও ইতস্তত করবে। বাকি থাকল আজারবাইজান, যা তুরস্কের চাপে রাজি নাও হতে পারে।
৬) আমেরিকা প্রথমবারের মতো গ্রাউন্ড ট্রুপস পাঠাচ্ছে। তারা ৩১তম মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিটের প্রায় ২৫০০ মেরিন সৈন্য এবং অ্যাম্ফিবিয়াস অ্যাসল্ট জাহাজ ইউএসএস ট্রিপোলি (LHA-7) পাঠাচ্ছে। ইউনিটটি আগামী কয়েক দিনে হরমুজে পৌঁছাবে। এটি ফেব্রুয়ারি ২৮-এ শুরু হওয়া যুদ্ধের পর প্রথম মেজর ট্রুপ মুভমেন্ট। মেরিনরা লজিস্টিকস, এয়ার সাপোর্ট এবং র্যাপিড রেসপন্স ক্যাপাবিলিটি সহ যাচ্ছে। জাহাজে অতিরিক্ত নৌসেনা সদস্যও রয়েছে। তাদের উদ্দেশ্য হরমুজ প্রণালী খুলে রাখা, ইরানের ট্যাঙ্কার অ্যাটাক এবং মাইনিং থেকে হরমুজ প্রণালী রক্ষা করা, এবং বিশ্বের ২০% তেল সাপ্লাই স্বাভাবিক করা। মেরিনরা তেলবাহী ট্যাঙ্কার এসকর্ট এবং প্রণালী রিওপেনিং মিশনে জড়িত হতে পারে। এই মেরিনরা ইরানের অ্যান্টি-শিপ মিসাইল সাইট বা দ্বীপে সীমিত রেইড চালাতে পারে, একই সাথে অন্যান্য দেশের লোকজনকে ইভ্যাকুয়েশনে সাহায্য করবে। তারা কোনও লার্জ-স্কেল ইনভেশন করবে না, বরং ক্রাইসিস রেসপন্স করবে। এই ডেপ্লয়মেন্ট যুদ্ধকে আরও তীব্র করতে পারে, কিন্তু ফোর্স দিয়ে প্রণালী খোলা একটা ঝুঁকিপূর্ণ মিশন। এই মিশন দিয়ে তেলের দাম স্থিতিশীল করতে চাইলেও ইরানের কাউন্টার-অ্যাটাকে যুদ্ধ আরও তীব্রতর হবে।