গত কয়েকদিন ধরে ইহুদিবাদী ইসরাইলে একটা প্রশ্নই সবচেয়ে বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে- বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু আসলে কোথায়? তার শারীরিক অবস্থা বা অবস্থান নিয়ে ধোঁয়াশা কাটানোর বদলে বরং দানা বাঁধছে নতুন নতুন রহস্য। একদিকে দীর্ঘদিনের অনুপস্থিতি, আর অন্যদিকে তার নামে ছাড়া একটি ভিডিও ‘ভুয়া’ বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) দিয়ে তৈরি হওয়ার প্রমাণ মেলায় ইসরাইলের ভেতরেই এখন উত্তেজনা বিরাজ করছে।
তাসনিম নিউজ অ্যাজেন্সির বরাতে জানা গেছে, নেতানিয়াহুর সর্বশেষ যে ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করা হয়েছিল, সেটি আসলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে বানানো। এই তথ্য ফাঁস হওয়ার পর ২৪ ঘণ্টা পার হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত খোদ নেতানিয়াহু কিংবা ইসরাইলি প্রশাসনের কোনো কর্মকর্তা এর কোনো সদুত্তর দেননি।
রহস্যের শুরু যেভাবে
নেতানিয়াহুর ব্যক্তিগত চ্যানেলে ভিডিওটি পোস্ট করার আগে অন্তত তিন দিন তার কোনো হদিস ছিল না। এমনকি সেই ভিডিওটি ঠিক কবে ধারণ করা, সে বিষয়েও কোনো স্পষ্ট তথ্য নেই। গত এক সপ্তাহের মধ্যে নেতানিয়াহুকে কোনো লাইভ সম্প্রচার বা সরাসরি কোনো ভিডিওতে দেখা যায়নি। এই দীর্ঘ নীরবতাই হিব্রু সংবাদমাধ্যম এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় জল্পনা-কল্পনা উসকে দিয়েছে, নেতানিয়াহু কি তবে গুরুতর আহত, নাকি নিহত?
এআই ভিডিও কি আড়াল করার চেষ্টা?
নেতানিয়াহুর এই অস্বাভাবিক অনুপস্থিতিকে স্বাভাবিক দেখানোর জন্য যে ভিডিওটি ছাড়া হয়েছিল, সেটিই এখন বুমেরাং হয়ে দাঁড়িয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়া বিশেষজ্ঞরা দাবি করেছেন, ভিডিওটি এআই দিয়ে তৈরি।
তাসনিন নিউজ অ্যাজেন্সি জানাচ্ছে, এই ভিডিও জালিয়াতির ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর থেকে ইসরাইলের ভেতর ‘টাইমার’ চালু হয়ে গেছে। অর্থাৎ ঘড়ির কাঁটা ধরে সময় গণনা চলছে, কখন নেতানিয়াহু স্বশরীরে সামনে এসে এই গুজবের অবসান ঘটাবেন?
আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক জল্পনা
নেতানিয়াহুকে নিয়ে এই রহস্য এখন আর শুধু হিব্রুভাষী মহলে সীমাবদ্ধ নেই। আরবি ও ইংরেজি সংবাদমাধ্যমগুলোতেও এখন এই প্রশ্ন জোরাল হচ্ছে। কিছু রাশিয়ান মিডিয়া তো এক ধাপ এগিয়ে দাবি করছে, অধিকৃত বেইত শেমেশ এলাকায় ইরানি মিসাইল হামলায় হয়তো নেতানিয়াহু আহত বা নিহত হয়েছেন। ইসরাইলি শাসকগোষ্ঠী হয়তো বড় কোনো বিপদ লুকানোর চেষ্টা করছে বলেই তিনি জনসমক্ষে আসছেন না।
ইসরাইলের সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক মহল- সবাই এখন তাকিয়ে আছে পর্দার আড়ালে আসলে কী ঘটছে তা জানার জন্য। সত্যিই কি তিনি সুস্থ আছেন, নাকি এআই ভিডিওর আড়ালে লুকিয়ে রাখা হচ্ছে বড় কোনো সত্য!