ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের প্রথম দিকে কুয়েতে এক ইরানি ড্রোন হামলায় ছয়জন মার্কিন সৈন্য নিহত হয়েছেন। কয়েকটি সূত্রের বরাতে সিবিএস নিউজ জানায়, মার্কিস প্রশাসন যতটা জানিয়েছে, সেদিনের হামলায় তার চেয়ে অনেক বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সেদিনের হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন কয়েক ডজন সৈন্য। মস্তিষ্কের আঘাত, পোড়া ও উড়ে আসা ধাতুর আঘাতে সৃষ্টি হওয়া ক্ষত নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন তারা। আহতদের মধ্যে অন্তত একজনের হাত বা পা কেটে বাদ দিতে হতে পারে।
সূত্র বলছে, গত ১ মার্চ কুয়েত সিটির বাইরে শুইবা বন্দরের একটি ট্যাকটিক্যাল অপারেশন সেন্টারে হওয়া হামলাটি ছিল ভয়াবহ। হামলার ফলে পুরো ভবনটিতে দ্রুত ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে, যার ফলে ভেতরে থাকা সৈন্যদের উদ্ধার করা কঠিন হয়ে যায়।
এ হামলার চতুর্থ দিনে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন ৩৫ জনের বেশি সৈন্য। তাদের মধ্যে একজন ছিলেন সান অ্যান্টোনিয়োর ব্রুক আর্মি মেডিকেল সেন্টারে, ১২ জন ওয়াশিংটনের ওয়ালটার রিড মেডিকেল সেন্টারে এবং ২৫ জন ছিলেন জার্মানির ল্যান্ডস্টুল রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে।
সূত্র তিনটি সিবিএস নিউজকে জানায়, হামলার চারদিন পর একটি মিলিটারি বিমানে করে প্রায় ২০ জন সৈন্যকে ল্যান্ডস্টুলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে হাসপাতালে তাদের ইমারজেন্সি রোগী হিসেবে রেজিস্টার করা হয়।
প্রথমে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের কর্মকর্তারা কুয়েত হামলায় কতজন আহত হয়েছে তা নির্দিষ্ট করেননি। ১ মার্চ বলা হয়েছিল, পাঁচজন গুরুতর আহত এবং কয়েকজনের হালকা শ্যাপ্রেল ইনজুরি ও কনকাশন হয়েছে। তবে কয়েকদিন পর রয়টার্স আহতদের সংখ্যা ১৫০ জনের কাছাকাছি বলে সংবাদ প্রচার করার পর গত মঙ্গলবার প্রশাসন জানিয়েছে, সেদিন পর্যন্ত ইরান যুদ্ধে ১৪০ মার্কিন সেনা আহত হয়েছে।
যুদ্ধের ১১তম দিন, মঙ্গলবার পেন্টাগন মুখপাত্র শন পারনেল বলেছেন, ‘আহতদের বেশিরভাগেরই আঘাত খুব সামান্য। তাদের মধ্যে ১০৮ জন এরই মধ্যে সুস্থ হয়ে কাজে ফিরে গেছেন। আটজন সৈন্য গুরুতর আহত এবং সর্বোচ্চ স্তরের চিকিৎসা গ্রহণ করছেন।’