শিক্ষার্থীদের সুখ-দুঃখের সাথি হয়ে নির্বাচনি ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষার মাধ্যমে আদর্শ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) তৈরির চেষ্টা করবেন বলে জানিয়েছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক (জিএস) আব্দুল আলিম আরিফ।
বুধবার দিবাগত রাতে আমার দেশকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।
জিএস আরিফ আমার দেশকে বলেন, নির্বাচন নিয়ে মোটাদাগে কোনো অভিযোগ নেই। ক্যাম্পাসের মধ্যে মোটামুটি ভালোভাবেই ভোট সম্পন্ন হয়েছে। তবে ক্যাম্পাসের বাইরে কিছু বিষয়ের কারণে আমরা উদ্বিগ্ন ছিলাম। বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীদের হয়রানি এবং পথচারী ব্যবসায়ীদের জামায়াত-শিবির ফ্রেমিং করে যেই ধরনের ন্যক্কারজনক কাজ হয়েছে, তা নিন্দনীয়।
ভোটগ্রহণ ও গণনা নিয়ে কোনো অভিযোগ আছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ভোটগ্রহণ সুন্দরভাবে হলেও গণনার ক্ষেত্রে প্রশাসনকে আরো সতর্ক হতে হতো। কিছু মিস ম্যানেজমেন্টের কারণে ভোট গণনা বিলম্বিত হয়েছে। প্রথমবারের মতো জকসু নির্বাচন হওয়াতে আমরা বিষয়টিকে স্রেফ প্রস্তুতির অভাব হিসেবেই দেখতে চাই।
শিক্ষার্থীদের দেওয়া প্রতিশ্রুতির বিষয়ে আরিফ বলেন, অবশ্যই আমি আমার দেওয়া প্রতিশ্রুতি রাখব। বিশেষ করে অদম্য জবিয়ান ঐক্য প্যানেল যেই ২১ দফা ইশতেহার দিয়েছিল, সেই আলোকে কাজ করার চেষ্টা করব। সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে চাই একাডেমিক এক্সিলেন্স এবং আবাসন সংকট সমাধানে। পাশাপাশি দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ যেন দ্রুত এগিয়ে নেওয়া যায়, সেই বিষয়ে বিশেষ দৃষ্টি থাকবে আমার।
অন্যান্য প্যানেলের প্রার্থীদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দিন শেষে আমরা সবাই জবিয়ান। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থেই জকসু নির্বাচন হওয়ার প্রয়োজনীয়তা ছিল। এই নির্বাচনে যারা প্রার্থী হিসেবে অংশগ্রহণ করেছেন, তারা সবাই বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে সম্মুখ সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। নির্বাচনে হার-জিত থাকবে। তবে আমরা সবাই মিলেই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে এক এবং অভিন্ন। আমরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য কাজ করে যাব।
এসময় আমার দেশের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন আরিফ। তিনি বলেন, তারা এই নির্বাচন সফল করার জন্য সর্বোচ্চ কাজ করেছেন। উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ তাদের জন্যই সম্ভব হয়েছে। তারা আমাকে বিজয়ী করে যেই দায়িত্ব দিয়েছেন, আমি তাদের প্রতি সেই জন্য কৃতজ্ঞ। একই সাথে তাদের চাওয়া-পাওয়া পূরণে সচেষ্ট থাকব। তাদের সুখ-দুঃখের সাথি হয়ে সামনের দিনগুলোতে একটি আদর্শ ক্যাম্পাস তৈরিতে কাজ করে যাব ইনশাআল্লাহ।