রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগ সরকারের চালু করা নতুন শিক্ষাক্রম বাদ দেয়। এর পরিবর্তে ২০১২ সালের পুরোনো শিক্ষাক্রমে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ২০২৫ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবই পরিমার্জন করা হয়। এরপর নতুন শিক্ষাবর্ষগুলোর বইয়ে বিভিন্ন বিষয়বস্তু ও উপস্থাপনায় পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেই অনুযায়ী আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের বইয়ে ইতিহাসসহ বেশ কিছু বিষয়ে পরিবর্তন আনা হচ্ছে।
নতুন বইয়ে মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর, বীরশ্রেষ্ঠদের জীবনী এবং ৭ নভেম্বরের ঘটনা যুক্ত হচ্ছে। এতে নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ভূমিকাও অন্তর্ভুক্ত থাকছে। এছাড়া চতুর্থ শ্রেণিতে ‘বাংলাদেশের সংস্কৃতি’ ও ‘খেলাধুলা’ নামে দুটি নতুন বই যোগ হচ্ছে। নতুন বইয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ‘নতুন কুঁড়ি’ আয়োজনের ইতিহাসও স্থান পাচ্ছে। তবে এবারের প্রাথমিকের পাঠ্যবইয়ের প্রচ্ছদ থেকে শুরু করে ভেতরের বিভিন্ন পৃষ্ঠা সবখানেই দেখা যায় নৌকার ছবি। বাংলাদেশে নৌকা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের দলীয় প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
অভিযোগ উঠেছে, কোথাও কোথাও অতিরঞ্জিতভাবে নৌকার ছবিটি ব্যবহার করারও। আবার অনেক পৃষ্ঠায় অপ্রয়োজনেও ছবিটি বসানো হয়েছে। প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির বই বিশ্লেষণ করে এমন চিত্র পাওয়া গেছে। কাভার পেজ থেকে শুরু করে ভেতরের পাতায় অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে নৌকার এসব ছবি দেখা যায়।
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) চলতি বছরের প্রাথমিকের বাংলা বইগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, প্রাথমিকের প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির বইয়ে সব মিলিয়ে মোট ৩৫টি পৃষ্ঠায় ৮৮টিরও বেশি নৌকার ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম শ্রেণির বাংলা বইয়ের ১০টি পৃষ্ঠায় মোট ৩২টি নৌকার ছবি রয়েছে। দ্বিতীয় শ্রেণির বাংলা বইয়ের ৮টি পৃষ্ঠায় রয়েছে ২৩টি ছবি। আর তৃতীয় শ্রেণির বাংলা বইয়ের ৯টি পৃষ্ঠায় ২৫টি নৌকার ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়া চতুর্থ শ্রেণির ৩টি পৃষ্ঠায় ৩টি এবং পঞ্চম শ্রেণির ৫টি পৃষ্ঠায় ৫টি নৌকার ছবি পাওয়া গেছে। বইগুলো চলতি বর্ষ তথা ২০২৬ সালেও পড়ানো হচ্ছে।
৭২ পৃষ্ঠার বইয়ে ৩২ বার নৌকার ছবি, আষাঢ় মাস বুঝাতে নৌকা, কাজী নজরুলের ‘ভোর হলো’ কবিতায়ও নৌকা
২০২৭ বর্ষের জন্য প্রস্তুত করা নতুন বইগুলো ঘেঁটে দেখা গেছে, প্রথম শ্রেণির বাংলা বইয়ে নৌকার ছবি সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করা হয়েছে। এই বইয়ের ১০টি পৃষ্ঠায় মোট ৩২টি নৌকার ছবি রয়েছে। বইটিতে ‘ছ’ অক্ষরের ব্যবহারে ‘ছই’ বোঝাতেও একটি নৌকার ছবি দেওয়া হয়েছে। একইভাবে এ-কার ও ঐ-কারের ব্যবহারে বৈঠার সাথেও রাখা হয়েছে নৌকা। বইটির ৪৭ ও ৪৮ পৃষ্ঠায় আষাঢ় মাসের বর্ণনা দিতে গিয়ে নদীতে নৌকার ছবি আঁকা হয়েছে। আবার ৫৪ পৃষ্ঠায় মেঘ, শৈবাল, ভোর ও নৌকার বাক্যেও একই ছবি রয়েছে। ৬০ পৃষ্ঠায় কবি কাজী নজরুলের ‘ভোর হলো’ কবিতায় ‘অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে’ নৌকা আনা হয়েছে। এছাড়া ইনার ও ৬৯ পৃষ্ঠায় একই ছবি হুবহু পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে।
দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণির বইয়েও একই ধরনের চিত্র পাওয়া গেছে। দ্বিতীয় শ্রেণির বাংলা বইয়ের ৮টি পৃষ্ঠায় ২৩টি নৌকার ছবি দেওয়া হয়েছে। বইটির কাভার পেজে একটি স্পষ্ট নদীর দৃশ্যের সাথে নৌকা রাখা হয়েছে। অন্যদিকে তৃতীয় শ্রেণির বইয়ের ৯টি পৃষ্ঠায় ২৫টি নৌকার ছবি রয়েছে। এই বইয়ের কাভার পেজেও নৌকার ছবি দেওয়া হয়েছে। বইটির ৩২ পৃষ্ঠায় ‘মাঝি’ শব্দ বোঝাতে এবং ৩৪ পৃষ্ঠায় রাজুর আঁকা ছবির অংশে তিনটি নৌকার ছবি ব্যবহার করা হয়েছে।
চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির পাঠ্যবইয়েও নৌকার ‘অতিরঞ্জিত’ উপস্থিতি দেখা গেছে। এর মধ্য চতুর্থ শ্রেণির বাংলা বইয়ের ৩টি পৃষ্ঠায় ৩টি নৌকার ছবি দেওয়া হয়েছে। সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের ‘দূরের পাল্লা’ কবিতায় এই ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। বইয়ের ৪৬ পৃষ্ঠায় অনুচ্ছেদ লেখার ছবিতে এবং ১০২ পৃষ্ঠায় রবীন্দ্রনাথের ‘ইচ্ছামতী’ কবিতায় নদীর সাথে নৌকার ছবি যুক্ত করা হয়েছে। পঞ্চম শ্রেণির বইয়ে মোট ৫টি পৃষ্ঠায় ৫টি নৌকার ছবি পাওয়া গেছে। বইটির ইনার কাভারের পাশাপাশি ভেতরের একাধিক পাতাতেও নৌকার অহেতুক ব্যবহার রয়েছে। এছাড়াও একইভাবে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে বিনা মূল্যে বিতরণের জন্য মুদ্রিত বিভিন্ন শ্রেণির বাংলা বইয়ে প্রয়োজনীয় ও অপ্রয়োজনীয়ভাবে নৌকার ছবি ব্যবহার করা হয়েছে।
A থেকে E— চার শব্দ গঠনে প্রাণীর ছবি, ভিন্ন শুধু B-তে Boat
দ্বিতীয় শ্রেণির ইংরেজি বই ‘English for Today’ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বইটির ৬ নম্বর পৃষ্ঠায় ‘B for Boat’ লেখার পাশাপাশি নৌকার ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। এই পাঠে A থেকে E পর্যন্ত পাঁচটি অক্ষর দিয়ে শব্দ গঠনের উদাহরণ হিসেবে চারটি প্রাণীর ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। A দিয়ে Ant (পিঁপড়া), C দিয়ে Crow (কাক), D দিয়ে Deer (হরিণ) এবং E দিয়ে Ear (কান)-এর প্রতীক হিসেবে হাতির ছবি দেওয়া হয়েছে। ব্যতিক্রম শুধু B দিয়ে Boat (নৌকা); যা কোনো প্রাণী নয়। ফলে বর্ণ শেখানোর এই অধ্যায়ে চারটি উদাহরণের (প্রাণীর ছবি) অমিল শুধু ‘B-তে Boat’ তথা নৌকার ছবি। একইভাবে ৭ নম্বর পৃষ্ঠাতেও ‘B for Boat’ তথা নৌকার ছবি রয়েছে। অথচ বর্ণটি শেখানোর জন্য ‘B for Ball’ শব্দটি বেশি উপযুক্ত বলেই মনে হচ্ছে।
এছাড়া ৮ নম্বর পৃষ্ঠাতেও ‘Boat’ শব্দ ও নৌকার ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। এই পৃষ্ঠার একটি ছবিতে দেখা যাচ্ছে, নৌকার ওপর দুটি হরিণ দাঁড়িয়ে আছে, আর তীরে থাকা একটি হাতি শুঁড় দিয়ে নৌকাটি টেনে ধরেছে। A থেকে E পর্যন্ত অক্ষর দিয়ে শব্দ শেখানোর ধারাবাহিকতায় ant, boat, crow, deer ও ear শব্দগুলো রাখা হয়েছে। তবে এখানে প্রাণীর ছবি দিয়ে শব্দ শেখানোর পাশাপাশি নৌকাকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে; যা পুরো দৃশ্যটিকে কিছুটা অস্বাভাবিক করে তুলেছে। বিশেষ করে, হরিণের নৌকায় চড়ে থাকা এবং হাতির শুঁড় দিয়ে সেটি টানার দৃশ্যটি শব্দ শেখানোর মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। বইটির ১১ নম্বর পৃষ্ঠায়ও অপ্রয়োজনীয়ভাবে নৌকার ছবি যুক্ত করা হয়েছে।
এদিকে আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য প্রাক্-প্রাথমিক থেকে নবম-দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় ৩১ কোটি পাঠ্যবই ছাপানো হচ্ছে। এর মধ্যে প্রাথমিক স্তরের বই ছাপা ও সরবরাহের অগ্রগতি তুলনামূলক ভালো। তবে মাধ্যমিক স্তরে এ কাজ পিছিয়ে রয়েছে।
এনসিটিবি সূত্রে জানা গেছে, আগামী শিক্ষাবর্ষে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর শিক্ষার্থী ও দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্যও বই ছাপানো হচ্ছে। মাধ্যমিক স্তরে ছাপা হচ্ছে ২২ কোটির বেশি বই। প্রাথমিক স্তরের বইয়ের সংখ্যা প্রায় ৮ কোটি ২১ লাখ ৬৭ হাজার। সব মিলিয়ে বই ছাপার সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৮৭৯ কোটি টাকা।
এনসিটিবির তথ্য অনুযায়ী, ২০ অক্টোবর পর্যন্ত প্রাথমিক স্তরের ৮৬ শতাংশের বেশি বই ছাপার কাজ শেষ হয়েছে। বাঁধাই, কাটিং ও প্রাক্-সরবরাহ পরিদর্শন (পিডিআই) শেষে সরবরাহ করা হয়েছে ৭৪ শতাংশ বই।
প্রাথমিক অধিদপ্তরকে ইঙ্গিত এনসিটিবির, বলছেন লেখকদের কথাও
এনসিটিবির একটি সূত্র বলছে, বইগুলো নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে নিজেদের মধ্যেই। তাই এটি নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারাই বিষয়টি দেখবে। বইগুলো বাতিল করে আবারও পুণমুদ্রণের গুঞ্জনও আলোচনা রয়েছে। তবে এসব বিষয়ে জানতে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) উৎপাদন নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ লুৎফর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘এসব বিষয়ে প্রাথমিকের শিক্ষাক্রমের সদস্য ভালো বলতে পারবেন। ওনার কাছেই এসব তথ্য থাকে।’
তবে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) প্রাথমিক শিক্ষাক্রমের সদস্য প্রফেসর ড. মো. ইকবাল হায়দার দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘বইয়ে কোন প্রতীক কতটি ব্যবহার করা হয়েছে বিষয়টি সম্পর্কে আমার জানা নেই।’ বইগুলো বাতিলের গুঞ্জন নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমার কাছে কোন তথ্য নেই। সামগ্রিক বিষয় বইটির লেখকরা ভালো বলতে পারবেন বলেও জানান তিনি।
‘বইগুলো পর্যালোচনা করে এ বিষয়ে আমরা আলোচনা করব। আগামীকাল এ-সংক্রান্ত একটি সভা রয়েছে। সেখানে বইগুলোর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে। এরপর মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনা পাওয়া যাবে। নির্দেশনা পাওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।— শাহীনা ফেরদৌসী, মহাপরিচালক, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক তারিক মনজুর প্রথম শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণির বাংলা বইয়ের একজন লেখক-সম্পাদক হিসেবে কাজ করেছেন। পাঠ্যবইয়ে অতিরঞ্জিত নৌকার উপস্থিতির প্রসঙ্গ শুনে তিনি বইগুলো উল্টে দেখার জন্য কিছু সময় নেন। পরে তিনি লিখিত বক্তব্যে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে জানান, ‘পাঁচটি শ্রেণির বাংলা বইয়ে ৪০ জায়গায় নদী ও নৌকার ছবি আছে, বিপরীতে ৩৮ জায়গায় ধানখেত, ধানের আঁটি ও ধানের শিষের ছবি আছে। নদীমাতৃক ও কৃষিপ্রধান বাংলাদেশের প্রকৃতির ছবি আঁকার সময়ে চিত্রকরদের হাতে স্বাভাবিকভাবেই নদী, নৌকা, ধানখেত ও ধানের ছড়ার ছবি চলে আসে। তবে পাঠ্যবই রচনার সময়ে কয়টি নৌকা থাকবে কিংবা কয় জায়গায় ধান থাকবে, এটা লেখক-সম্পাদকরা ভেবে বই করেননি।’
তবে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) আর্টিস্ট-কাম-ডিজাইনার সুদর্শন বাছারের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, বইয়ের গ্রাফিক্স ডিজাইনটি আমরা করিনি। এটার জন্য ফ্রিলান্সার কিছু লোক নিয়োগ দেওয়া হয়। তারাই এটার কাজ করেছে। এটার নির্দেশনা দেয় এনসিটিবির প্রাথমিক শাখা।
এ বিষয়ে বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘বইগুলো পর্যালোচনা করে এ বিষয়ে আমরা আলোচনা করব। আগামীকাল এ-সংক্রান্ত একটি সভা রয়েছে। সেখানে বইগুলোর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে। এরপর মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনা পাওয়া যাবে। নির্দেশনা পাওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। প্রাথমিকের বইগুলো বাতিল করা হচ্ছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটি নীতিগত সিদ্ধান্তের বিষয়। মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসবে। আমরা নিজেরা সিদ্ধান্ত দিই না, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা বাস্তবায়ন করি।’
বইয়ের গ্রাফিক্স ডিজাইনটি আমরা করিনি। এটার জন্য ফ্রিলান্সার কিছু লোক নিয়োগ দেওয়া হয়। তারাই এটার কাজ করেছে। এটার নির্দেশনা দেয় এনসিটিবির প্রাথমিক শাখা।— সুদর্শন বাছার, আর্টিস্ট-কাম-ডিজাইনার, এনসিটিবি
দাঁড়িপাল্লা বিতর্কে তুলে নেওয়া হচ্ছে ছাপানো ২০ লাখ বই
এদিকে, পাঠ্যবইয়ে অন্য একটি রাজনৈতিক প্রতীকের কারণে বইটি নতুন করে মুদ্রণের নির্দেশ দিয়েছে এনসিটিবি। ষষ্ঠ শ্রেণির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বইয়ে ‘প্রজ্ঞা’ বোঝাতে দাঁড়িপাল্লার প্রতীক ব্যবহার করা হয়েছে। এটি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী প্রতীক হওয়ায় সমালোচনার অভিযোগ আনে। শিক্ষার্থীদের কাছে বিষয়টি সহজ করতে উপাত্ত, তথ্য, জ্ঞান ও প্রজ্ঞা স্তর সাজানো হয়েছিল। পরিমার্জন কমিটি শুধু ‘বুদ্ধি’ শব্দের জায়গায় ‘প্রজ্ঞা’ লেখার সুপারিশ করেছিল। কিন্তু গ্রাফিক ডিজাইনাররা ইন্টারনেটে খুঁজে পুরোনো দাঁড়িপাল্লার প্রতীকটি বসিয়ে দেন। বিতর্ক এড়াতে এখন অতিরিক্ত খরচ করে মাঠপর্যায়ের প্রায় ২০ লাখ বই তুলে নেওয়া হচ্ছে। বইগুলো সংশোধনের জন্য এনসিটিবির বাড়তি খরচ ও সময় নষ্ট হচ্ছে।
এ বিষয়ে এনসিটিবির সদস্য (শিক্ষাক্রম) অধ্যাপক ড. এ কে এম শওকত আলী খান দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, উইজডমের বাংলা শব্দার্থ ‘বুদ্ধি’ হয় না। ২০২৫ ও ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের বইয়ে উইজডমের বাংলা শব্দার্থ ‘বুদ্ধি’ লেখা হয়েছিল। তাই পরিমার্জন কমিটি সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, ২০২৭ সালে বাংলায় ‘বুদ্ধি’র পরিবর্তে ‘প্রজ্ঞা’ লেখা হবে।
তিনি বলেন, গ্রাফিকস ডিজাইনাররাও ‘বুদ্ধি’র পরিবর্তে ‘প্রজ্ঞা’ লিখেছেন। কিন্তু প্রতীকটি পরিবর্তন করে দিয়েছেন। অথচ পরিমার্জন কমিটির সুপারিশ ছিল শুধু বাংলায় ‘প্রজ্ঞা’ শব্দটি সংশোধন করা, প্রতীক পরিবর্তন করা নয়। অধ্যাপক শওকত আলী খান আরও বলেন, গ্রাফিকস ডিজাইনাররা সম্ভবত গুগলে ছবি খুঁজতে গিয়ে ২০২৫ শিক্ষাবর্ষের বইয়ে ব্যবহৃত প্রতীকটি পেয়েছেন। সে কারণে তাঁরা পুরোনো ছবিটি ব্যবহার করেছেন। তারা হয়তো বিষয়টির গভীরতা বুঝতে পারেননি।
এসব বিষয়ে জানতে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজকে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তাদেরকে পাওয়া যায়নি।