Image description

৪৫তম বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসে (বিসিএস) ক্যাডার পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও চূড়ান্ত গেজেট থেকে বাদ পড়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী একরাম গাজী। তবে গোয়েন্দা প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে কোনো রাজনৈতিক তথ্য ছিল কি না, তা-ও তার জানা নেই। এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।

বর্তমানে একটি সরকারি ব্যাংকে কর্মরত একরাম গাজী ১৪ অক্টোবর রাতে নিজের ফেসবুক পোস্টে গেজেট থেকে বাদ পড়ার বিষয়টি তুলে ধরেন। পোস্টে তিনি লেখেন, ‘২০১৬-২০২৪ পর্যন্ত হলে থেকে কখনো কোনো রাজনৈতিক সুবিধা নিয়েছি কিনা বা কারো সাথে কোনো অন্যায় করেছি কিনা এটা আমার একুশে হলের ভাই-ব্রাদাররাই ভালো বলতে পারবে, এই উত্তর আমি তাদের কাছে আশা করছি।’

তিনি আরও লেখেন, ‘দুনিয়ার সব উটকো ঝামেলা এড়িয়ে চলা মানুষ আমি, অথচ নিজ পরিশ্রমে এতদুর এসে এখন ৪৫ তম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও গেজেট বঞ্চিত হয়েছি। এত দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে এভাবে খালি হাতে ফেরা খুবই প্যাথেটিক। হে রাষ্ট্র, তোমার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করো, তোমার নাগরিকদের প্রতি সদয় হও।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে একরাম গাজী বলেন, ‘গতকাল রাতে ৪৫ তম বিসিএস এর গেজেট প্রকাশিত হয়, প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশ প্রাপ্ত হয়েও উক্ত গেজেটে আমার নাম না থাকায় আমি খুবই মর্মাহত হয়েছি।’

তিনি বলেন, মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী রাজনৈতিক কারণে কেউ গেজেট বঞ্চিত হওয়ার কথা না, সেক্ষেত্রে কী কারণে গেজেট বঞ্চিত হয়েছি সেটা আমি জানিনা বা কোনো ব্যাখ্যা পাইনি। গোয়েন্দা প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কোনো তথ্য দেওয়া হয়েছিল কি না, সে বিষয়েও আমার জানা নেই। ২০২২ থেকে ২০২৬ পর্যন্ত এত দীর্ঘ সময় পরিশ্রম এবং অপেক্ষা করে কোনো ধরণের মামলা ছাড়া একজন প্রার্থীকে গেজেট বঞ্চিত করার প্রক্রিয়া অবশ্যই ত্রুটিপূর্ণ।’

প্রসঙ্গত, ৩২২ দিনের অপেক্ষার পর বুধবার (১৪ অক্টোবর) ৪৫তম বিসিএসের চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করে সরকার। এতে তালিকা থেকে বাদ পড়েন ১০৫ জন। ২ হাজার ৩০৯টি শূন্য পদের বিপরীতে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) ২০২২ সালের ৩০ নভেম্বর ৪৫তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে।

সে সময় চলমান জটের কারণে প্রিলিমিনারি, লিখিত ও মৌখিক এই তিন ধাপের পরীক্ষা শেষ হতে ২০২৪ সালের ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত সময় লাগে। পরে গত বছরের ৬ নভেম্বর ক্যাডার পদে মোট ১ হাজার ৮০৭ জনকে সাময়িকভাবে সুপারিশ করে ফল প্রকাশ করে পিএসসি। তাদের মধ্যে বুধবার ১ হাজার ৭০২ জনের গেজেট প্রকাশ করে সরকার।