Image description

ভারতীয় আধিপত্যের বিরুদ্ধে পোস্ট দেওয়ার পর ছাত্রলীগের নির্যাতনে নিহত বুয়েটছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যার পেছনে ছাত্রলীগের আইডিওলজি এবং শিবির ট্যাগ দিয়ে ধরার বৈধতাই দায়ী বলে মন্তব্য করেছেন তার ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজ। বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) দিবাগত রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে ফাইয়াজ এমন মন্তব্য করেছেন। একই সাথে ইতিহাস বিকৃতি না করার অনুরোধও জানিয়েছেন তিনি।

পোস্টের শুরুতে হত্যা মামলার আসামি ও ছাত্রলীগ কর্মী জেমির সংশ্লিষ্টতা নিয়ে লিখেছেন ফাইয়াজ। তিনি লিখেছেন, একটা বেশ বড় ভুল তথ্য সামনে আসছে। ৬ই আগস্ট পালিয়ে যাওয়া জেমি আবরারকে প্রথম আঘাত করে, এ ধরনের কোনো স্বীকারোক্তি কারও জবানবন্দিতেই আমরা দেখিনি। বরং প্রথম যখন মারা শুরু হয়, জেমি তখন রুমেই ছিল না। এছাড়াও হাইকোর্টে মামলা শুরুর আগেই পালিয়ে যাওয়ায় জেমির পক্ষ থেকে কোনো আইনজীবীও নিয়োগ দেওয়া হয়নি। যদিও প্রথমে মারতে শুরু করা রবিনের শাস্তি বেশি হয়েছে বলে একজন আইনজীবী দাবি করেছেন।’

হত্যাকারীদের কারো ছাত্রলীগ ছাড়া আর কোনো পরিচয় আছে কিনা—তা নিয়েও কথা বলেন আবরার ফাইয়াজ। লিখেছেন, ‘আসামিদের পরিবারের রাজনৈতিক পরিচয় কী বা কে কেন আসামিদের পক্ষে আইনজীবী হলো, সেই প্রশ্ন বা তা নিয়ে ক্ষোভ থাকা স্বাভাবিক, আমাদের ক্ষোভ সবার থেকে বেশি ছাড়া কম না। কিন্তু কোনো রকম যদি-কিন্তু ছাড়া, আবরার ফাহাদকে টার্গেট করে হত্যার পেছনে মূল দায়ী ছাত্রলীগের আইডিওলজি এবং শিবির ট্যাগ দিয়ে যে কাউকে ধরার বৈধতা থাকা। হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়ার সময় তাদের একটাই পরিচয় ছিল, তারা ছাত্রলীগ, আগে তারা যাই থাকুক আর পরে যত বড় মৌলভীই হোক না কেন।’

‘দয়া করে ইতিহাস বিকৃতি কইরেন না’—এমন অনুরোধ জানিয়ে আবরার ফাইয়াজ লিখেছেন, ‘গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় নিজেদের মধ্যে রাজনৈতিক বিরোধ থাকবেই। কিন্তু একইসাথে এটাও বোঝা প্রয়োজন, কোথায় থামতে হবে। যে শহীদদের রক্তই আমাদের বর্তমানের বৈধতার ভিত্তি, সেটা নিজেরাই বিতর্কিত করে দিলে নিজেদের অস্তিত্বই তো সংকটে পড়বে।’