উপাচার্য পরিবর্তনের প্রতিবাদে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) শিক্ষার্থীদের সর্বাত্মক শাটডাউন কর্মসূচি দ্বিতীয় দিনেও অব্যাহত রয়েছে। বন্ধ রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস, পরীক্ষা ও অন্যান্য একাডেমিক কার্যক্রম। এর ফলে প্রায় ৬ হাজার ৩৬৭ শিক্ষার্থী ও ৩৬১ শিক্ষক নিয়ে পাঁচটি অনুষদ ও ১৮টি বিভাগের বিশ্ববিদ্যালয়টির স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
এর আগে গত ২১ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্যের (ভিসি) পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে কুয়েটের অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে এ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় উপাচার্য পরিবর্তনের প্রতিবাদে সোমবার রাতে বিক্ষোভ মিছিল করেন শিক্ষার্থীরা। মিছিল শেষে উপাচার্য ভবনে তালা দিয়ে একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধের ঘোষণা দেওয়া হয়।
পরদিন মঙ্গলবার সকাল থেকে প্রধান ফটকে তালা দিয়ে শুরু হয়ি সর্বাত্মক শাটডাউন। আন্দোলনের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে।
বন্ধ হয়ে গেছে চলমান টার্ম ফাইনাল পরীক্ষাও। এরই ধারাবাহিকতায় ২৪ সেপ্টেম্বর নির্ধারিত তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল এবং জৈবচিকিৎসা প্রকৌশল বিভাগের তৃতীয় বর্ষের পরীক্ষাও বাতিল করা হয়েছে।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে বুধবার সকাল ১১টা ২০ মিনিট থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে ‘গণস্বাক্ষর কর্মসূচি’ শুরু হয়। এতে শিক্ষার্থীরা সারিবদ্ধভাবে অংশ নিয়ে নিজেদের শিক্ষার্থী আইডি ও স্বাক্ষর প্রদান করেন। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, সংগৃহীত স্বাক্ষর পরবর্তীতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।
গণস্বাক্ষর কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া যন্ত্রকৌশল বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ফারহান হাসনাত আদিব বলেন, ‘গত ২১ তারিখ বিনা নোটিশে আমাদের আবু সাদাত সায়েম স্যারকে ভিসি পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এর প্রতিবাদে আমরা সেদিন রাতেই বিক্ষোভ মিছিল করি। আমাদের কর্মসূচির অংশ হিসেবে মঙ্গলবার চুয়েট কমপ্লিট শাটডাউন রাখা হয়। আজ আমরা আমাদের আন্দোলনের দ্বিতীয় দিনে গণস্বাক্ষর কর্মসূচি পালন করছি, যা আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাবো। দাবি না মানা পর্যন্ত আমাদের এই শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চলবে।’
শিক্ষার্থীদের একদফা দাবি আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনরায় উপাচার্য পদে বহাল করা। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছেন তারা।