প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফল আজ রোববার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়েছে।প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় বৃত্তি পেয়েছে ৭৯ হাজার ২৪৬ শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ট্যালেন্টপুলে ৩২ হাজার ৯৬৫ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি পেয়েছেন।
আজ রোববার (১২ জুলাই ২০২৬) দুপুর ১২টার দিকে রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের কনফারেন্স রুমে সংবাদ সম্মেলনে এ ফলাফল ঘোষণা করা হয়। প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফল উদ্বোধন করেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসীসহ প্রমুখ।

ফল মিলবে অনলাইনে ও এসএমএসে—
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর জানিয়েছে, ফল প্রকাশের পর অভিভাবকেরা অনলাইন ও মোবাইল এসএমএসের (SMS) মাধ্যমে ফল সংগ্রহ করতে পারবেন। অনলাইনে ফল দেখার অফিশিয়াল মাধ্যম হলো ‘আইপিইএমআইএস’ (IPEMIS) পোর্টাল।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা নীতিমালা অনুযায়ী, দেশব্যাপী প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৫ এ মোট ৮২ হাজার ৫০০টি বৃত্তি প্রদানের সিদ্ধান্ত হয়। এর মধ্যে ট্যালেন্টপুল বৃত্তি ৩৩,০০০টি এবং সাধারণ বৃত্তি ৪৯ হাজার ৫০০টি। ট্যালেন্টপুলে সরকারি বিদ্যালয়ে ৮০% এবং বেসরকারি বিদ্যালয়ে ২০% বৃত্তি পাবে শিক্ষার্থীরা।
সাধারণ বৃত্তির ৪৯ হাজার ৫০০টির মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩৯ হাজার ৬০০টি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডভিত্তিক ৫টি করে বৃত্তি (২ জন বালক, ২ জন বালিকা এবং বাকি ১টি মেধার ভিত্তিতে) দেওয়া হয়। এ ছাড়া, বেসরকারি বিদ্যালয়ের জন্য উপজেলাভিত্তিক ২০% সাধারণ বৃত্তি রাখা হয়েছে।
এবারের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় মোট ৭৮,৮১০টি বিদ্যালয় অংশগ্রহণ করেছে, যার মধ্যে সরকারি বিদ্যালয় ৬৫,৬০৫টি এবং বেসরকারি বিদ্যালয় ১৩,২০৫টি। মোট নিবন্ধিত পরীক্ষার্থী ৬,০০,০৪১ জন যেখানে ছাত্র ২,৫৬,১১৭ জন এবং ছাত্রী ৩,৪৩,৯২৪ জন। পরীক্ষায় মোট উপস্থিত পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৪,৮৩,৭৫৯ জন (৮০.৫৩%) যার মধ্যে সরকারি বিদ্যালয়ের ৩,৪৪,১২৭ জন (৮২.০৯%) এবং বেসরকারি বিদ্যালয়ের ৭৫,৪৫৫ জন (৮৪.১৬%)। উপস্থিত মোট পরীক্ষার্থীর ১,৬৬,৬৪১ জন (৩৯.৬৮%) ছাত্র এবং ২,৫৩,০৪১ জন (৬০.৩২%) ছাত্রী।
প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৫ এ মোট ৮২ হাজার ২৪৬ টি ট্যালেন্টপুল ও সাধারণ বৃত্তি প্রদান করা হয়েছে। ট্যালেন্টপুলে মোট ৩২ হাজার ৯৬৫ জনের মধ্যে সরকারি বিদ্যালয় থেকে ২৬,৩৭৫ জন এবং বেসরকারি বিদ্যালয় থেকে ৬,৫৯০ জন বৃত্তি পায়। অন্যদিকে, সাধারণ বৃত্তি প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৪৬,২৮১ জন যার মধ্যে সরকারি বিদ্যালয় থেকে ৩৬,৪২০ জন এবং বেসরকারি বিদ্যালয় থেকে ৯,৮৬১ জন। বৃত্তিপ্রাপ্ত মোট শিক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্র ৩৫,৯৮২ জন (৪৫.২৯%) এবং ছাত্রী ৪৩,৩৫৪ জন (৫৪.৭১%)।
এ বছর মোট ৮২ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থী বৃত্তি পাবে। এর মধ্যে ৮০ শতাংশ পাবে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। বাকি ২০ শতাংশ পাবে বেসরকারি বা কিন্ডারগার্টেনের প্রার্থীরা। বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের ‘ট্যালেন্টপুল’ ও ‘সাধারণ গ্রেড’—এই দুই ভাগে আর্থিক সুবিধা দেওয়া হয়।
পার্বত্য তিন জেলা ছাড়া দেশের অন্য সব জেলায় ১৫ থেকে ১৮ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত এই পরীক্ষা চলে। আর পার্বত্য তিন জেলা—রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে বিশেষ সময়সূচিতে ১৭ থেকে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত পরীক্ষা নেওয়া হয়।
এ বছর মোট পরীক্ষার্থী ছিল ৬ লাখ ৪০ হাজারের কিছু বেশি। তার মধ্যে সাড়ে ৫ লাখ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এবং ৯০ হাজার বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের (কিন্ডারগার্টেন) শিক্ষার্থী।
গত বৃহস্পতিবার প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের কথা ছিল। এ লক্ষে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৫-এর ফলাফল ৮ জুলাই প্রস্তুত করা হয়। প্রস্তুত করা ফলাফল ওয়েব পোর্টালে আপলোড করতে প্রয়োজনীয় লিংক তৈরির জন্য অধিদপ্তরের সহকারী মেইনটেন্যান্স মো. মেহতাব কায়েসকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। ফলাফল যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্রকাশের আগে তা ওয়েব পোর্টালে আপলোড না করার জন্য তাঁকে নির্দেশনা দেওয়া হয়। কিন্তু ৯ জুলাই (বৃহস্পতিবার) সকাল ১০টায় ঢাকা বিভাগের ৯টি জেলার ফলাফল ওই লিংকগুলোয় আপলোড করা হয়। লিংকগুলো থেকে সাধারণ ব্যবহারকারীরা ফলাফল আপলোড করেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেন। এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয়।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত এক কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এই কর্মকর্তা হলেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী মেইনটেন্যান্স মো. মেহতাব কায়েস। সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী, অসদাচরণের অভিযোগে মো. মেহতাব কায়েসকে আজ শুক্রবার সাময়িক বরখাস্ত করে প্রজ্ঞাপন জারি করে মন্ত্রণালয়। এ ছাড়া এ ঘটনা তদন্তে একটি কমিটি করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।