Image description

এইচএসসি পরীক্ষার দ্বিতীয় দিনে আজ শনিবার (৪ জুলাই) নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে বাংলা দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে সকাল সাড়ে ৯টায় কেন্দ্রে প্রবেশ করেও পরীক্ষায় অংশ নেয়নি ১৬০ শিক্ষার্থী। শর্ত সাপেক্ষে তারা সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত পরীক্ষায় অংশ নেবে। 

জানা গেছে, ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে দিনের বেলায় পরীক্ষা দিতে না পারা সেভেন্থ ডে অ্যাডভান্টিস্ট সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থায় সূর্যাস্তের পর পরীক্ষা নেওয়ার আয়োজন করেছে শিক্ষা বোর্ড। প্রশ্নফাঁস এড়াতে দিনভর তাদের বন্দি থাকতে হবে কেন্দ্রে। অর্থাৎ, সহপাঠীদের সঙ্গে একই সময়ে কেন্দ্রে প্রবেশ করলেও তারা বের হবেন পরীক্ষা শেষে রাতে। এই পুরো সময় বসে থাকতে হবে পরীক্ষাকেন্দ্রে। শুধু আজ শনিবার নয়, পরীক্ষা চলাকালে ছয়টি শনিবারই তাদের এই রুটিন অনুসরণ করতে হবে। 

বাংলাদেশ অ্যাডভান্টিস্ট মিশনের কর্মকর্তারা জানান, এইচএসসি পরীক্ষায় সারা দেশে ঢাকা, ময়মনসিংহ, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে নয়টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে তাদের প্রায় ১৬০ জন শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। শনিবার তারা নির্ধারিত সকাল সাড়ে ৯টায় পরীক্ষার হলে প্রবেশ করলেও ধর্মীয় বিধিনিষেধের কারণে পরীক্ষায় অংশ নেবেন না। প্রায় ৯ ঘণ্টা একটি কক্ষে বন্দি থেকে সূর্যাস্তের পর সন্ধ্যায় পরীক্ষার উত্তরপত্রে লেখা শুরু করবেন তারা। 

এর আগে, গত ২১ জুন বোর্ডের একে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সেভেন্থ ডে এভান্টিস্ট সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত পরীক্ষার্থীরা ধর্মীয় বিধি নিষেধের কারণে সময়সূচি অনুযায়ী শনিবার অনুষ্ঠিতব্য পরীক্ষাগুলোতে নির্ধারিত সময়ের পরিবর্তে সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত শর্ত সাপেক্ষে পরীক্ষায় অংশ নেবে।

শর্তে বলা হয়, এ সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত পরীক্ষার্থীরা শনিবার সকাল ১০টার আগে পরীক্ষা কেন্দ্রে উপস্থিত হবে ও পরীক্ষা কেন্দ্রের নির্দিষ্ট কক্ষে অবস্থান করবে এবং তাদের জন্য নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষায় অংশ নেবে। পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশের পর তাদের সাথে প্রবেশপত্রে বর্ণিত দ্রব্যের বাইরে কিছু থাকবে না। কোন অবস্থাতেই তারা পরীক্ষা কেন্দ্রের নির্দিষ্ট কক্ষের বাইরে যেতে পারবে না এবং বাইরের কারো সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবে না।   

প্রসঙ্গত, খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সেভেন্থ ডে অ্যাডভান্টিস্ট সম্পদায়ের বিশ্বাস অনুযায়ী শনিবার তাদের পবিত্র বিশ্রামদিন। বাইবেলের নির্দেশনা অনুসারে এদিন তারা ঈশ্বরের আরাধনা ও উপাসনায় সময় কাটান। তাদের ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, শুক্রবার সূর্যাস্ত থেকে শনিবার সূর্যাস্ত পর্যন্ত কোনো ধরনের জাগতিক বা পার্থিব কাজ করা থেকে বিরত থাকেন তারা।