Image description
 ঈশ্বরদী সরকারি কলেজ-এ চলমান একাদশ শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষা চলাকালে পরীক্ষার হলের একটি টিকটক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ভাইরাল হওয়া ভিডিওটিকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সচেতন মহলে পরীক্ষার পরিবেশ এবং তদারকি ব্যবস্থা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, পরীক্ষার কক্ষে দায়িত্বপ্রাপ্ত একজন শিক্ষক দরজা দিয়ে বাইরে চলে যাচ্ছেন। এ সময় কক্ষের সামনের সারিতে বসা এক শিক্ষার্থী মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করছে। ভিডিওতে আরও দেখা যায়, কয়েকজন পরীক্ষার্থী নিজেদের মধ্যে কথা বলছেন, কেউ অন্যের খাতা দেখে লিখছেন এবং কেউ মোবাইল ফোন ব্যবহার করছেন।
এ ঘটনায় অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করে প্রশ্ন তুলেছেন, একটি সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ বার্ষিক পরীক্ষার হলে কীভাবে মোবাইল ফোন প্রবেশ করল এবং ভিডিও ধারণের সুযোগ তৈরি হলো। তাদের মতে, পরীক্ষার হলে কঠোর নজরদারি ও দায়িত্বশীল তদারকি থাকলে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার কথা নয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই পরীক্ষার শৃঙ্খলা রক্ষায় সংশ্লিষ্টদের আরও সতর্ক ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। কেউ কেউ এটিকে দায়িত্বে অবহেলার ফল বলেও মন্তব্য করেছেন।
এ বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ মো. আমজাদ হোসেন বলেন, “কলেজ কক্ষে ধারণ করা ওই ভিডিওটি আমিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখেছি। বর্তমানে একটি কাজে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেছি। আমাদের কলেজে শিক্ষক সংকট থাকায় প্রতিটি কক্ষে দুইজন করে শিক্ষক দেওয়া সম্ভব হয়নি। এ কারণে কয়েকটি কক্ষে একজন শিক্ষক দায়িত্ব পালন করেছেন। যে শিক্ষার্থী ভিডিওটি ধারণ করেছে তাকে ডেকেছি। তার সঙ্গে কথা বলে বিস্তারিত জানা যাবে, কেন এমন ঘটনা ঘটেছে।”
তবে এ ঘটনায় কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না—এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি উত্তর দেওয়ার আগেই ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। পরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়।
এদিকে ঘটনাটি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পরীক্ষার হলে কঠোর তদারকি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকরা। তাদের মতে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা ও পরীক্ষার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এ ধরনের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি।
 
ওহিদুল ইসলাম সোহেল
ঈশ্বরদী (পাবনা)