জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তঃবিভাগ ফুটবল ম্যাচকে কেন্দ্র করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু)-এর ক্রীড়া সম্পাদক জর্জিস আনোয়ার নাইমকে হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে শাখা ছাত্র অধিকার পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সোহান প্রামাণিকের বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) নিজের ফেসবুক পোস্টে এই অভিযোগ তোলেন জর্জিস আনোয়ার নাইম। একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, অভিযুক্ত সোহান ম্যাচ রেফারিকে মারতে উদ্যত হন। জানা যায়, ভুক্তভোগী ওই ম্যাচ রেফারির নাম দিপু। তিনি বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের নিবন্ধিত ম্যাচ রেফারি।
জর্জিস আনোয়ার নাইমের ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করা হয়, “গতকাল (সোমবার) থেকে আমাদের দুই দিনব্যাপী আর্চারি প্রশিক্ষণ কর্মশালা শুরু হয়। কর্মশালা শেষে ফিজিক্স ডিপার্টমেন্টের মারামারি সংক্রান্ত একটি বিষয়ে যাত্রাবাড়ী থানায় যেতে হয়। এ কারণে স্বাভাবিকভাবেই আমি খেলার মাঠে দেরিতে পৌঁছাই।
মাঠে পৌঁছে জানতে পারি, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের এক খেলোয়াড় লাল কার্ড পান এবং তার কারণে সোহান প্রামানিক রেফারির সঙ্গে মারামারির উপক্রম করেন। তখন আমি কিছু বলিনি, কারণ খেলার মাঠে এমন ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।
খেলা শেষে ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ জয়ী হলে হঠাৎ দেখি, সোহান প্রামানিক দৌড়ে যাচ্ছেন এবং কয়েকজন শিক্ষার্থী তাকে আটকানোর চেষ্টা করছেন। পরে জানতে পারি, সোহান প্রামানিক রেফারিকে মারতে যাচ্ছিলেন। অন্যরা রেফারিকে ধরে অফিসে নিয়ে যান।
এরপর ড্রেসিংরুমে গিয়ে বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা করলে সোহান প্রামানিক তার কাছে এসে অশালীন ভাষায় কথা বলেন।”
জর্জিস আনোয়ার নাইমের জবাবে সোহানকে বলা হয়, “তুমি কাজটা ঠিক করোনি, সোহান। খেলার মধ্যে যা হয়েছে, হয়েছে। কিন্তু খেলা শেষে তুমি কোন সাহসে রেফারিকে মারতে যাও?” এ সময় সোহান প্রামানিক বলেন, “তুই দালালি কম কর।” এছাড়া তিনি জর্জিসের প্রতি বিভিন্ন অশালীন মন্তব্যও করেন বলে অভিযোগ করা হয়।
পরে অধ্যাপক রইস উদ্দিন তাকে ধরে নিচে নিয়ে আসেন। এ সময় সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় এক ব্যক্তি ক্রীড়া সম্পাদককে উদ্দেশ করে অশালীন মন্তব্য করেন। এছাড়া ১২ তারিখের পর বিষয়টি “দেখে নেওয়া হবে” বলেও তিনি জানতে পান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ক্রীড়া সংশ্লিষ্ট একজন বলেন, “খেলার মাঠে অনেক ঘটনা ঘটে, তবে এ ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা কখনোই কাম্য নয়। বাফুফের একজন রেফারির সঙ্গে যে ব্যবহার করা হয়েছে তা অত্যন্ত নিন্দনীয়।”
অভিযোগের বিষয়ে জবি ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতা সোহান প্রামানিক বলেন, রেফারির সঙ্গে তার কথা কাটাকাটির ঘটনা ঘটেছে, তবে তাকে মারার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি। তিনি দাবি করেন, খেলার মাঠে অনেক সময় এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় এবং এটিকে রাজনৈতিক বিষয় বানানোর কিছু নেই।
ড্রেসিংরুমে জর্জিস আনোয়ার নাইমের সঙ্গে তার কথাকাটাকাটির ঘটনা স্বীকার করে সোহান প্রামানিক বলেন, সেখানে তিনি কোনো অশালীন ভাষা ব্যবহার করেননি। তিনি আরও বলেন, চাইলে ওই সময় উপস্থিত সবার সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি যাচাই করা যেতে পারে।