বিতর্কিত ফেসবুক পেজের অ্যাডমিনদের (পরিচালনাকারী) সরাসরি হোয়াটসঅ্যাপে নির্দেশনা দেওয়া এবং অর্থায়নের বিষয়ে ছাত্রদল নেতা আবিদুল ইসলাম খানের তোলা অভিযোগের পেছনে ‘সংঘবদ্ধ অ্যাকটিভিজম’ দেখছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহসভাপতি (ভিপি) সাদিক কায়েম।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) দিবাগত রাতে ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানান তিনি। তার ভাষ্য, ছাত্রদল নেতা আবিদুল ইসলাম খানের আনা অভিযোগের ভিত্তিতে বিএনপি ছাত্রদলের সব অপকর্ম, দেশের সব সংকট ও ক্যাম্পাস নিয়ন্ত্রণের অপতৎপরতা সবকিছু ঢেকে দিতে সংঘবদ্ধ এক্টিভিজম দৃশ্যমান হচ্ছে।
এর আগে গত শুক্রবার রাতে একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের টক শোতে সাদিক কায়েমের সামনেই তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে জবাব চান আবিদুল। পরে ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্টে এক পোস্টে কিছু ‘তথ্যপ্রমাণসহ’ সেই অভিযোগটি তুলে ধরেন আবিদুল।
আবিদুলের তোলা অভিযোগের জবাবে সাদিক কায়েম পোস্টে লেখেন, ক্ষমতাসীন সরকার সব সময় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের ভয় পায়। দেশের চলমান অস্থিরতা এবং সরকারের একের পর এক ব্যর্থতায় ডাকসুর নেতাসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অবস্থান জারি রেখে প্রতিবাদ করে। সম্ভবত সরকার এই প্রতিবাদী সংস্কৃতিকে নিজেদের ভবিষ্যতের জন্য বড় হুমকি মনে করছে। তাই তাদের দরকার নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকা এবং ক্যাম্পাসগুলো নিয়ন্ত্রণ করা। তারই ধারাবাহিকতায় ছাত্রদল নেতা আবিদুল ইসলাম খানের আনা অভিযোগের ভিত্তিতে বিএনপি ছাত্রদলের সব অপকর্ম, দেশের সব সংকট ও ক্যাম্পাস নিয়ন্ত্রণের অপতৎপরতা—সবকিছু ঢেকে দিতে সংঘবদ্ধ অ্যাকটিভিজম দৃশ্যমান হচ্ছে।
তিনি লেখেন, আবিদুল ইসলাম খান যে দুটি পেজের ব্যাপারে অভিযোগ এনেছেন, তা অবশ্যই সবিস্তার খতিয়ে দেখার দাবি রাখে। আমরা সেটি করব, ইনশা আল্লাহ। তবে প্রাথমিকভাবে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ডিইউ ইনসাইডার্স পেজ থেকে কাউকে হেনস্তা করে কিংবা কারও বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কোনো অপপ্রচার চালানো হয়নি বলে পেজের এডমিন দাবি করেছেন। এই পেজের নামে হুবহু একই বানানে একই প্রোফাইল পিকচার দিয়ে আরেকটি পেইজ খোলা হয়েছিল, যে পেজ থেকে ডাকসুর প্রতিনিধিদের নিয়েও আক্রমণাত্মক, অশালীন এবং হয়রানিমূলক পোস্ট করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ডিইউ ইনসাইডার্স নামের সেই পেইজটির বিরুদ্ধে আমরাও লিখিত অভিযোগ জানিয়েছিলাম। তবে নাম একই হলেও দুটো পেজ ভিন্ন।
সাদিক কায়েম লেখেন, ডিইউ ইনসাইডার্স পেজটির অ্যাডমিন আমার হলের ছোট ভাই। ওমরায় থাকাকালে তাকে প্রেরণকৃত একটি হোয়াটসঅ্যাপ ম্যাসেজের স্ক্রিনশট দিয়েও অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। অথচ আমি আমার পরিচিত সিনিয়র, জুনিয়র, সহযোদ্ধা, সহকর্মী অনেককেই স্মরণ করে সে সময় ম্যাসেজ পাঠিয়েছিলাম, এমনকি স্বয়ং আবিদুল ইসলাম খানকেও। তিনি তার রিপ্লাইও দিয়েছিলেন। এটি ছিল সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত ও সৌজন্যমূলক যোগাযোগ।
তিনি আরও লেখেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল কর্তৃক ডিপার্টমেন্ট অব বাকশাল, ক্রিমিনালস ডিইউসহ বেশ কয়েকটি পেজ খোলা হয়। এরপর ডাকসু কণ্ঠস্বর নামে খোলা পেজ থেকে হেন কোনো ভুয়া ফটোকার্ড নেই, যা ছড়ানো হয়নি। পেজটির নাম পরিবর্তন করে বর্তমানে দ্য ডেইলি ডাকসু নামে চালানো হয় এবং নিয়মিত গুজব ও প্রোপাগান্ডা ছড়ানো হয়। এ ছাড়া আমার ডাকসু, আমার রাকসু, আমার চাকসু, কাঁঠেরকেল্লা, ন্যাশনালিস্ট ডে টা, মোল্লার দেশ, ন্যাশনালিস্ট ইনসাইডার, দশের লাঠি, মগবাজার, লন্ডন বিডি টিভি, রৌমারি প্রভৃতি পেজ থেকে বিগত দিনগুলোতে এমন কোনো অপপ্রচার নেই, যা করা হয়নি। এআই দিয়ে ভুয়া ছবি বানিয়ে, বিকৃত প্রচারণা চালিয়ে নানাবিধ হয়রানির অপচেষ্টা চালানো হয়েছে। এর প্রত্যেকটি পেজ কারা চালায়, তা কারোরই অজানা নয়।
সবচেয়ে আশঙ্কার বিষয় জানিয়ে সাদিক কায়েম লেখেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের সাবেক দায়িত্বশীল আব্দুল্লাহ আল মাহমুদের নামে একটি ভুয়া স্ক্রিনশট বানিয়ে তাকে হত্যার হুমকি দেওয়ার ঘটনা। এমনকি তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ছাত্রদল সারা ঢাকার টোকাইদের এনে শাহবাগ থানায় মব তৈরি করে এবং হামলা করে। অথচ প্রথম সারির ফ্যাক্টচেক প্রতিষ্ঠানসমূহ, এবং রাষ্ট্রীয় ফ্যাক্টচেক প্রতিষ্ঠান থেকেও নিশ্চিত করা হয় স্ক্রিনশটটি ছিল সম্পূর্ণ বানোয়াট এবং ভুয়া। ভুয়া প্রমাণিত হওয়ার পরেও মানসুরা আলম, মায়েদসহ ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা অব্যাহতভাবে সেটি ছড়িয়েছেন এবং অনেকেই এখনও তা সরাননি, এমনকি দুঃখপ্রকাশও করেননি।
সবশেষ পোস্টে সাদিক কায়েম লেখেন, সারা বাংলাদেশে বিএনপি-ছাত্রদল কর্তৃক ধর্ষণ, হত্যা, শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস, ভুয়া স্ক্রিনশট তৈরি করে হত্যার চেষ্টা, থানার ভেতরে মব তৈরি, সাংবাদিকদের ওপর হামলা এবং ডাকসুর নির্বাচিত ছাত্র প্রতিনিধিদের ওপর নির্মম নির্যাতন—এগুলো কি আসলেই কোন তুচ্ছ ঘটনা? কোনো বিবেকবান মানুষ কি এসবকে সমর্থন করতে পারে? আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, এত সব গুরুতর অন্যায় করেও যাদের মধ্যে ন্যূনতম অনুশোচনাবোধ নেই, তাদের সারা বাংলাদেশের আপামর শিক্ষার্থী-জনতা যথাসময়ে উপযুক্ত জবাব দেবে।