Image description

ছোট পর্দার অভিনয়শিল্পী জাহের আলভীর স্ত্রী আফরা ইভনাথ খান ইকরা ‘আত্মহত্যা’ করেছেন। ইকরার মৃত্যুর পরপরই একজন অভিনয়শিল্পী সহকর্মীর সঙ্গে জাহের আলভীর প্রেমের সম্পর্কের কথা সামনে এসেছে। বিবাহবহির্ভূত এই সম্পর্কের জেরে ইকরা ‘আত্মহত্যা’র পথ বেছে নিয়েছেন—এমনটাই অভিযোগ ইকরার মা রেবেকা সুলতানা ও তাঁর পরিবারের অন্য সদস্যদের, এমনকি বন্ধুদেরও। এদিকে ইকরার বান্ধবী সামিয়া আলম জানালেন, ইকরা আত্মহত্যা করার মতো মেয়েই নয়। কী পরিমাণ কষ্ট আলভী দিয়েছে, যে কারণে ইকরা আত্মহত্যা করেছে, তা জানা দরকার।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ ধারণা করছেন, ইকরা আত্মহত্যা করেছেন। গতকাল শনিবার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএস এলাকার একটি বাসায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার সময় জাহের আলভী নেপালে শুটিংয়ে ছিলেন। আজ রোববার তাঁর দেশে ফেরার কথা রয়েছে। দেশে এসেই এ বিষয়ে কথা বলবেন—এমনটাই জানিয়েছেন আলভীর ঘনিষ্ঠজনেরা। আজ ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ইকরার ময়নাতদন্তের কথা রয়েছে।

১১ বছর ধরে বন্ধুত্ব ইকরা, সামিয়া ও খাদিজা লুপিনের। তাঁদের তিনজনের ফেসবুকে একটি গ্রুপও রয়েছে। সেই গ্রুপে নিয়মিতই তাঁদের নানা বিষয়ে কথাবার্তা হয়। গতকাল শনিবার সকাল ১০টার পরও এই গ্রুপে তাঁদের কথা হয়। কিন্তু দুপুর সময় খাদিজা লুপিনের কাছ থেকে শুনতে পান ইকরা ‘আত্মহত্যা’ করেছেন! এরপর জাহের আলভীর বাসার সহকারী অর্কর সঙ্গে যোগাযোগ করে সামিয়া নিশ্চিত হন।

সামিয়া আলম বলেন, ‘আমরা ২৪ ঘণ্টাই এই গ্রুপে কানেক্টেড থাকি। ১০টা ৪৬ মিনিটে ইকরা মেসেজ করল যে নেপাল যাবে। ওই মেয়ের চুল টেনে ছিঁড়বে। আমরা ভাবলাম যে এখন ওর মাথা গরম আছে। তাই বললাম, ঠিক আছে তুই যাইস। এদিকে গতকাল সন্ধ্যায় ইকরার ডিওএইচএসের বাসায় আমাদের ইফতারের দাওয়াত ছিল। ইকরাকে শান্ত করার জন্য আমরা লিখলাম, আচ্ছা তুই যাইস, ঠিকাছে, ইফতারের অনুষ্ঠান শেষ করে যাইস। ওর বেশ কিছুদিন ধরে মাথা ঠিক নাই। তাই আমরা ওকে এটা–ওটা বলে শান্ত রাখার চেষ্টা করছি। গতকাল ১০টা ৪৬ মিনিটের পর এরপর সে আর কিছুই লেখেনি। দুপুর ১টা ২৭ মিনিটে লুপিন নক করে বলল, তুই কই। এর মধ্যে তো যা হওয়ার তো হয়ে গেছে!’

ইকরা ও আলভীর সন্তান রিজিক ওই সময়টায় কোথায় ছিল, এই প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সামিয়া আলম বললেন, ‘আলভীর সহকারী অর্ক, তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম, রিজিক কোথায় ছিল। বলল, “বাসায়।” এরপর অর্ক বলল, “আলভী স্যার ফোন দিয়ে বলল, তোমার ম্যাডাম পাগলামি করছে, যাও, গিয়ে দেখো তো।” তবে দুর্ঘটনার সময় যতটুকু শুনেছি, ইকরার সঙ্গে আলভী ফোনে কথা বলছিল।’

ইকরার আত্মহত্যা করার মতো মেয়ে না, এই বিষয়টা উল্লেখ করে সামিয়া আলম বললেন, ‘যত দূর জানি, ইকরা এরই মধ্যে রুম শিফট করেছে। আলভীর বাংলাদেশে আসার পর তাঁরা একটা সিদ্ধান্তে যাওয়ার কথা। বলছিল, “আমি আলভীকে ডিভোর্স দিয়ে দিব।” বন্ধুদের মধ্যে আলাপ যা হয় আরকি। এরপর একটা ব্যবসা শুরু করবে। রিজিককে ওর বাবার কাছে রাখবে নাকি ওর কাছে—কীভাবে কী করবে, এসব নিয়েও আলাপ করেছে। এটা আমরা নিশ্চিত, ইকরা মোটেও সুইসাইড করার মতো মেয়ে না। ওই সময়টায় ফোনে আলভী কী এমন বলেছিল যে ইকরা তা সহ্যই করতে পারেনি! আমরা আসলে কেউই কিছুই জানি না। এটা অবশ্যই জানা দরকার।’