Image description

ঈদ উপলক্ষে জাগো নিউজের বিশেষ অনুষ্ঠান ‘জাগো তারকায়’ অতিথি হয়ে এসেছিলেন অভিনেত্রী শবনম ফারিয়া। ঈদ, অভিনয় ও শোবিজের বিভিন্ন বিষয়ে কথা হয়েছে তার সঙ্গে।

জাগো নিউজ: অভিনেত্রী থেকে একবার সাংবাদিক হওয়ার খবর প্রকাশিত হয়েছিল। এবার করর্পোরেট চাকরি করছেন। কেমন কাটছে আপনার দিনকাল?
শবনম ফারিয়া: একটু কষ্ট হচ্ছে। কারণ আমার তো টুকটাক অভিনয়ের কাজও থাকে। প্রায়ই দেখা যায় অফিস শেষ করে আমি আর বাসায় যেতে পারি না। ছুটে যাই শুটিংস্পটে। সেখান থেকে কাজ শেষ করে বাসায় যেতে যেতে অনেক রাত হয়ে যায়। আমি খুবই কম সময় পাই আমার নিজের জন্য। ফলে আমি প্রয়োজন মতো বিশ্রাম ও বন্ধু-বান্ধব, পরিবারকে ঠিক মতো সময়ও দিতে পারি না। কাজ সেরে এসে একটু ঘুমাই। ঘুম উঠে দেখা যায় আবার অফিসের সময় হয়ে গেছে। এ কারণে একটু ব্যস্ততা যাচ্ছে, কিন্তু এ ব্যস্ততাকে আমি উপভোগ করছি।

জাগো নিউজ: আপনি কোন কাজটি করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন?
শবনম ফারিয়া: আমি আসলে অভিনয়টা ভীষণ মিস করি। এটি করতেই বেশি পছন্দ করি। বলা যেতে পারে, আমার পুরো সত্তাটি অভিনয়কে ঘিরেই। এর বাইরে যে কাজটি করছি, সেটি আমার আপন মনে হয় না। বলতে দ্বিধা নেই যে, যদি ভালো স্ক্রিপ্ট পেতাম, যে ধরনের গল্পে আমি অভিনয় করতে চাই, সে রকম গল্প পেলে হয়তো আমাকে বিকল্প কোনো ক্যারিয়ারের কথা চিন্তা করতে হতো না। সেই সঙ্গে আমার পরিবারও বড় একটি ফ্যাক্টর। আমার মা চাইতেন আমি যেন একটা প্রোপার জব করি। এটি আমার মায়ের জীবনের অন্যতম একটি স্বপ্ন ছিল। ফলে মাকে খুশি করতে পেরেও আমি আনন্দিত। কিন্তু আমি সবচেয়ে বেশি খুশি যখন আমি শুটিং সেটে থাকতে পারি। এটা যেহেতু এখন চাকরির কারণে নিয়মিত করতে পারছি না তাই একটু খারাপ লাগছে। তবে টুকটাক কাজ করছি। যেমন এবার রোজায় ৩০ পর্বের একটি অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেছি। এভাবে হয়তো ক্যামেরার সামনে আসছি। কিন্তু অভিনয়ের যে ক্ষুধা, সেটা মেটাতে পারছি না। ফলে এখন অভিনয়টা মিস করছি।

জাগো নিউজ: আপনাকে বড়পর্দায় একবারই দেখা গেছে ‘দেবী’ সিনেমায়। এবং প্রথমবারেই বাজিমাত করেছেন। এতে আপনার চরিত্রটি কেউ ভুলতে পারছে না। এরপর আর সিনেমায় দেখা যায়নি, কারণ কি? সিনেমায় কি আপনার আগ্রহ কম?
শবনম ফারিয়া: আমি আসলে অনেক ওয়েট গেইন করেছি (ওজন বেড়ে গেছে)। তাছাড়া আমি সব ধরনের চরিত্রে কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি না। সেই কারণে নির্মাতারও একটু চিন্তাভাবনার মধ্যে থাকেন। বাংলাদেশে সিনেমা বা নাটকের ক্ষেত্রে যা হয়, এখানে মূল চরিত্র ধরে সব গল্প লেখা হয়। ছোট ছোট চরিত্রগুলোতে তেমন একটা গুরুত্ব দেওয়া হয় না। তাই ছোট কোনো চরিত্র পেলে আমি তা করতে চাই না। দেবীর পরে আমার কাছে আরও একটি সিনেমার কাজ এসেছিল। কিন্তু সেটি করার জন্য অফিস থেকে ছুটি পাইনি। তখন আমি নতুন একটি চাকরিতে যোগ দিয়েছিলাম। আর ওই কাজটি ছিল আমার এক পছন্দের নির্মাতার। কিন্তু কাজটি আমি করতে পারিনি। এরপর আর সেরকমের কোনো স্ক্রিপ্ট আমি পাইনি।

জাগো নিউজ: আপনি মাঝে মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ার কমেন্টে এমন এমন জবাব দেন, যা দেখে অবাক হতে হয়।
শবনম ফারিয়া: সারাদিন কাজ করার পর স্ট্রেজড থাকি। অফিস শেষে করে, শুটিং শেষ করে বাসায় আসি। এরপর যদি বাজে কিছু কমেন্ট দেখি, যেগুলো দেখে মনে হয় এটা কেন মানুষ করবে? আমি মনে করি অকারণে একটা মানুষকে খোঁচাখুচি করার কী দরকার? প্রত্যেকটি মানুষই আলাদা আলাদাভাবে তৈরি, ভিন্ন ভিন্ন পরিবারে বেড়ে উঠেছে। প্রত্যেকের চিন্তাও আলাদা। কারো মতের সঙ্গে একটু অমিল হলেই বাজে মন্তব্য করে। এটা কেন করবে? এই বাজে প্রাকটিস বন্ধ করতে হবে।

 

জাগো নিউজ: আপনি বাইরে গেলে সব সময় মাস্ক পরে থাকেন। অনেক সময় মাস্ক পরে দুষ্টুমিও করেন। লোকে বুঝে ফেললে কী হবে?
শবনম ফারিয়া: যেহেতু মানুষ আমাকে চেনে, ফলে আমার মধ্যে একটা দায়িত্বশীতা চলে এসেছে। আমি চাইলেও অনেক কিছু করতে পারি না অন্য সবার মতো। কিন্তু আমিও তো একটা মানুষ, দুষ্টু একটা মানুষ। আমি ফান করতে পছন্দ করি। মাস্ক পরা থাকলে কেউ আমাকে চিনতে পারে না, তাই আমি এই ফানগুলো করি। আমি শবনম ফারিয়া, এটা যদি কেউ বুঝে ফেলতো, তাহলে আর এসব করতে পারতাম না।

জাগো নিউজ: আপনি স্পষ্টভাষী হিসেবে পরিচিত। আপনি কি ছোটবেলা থেকেই এমন?
শবনম ফারিয়া: ছোটবেলা থেকেই আমাকে সবাই একটা বিষয়ে সব সময় অনুপ্রাণিত করতো। সেটা হচ্ছে, আমি সব সময় সত্য কথা বলতাম। শৈশবেও কাউকে খুশি করার জন্য আমি মিথ্যে কথা বলিনি। আমি এ রকমই। আমার বাসায় যারা, মানে আমার বাবা, মা তারাও একই রকম। তারাও যে কাউকে খুশি করার জন্য বলে, তা কিন্তু নয়। আমি তাদের চেয়ে আরও একটু বেশি। কিন্তু মিডিয়াতে কাজ করতে আসার শুরুর দিকে আমার মা, বাবা, বোনরা সবাই এর বিপক্ষে ছিলেন। তখন আমার কাছে যেটি চ্যালেঞ্জের ছিল কেউ আমার বিষয়ে আমার পরিবারে কোনো অভিযোগ দিতে পারবে না। ফলে আমি আরও স্পষ্টভাষী হয়েছি।

জাগো নিউজ: এখন নাটক-সিনেমার প্রচারমাধ্যম বদলে গেছে। অনেকে বলে কাজের মান এখন ধরে রাখা সম্ভব নয়। এ ব্যাপারে আপনার মন্তব্য শুনতে চাই?
শবনম ফারিয়া: কাজটা আসলে কোথায় যাচ্ছে, সেটা আমাদের দেখার বিষয় নয়। আমার কাজ, ইউটিউবে যাচ্ছে না টেলিভিশনে যাচ্ছে তা নিয়ে আমি মোটেই চিন্তিত নই। আমার কাছে গল্পটা গুরুত্বপূর্ণ। নির্মাতা নতুন কিংবা পুরাতন সেটাও গুরুত্বপূর্ণ নয়। একটা মানুষের সঙ্গে কথা বললে বোঝা যায় যে সে কতটুকু বোঝে। সে গল্পটা কতটুকু সুন্দর করে বলতে পারবে। আমার কাছে সেটাই গুরুত্বপূর্ণ। মাঝে মাঝে সহশিল্পীও গুরুত্বপূর্ণ। আমি সব ধরনের সহশিল্পীর সঙ্গে কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি না। কাউকে যদি মনে হয় আমি ওর সঙ্গে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবো না, তার সঙ্গে আমার ১২ ঘণ্টা ১৩ ঘণ্টা কাজ করা সম্ভব নয়। এই কারণে আমি সব অভিনেতাদের সঙ্গে অভিনয়ও করি না।

জাগো নিউজ: এ কথা শুনলে অন্যরা মন খারাপ করবে না?
শবনম ফারিয়া: অভিনয়টা আমার কাছে এতটাই স্পর্শকাতর জায়গা, এখানে আমি কোনো ছাড় দিতে চাই না। আমি আমার সর্বোচ্চটা দিতে চাই। সেখানে যদি আমার মনে হয় আমি যে সহশিল্পীর সঙ্গে কাজ করবো তার সঙ্গে স্বাচ্ছন্দ্য নই কিংবা আমি যে ধরনের কাজ সহশিল্পীর কাছ থেকে চাই, তারা সেরকম ডেলিভারি দিতে পারবেন না, আমি তার সঙ্গে কাজ করবো না।

জাগো নিউজ: কার সঙ্গে কাজ করে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন?
শবনম ফারিয়া: আমি যার সঙ্গে কাজ করে বেশি স্বাচ্ছন্দ তাদের মধ্যে রয়েছেন মোশাররফ করিম ও চঞ্চল চৌধুরী। তাদের সঙ্গে যখন আমি স্ক্রিন শেয়ার করি, তখন মনে হয় আমি যতটুকু ভালো অভিনয় পারি তার চেয়েও ভালো অভিনয় করি। তারা যে ভালো অভিনয়টা করেন, তাদের কাছাকাছি যেতে আমাকে আরও বেশি পরিশ্রম করতে হয়। যাদের সঙ্গে কাজ করি, তাদের কাছ থেকে কিছু শিখতে পারবো বা আমার কাজটা তাদের জন্য খারাপ হবে না।

জাগো নিউজ: কারো সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে কী মনে হয়েছে বিপরীত চরিত্রে অভিনয় করা শিল্পীর অভিনয়টা এত খারাপ যে আপনার কাজটা খারাপ হয়ে যাচ্ছে?
শবনম ফারিয়া: সেরকম হয়নি। তবে নতুন যদি কেউ হয় এবং তাদের অভিনয়ও পারছে না বা নার্ভাস, সেক্ষেত্রে আমি তাদের সব সময় সাহায্য করি। আমি মনে করি আমি যেহেতু অনেকটা সিনিয়র হয়ে গেছি, এই ইন্ডাস্ট্রিতে আমার বেশ কয়েক বছর হয়ে গেছে, আমি নতুনদের সাহায্য করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করি। কিন্তু অনেক সময় এমনটাও হয়, অনেক সিনিয়রদেরও কাজ ভালো হয় না, তখন একটু প্যারা খেয়ে যাই।

জাগো নিউজ: ফারিয়া এবং সাংবাদিকদের মধ্যে কিছু না কিছু একটা থাকে। হয় খুব বন্ধুত্ব, নয়তো সাংবাদিকরা ফারিয়াকে খোঁচাতে খুব পছন্দ করে। সাংবাদিক ও সোশ্যাল মিডিয়ার কোন প্রশ্নগুলোতে সবচেয়ে বেশি বিরক্ত হন?
শবনম ফারিয়া: এখন আমি কোনো প্রশ্নে বিরক্ত বা বিব্রত বোধ করি না। তবে কিছু কমন প্রশ্ন আছে যাতে মাঝে মধ্যে খারাপ লাগে, যেমন, ‘আপনি এখন কাজ করেন না কেন?’। আমি এখন কাজ করি না, সেটা নিজের ইচ্ছায় কাজ থেকে দূরে আছি এমনটা নয়। আমি কাজ করতে চাই। কিন্তু যে ধরনের কাজের প্রস্তাব আসে তা আসলে আমি করতে চাই না। আর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে অনেক প্রশ্ন আসে যেগুলো নিয়ে আমি মোটেই কথা বলতে চাই না।

 

জাগো নিউজ: তাহলে মজাচ্ছলেই ব্যক্তিগত প্রশ্নটা করে ফেলি। বিয়ে করছেন না কেন?
শবনম ফারিয়া: এর একটি ভালো উত্তর আমার কাছে আছে (হাসি)। এখনো অনেক অভিনেতা-অভিনেত্রী আছেন, যারা বিয়ে করেননি। তাদের এই প্রশ্নটি করুন। তাদের প্রতি বিয়ের প্রশ্নের ব্যাপারে ফোকাস দেওয়া দরকার। আমার তো একবার বিয়ে হয়ে গিয়েছে। অনেক নিউজ হয়েছে। অনেক আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে। একজনকে নিয়ে এত আলোচনার দরকার নেই। আরও অনেকেই আছেন, যারা একবারও বিয়ে করেননি। তাদের নিয়ে নিউজ করা উচিত। আমি মনে করি বিয়েটা নিজের ওপর নির্ভর করে না। বিয়ের ব্যাপারটা ভাগ্যে লেখা থাকতে হবে। আল্লাহ কখন কারটা লিখে রেখেছেন, তা কেউ জানেন না। এটা হচ্ছে প্রথম কথা। আর ফ্যামিলির ওপরও কিছুটা ডিপেন্ড করে। ফ্যামিলি দেখতে হয়, ফ্যামিলির সঙ্গে মিলতে হয়। বিয়ে শুধু দুজন মানুষের একটা প্রসেস নয়। বিয়ে মানে হচ্ছে দুটো ফ্যামিলি এক সাথে হওয়া। সুতরাং ফ্যামিলি যদি ম্যাচ না করে তখন তো আর কিছু করার থাকে না।

জাগো নিউজ: আমাদের সময় দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ।
শবনম ফারিয়া: আপনাকে ধন্যবাদ।